1. news@sangbadeisomoy.com : সংবাদ এই সময় : সংবাদ এই সময়
  2. info@www.sangbadeisomoy.com : সংবাদ এইসময় :
কৃষি পর্যটনের সম্ভাবনা - সংবাদ এইসময়
শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ০২:৩৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
মিল্কিওয়েতে সাদা নক্ষত্রের অদ্ভুত আচরণে বিস্মিত বিজ্ঞানীরা মদ বিক্রেতা ও পানকারীদের প্রতি ইসলামের কঠোর বার্তা শ্রীবরদীর ভেলুয়া বাজারে জামায়াত মনোনীত প্রার্থীর গণভোট বিষয়ে জনসচেতনতা সভা অনুষ্ঠিত সাভার স্বর্ণকলি আদর্শ বিদ্যালয়ে পিঠা উৎসব অনুষ্ঠিত নির্বাচন ও গণভোট নিয়ে প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে কোনো লাভ হবে না : রিজওয়ানা বাগমারায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা দোয়া মাহফিল রোয়াংছড়িতে এনসিপি’র নবগঠিত কমিটির পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত। আমাদের বেতনের টাকা আসে স্পন্সর ও আইসিসি থেকে: মিরাজ ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল ই/সরায়েল ফটিকছড়িতে মনোনয়ন ফিরে পেলেন রবিউল হাসান তানজিম

কৃষি পর্যটনের সম্ভাবনা

  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৬০ বার পড়া হয়েছে

মো. হাসান ইমাম

ফাইল ছবি
বাংলাদেশ একটি কৃষিপ্রধান দেশ। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে আমাদের কৃষি ছিল পারিবারিক চাহিদানির্ভর। পরিবারের চাহিদা পূরণের জন্য কৃষিকাজ করা হতো। সময় গড়াতে থাকল। এখন বাংলাদেশের কৃষি সেই পারিবারিক স্বনির্ভরতার গণ্ডি পার করে শিল্পভিত্তিক কৃষিতে রূপান্তরিত হয়েছে। কৃষি এখন বাণিজ্যিক রূপ ধারণ করেছে, যার ফলে আমরা এখন ফসল উৎপাদন করে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বাইরের দেশে রপ্তানি করছি। অপরদিকে পর্যটনশিল্প বাংলাদেশের একটি বিকাশমান ও সম্ভাবনাময় শিল্প। এক্ষেত্রে পর্যটনশিল্পের সঙ্গে যদি কৃষির সেতুবন্ধ সৃষ্টি করা যায়, তাহলে পর্যটনশিল্প নগরভিত্তিক কাঠামোর পাশাপাশি কৃষিভিত্তিক এলাকাগুলোয় সম্প্রসারিত হবে। এতে করে কৃষকরা তাদের জমিগুলোকে পর্যটনের একটি গন্তব্যে পরিণত করতে পারবে এবং আমাদের অর্থনীতি সমৃদ্ধ হবে।

কৃষিপ্রধান বাংলাদেশের যেকোনো মৌসুমেই সবুজ ও সজীবতা প্রকৃতির মাঝে বিদ্যমান। কৃষিভিত্তিক পর্যটন হলো অবকাশ যাপনের এমন এক মাধ্যম, যেখানে কৃষি খামারগুলোয় আতিথেয়তার পাশাপাশি কৃষকদের উৎপাদিত পণ্য প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়ে থাকে। কৃষি পর্যটন কৃষকদের জন্য আয়ের নতুন ও উদ্ভাবনী পথ সৃষ্টি করতে পারে। বাংলাদেশের প্রায় দুই কোটি কৃষক খাদ্যশস্য সরবরাহের জন্য খাদ্যশস্য উৎপাদনকারী গ্রামগুলোয় বসবাস করছেন। এরপরও আমাদের জিডিপিতে কৃষির অবস্থা আশানুরূপ নয়। কৃষিতে নিয়োজিত জনশক্তি ৪৫ দশমিক ৪ শতাংশ (শ্রমশক্তি জরিপ ২০২২, বিবিএস) হলেও জিডিপিতে কৃষি খাতের অবদান প্রায় ১১ দশমিক ১৯ শতাংশ। এক্ষেত্রে আমাদের সুযোগ রয়েছে বিদ্যমান কৃষিব্যবস্থায় অতিরিক্ত উপার্জনমূলক কার্যক্রম যুক্ত করার। এতে আমাদের জিডিপিতে কৃষি খাতের অবদান আরো বাড়বে।

