নিজস্ব প্রতিবেদক
চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের অর্জিত বিজয় ও শহীদদের আত্মত্যাগ যাতে কোনোভাবেই বৃথা না যায়, সেজন্য দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে জাতীয় ঐক্য ধরে রাখার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, নিজেদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু তা যেন গণঅভ্যুত্থানের অর্জনকে ম্লান না করে দেয়।
মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্যাহ ও তার সহধর্মিণী সালমা আলো প্রণীত গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বিএনপি মহাসচিব জুলাই গণঅভ্যুত্থানের তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, এই অভ্যুত্থানের বিজয়কে সুসংহত করা এখন সকলের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। শহীদদের রক্ত ও আত্মাহুতির মর্যাদা রক্ষায় সবাইকে সজাগ থাকার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক বা আদর্শিক মতভিন্নতা থাকা স্বাভাবিক, কিন্তু জাতীয় স্বার্থে এবং শহীদদের ত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে সেই বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
অনুষ্ঠানে ড. মাহবুব উল্যাহর অবদানের কথা স্মরণ করে মির্জা ফখরুল বলেন, একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ, বৈষম্যহীন অর্থনীতি এবং আধিপত্যবাদবিরোধী রাষ্ট্র ও সমাজ গঠনে ড. মাহবুব উল্যাহর লেখনী ও চিন্তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
নির্বাচন নিয়ে কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র দেশের জনগণ সফল হতে দেবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীর ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপি আয়োজিত ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
সম্প্রতি প্রকাশিত একটি জনমত জরিপের প্রসঙ্গ টেনে নজরুল ইসলাম খান বলেন, আগামী নির্বাচনে কোন দল বেশি আসন পাবে—এমন প্রশ্নের জবাবে শতকরা ৬৬ ভাগ উত্তরদাতা বিএনপির পক্ষে মত দিয়েছেন। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে মত দিয়েছেন ২৬ ভাগ মানুষ, যেখানে দুই দলের ব্যবধান প্রায় ৪৪ শতাংশ। এছাড়া অন্যান্য উল্লেখযোগ্য দলগুলোর জনসমর্থন ১ শতাংশেরও নিচে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, বিএনপির এমন বিপুল জনসমর্থন দেখে হতাশ হয়ে কেউ কেউ ষড়যন্ত্রের পথ বেছে নিতে পারে। তবে জনগণ যেহেতু তাদের মনস্থির করে ফেলেছে, তাই তারা কোনো ষড়যন্ত্রই বাস্তবে রূপ নিতে দেবে না।
ফ্যাসিবাদের পতন এবং নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠাই ছিল এক দফার মূল লক্ষ্য—এমন মন্তব্য করে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, এক দফার প্রথম অংশ অর্থাৎ ফ্যাসিবাদের পতন ঘটানো সম্ভব হয়েছে। এখন বাকি অংশটুকু, অর্থাৎ সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করাই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান দায়িত্ব। তিনি বলেন, দেশের জনগণ মাত্র কিছুদিন আগেই সিন্দাবাদের দৈত্যের মতো ঘাড়ে চেপে বসা একটি খুনি ও নিপীড়নকারী ফ্যাসিবাদী সরকারকে উৎখাত করেছে।
নজরুল ইসলাম খান দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, বিজয়ী এই জনগণ কোনো ষড়যন্ত্রকেই প্রশ্রয় দেবে না। অতীতেও কোনো ষড়যন্ত্র এই জনগণকে পরাজিত করতে পারেনি এবং ভবিষ্যতেও পারবে না। উল্লেখ্য, বিএনপি আয়োজিত কয়েক দিনব্যাপী ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনার কর্মসূচি’র অংশ হিসেবে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।