জিহাদুল ইসলাম (জিহাদ) স্টাফ রিপোর্টার
সত্যিই যে মানুষটির কথা না বললেই নয়—তিনি হলেন জনাব হানিফ সরদার। ৬৫ বছরের জীবনে ৩০টি বছর কাটিয়েছেন গলার সামনে বিশাল বড় একটি থাইরয়েড টিউমার নিয়ে। জীবনের শেষ বয়সে এসে শুরু হলো তাঁর কঠিন যন্ত্রণা। বিভিন্ন চিকিৎসা নিয়েও কোনো ফলাফল পাননি তিনি। অবশেষে যখন ম্যালিয়াস ইএনটি স্পেশালাইজড হাসপাতালে আমার কাছে এলেন—
আমি দেখলাম, তাঁর গলার সামনে থাইরয়েড গ্ল্যান্ডে বিশাল বড় একটি টিউমার বাসা বেঁধেছে। জানলাম তাঁর কষ্টের কথা—নির্ঘুম কাটছে রাত; ভালো করে খেতেও পারছেন না। বড় আশা নিয়ে তিনি আমার কাছে এসেছেন। আমি তাঁর সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করে কয়েক দফা মেডিকেল বোর্ড করলাম। অবশেষে সিদ্ধান্ত নিলাম তাঁর অপারেশন করার।
অপারেশনের সিদ্ধান্ত দিয়ে ভাবতে থাকলাম—কীভাবে তাঁর এত বড় টিউমার অপসারণ করবো? এই মানুষটিকে ফিরিয়ে দিলে হয়তো তার সুস্থ হওয়ার স্বপ্নটি ভেঙ্গে যাবে। নানান রকম জল্পনা-কল্পনার সমাপ্তি ঘটিয়ে, সৃষ্টিকর্তার নামে আমি আমার টিম নিয়ে অপারেশন শুরু করলাম। বিশাল বড় টিউমার—জীবন-মরণের ঝুঁকি। সবকিছুকে অতিক্রম করার জন্য আমি শুধু সৃষ্টিকর্তাকে ডাকতে শুরু করলাম। সৃষ্টিকর্তার অপর মহিমা এবং সকলের দোয়ায় বাবার বয়সী এই মানুষটির অপারেশন সফলভাবে সম্পন্ন করলাম।
ম্যালিয়াস হাসপাতালে ৪ বছর পূর্তি উপলক্ষে এই মানুষটিকে দেওয়া হবে “Get Back New Life” সম্মাননা। এই সম্মানার জন্য আমি তাকে আমৃত্যু ফ্রি কনসালটেন্সি প্রদান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি এই মানুষটির জন্য অনেক দোয়া করি, কারণ তাঁর অপারেশনের সফলতা দেখে এই ধরনের অনেক রোগী যারা- আশা ছেড়েই দিয়েছিল আর কোনদিন ভাল হবে না। তারাও ঘর থেকে বেরিয়ে চিকিৎসকের কাছে যাচ্ছে চিকিৎসা করানোর জন্য। পরবর্তীতে এমন অনেক রোগীর সফল অপারেশন করে সৃষ্টিকর্তার কৃপায় তাদের সুস্থ করতে পেরেছি এবং তাদের অনুভূতির কথা ছিল “একটি নতুন জীবন ফিরে পেয়েছি”। ভালো থাকুক পৃথিবীর সকল প্রাণী—এই প্রার্থনাই করি।
আসুন আমরা সচেতন হই, কারণ সচেতনতাই পারে আমাদের রোগমুক্ত করতে।