বাংলাদেশে কৃষিভিত্তিক পর্যটন একটি নতুন ধারণা হলেও পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এ ধারণাকে মাথায় রেখে কার্যক্রম শুরু হয়েছে আরো আগে থেকে। বিভিন্ন দেশে পর্যটনের সম্প্রসারণের পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ এবং এর বহুমুখী ব্যবহার চোখে পড়ে। এর মধ্যে নেপাল, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, ব্রাজিল, ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া, চীন, রাশিয়া, ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া ও মধ্য এশিয়ার দেশগুলো উল্লেখযোগ্য। এ দেশগুলো কৃষি পর্যটনের ধারাকে গ্রহণ করে এর বিকাশে নানা ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। থাইল্যান্ডে হোমস্টে এবং জৈব খামারের প্রচারের মাধ্যমে কৃষি পর্যটনের বিকাশ ঘটছে। তারা পর্যটকদের স্থানীয় পরিবারের সঙ্গে থাকার, গ্রামীণ জীবনযাত্রা ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী রান্নার সঙ্গে পরিচয় করে দেওয়ার সুযোগ করে থাকে। এ রকম আরেকটি উদাহরণ হলো ফ্রান্সের প্যারিস থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার অদূরে অবস্থিত লাকুলুয়ে দো সারজি এলাকায় গড়ে ওঠা একটি কৃষি খামার। এখানে বিভিন্ন ধরনের ফল, ফসল ও শাকসবজি উৎপাদন করা হয়। পর্যটকরা সরাসরি ভ্রমণ করে পছন্দের পণ্য সংগ্রহ করে নিতে পারেন।

বাংলাদেশে কৃষি পর্যটনের বর্তমান পরিস্থিতি ও সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কৃষিভিত্তিক পর্যটন এখনো একটি নতুন ধারণা। কৃষিপ্রধান এ দেশে কৃষি পর্যটনের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। কৃষি পর্যটনের জন্য রয়েছে অসংখ্য দর্শনীয় স্থান। আঞ্চলিক কৃষিবৈচিত্র্যের ওপর নির্ভর করে নিম্নলিখিত কৃষি পরিষেবাগুলোর উন্নয়নের অপার সম্ভাবনা রয়েছে—

চা-বাগানকেন্দ্রিক ভ্রমণ : বাংলাদেশে কৃষি পর্যটনের স্থানের কথা বললে প্রথমেই আসবে চা-বাগানকেন্দ্রিক স্থানগুলো। পাহাড়ি এলাকার চা-বাগান থেকে শুরু করে সমতলের চা-বাগানগুলো ভ্রমণের মাধ্যমে পর্যটকরা এখানে চা-বাগানকেন্দ্রিক সব কাজকর্ম এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে পরিচিত হতে পারবে। সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও চট্টগ্রামের পাহাড়ের ঢালের চা-বাগান এবং নীলফামারী ও পঞ্চগড়ের সমতল এলাকার চা-বাগানের চমৎকার সৌন্দর্য শুধু দেশীয় পর্যটক নয়, বিদেশি পর্যটকদেরও আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হতে পারে।

কৃষিবাজার ভ্রমণ : বাংলাদেশের ভাসমান পেয়ারা বাজার জলের দেশ বরিশালের দক্ষিণাঞ্চলের জেলা ঝালকাঠি ও পিরোজপুরের বিভিন্ন জায়গায় বসে। এর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় হলো ভিমরুলি, আটঘর ও কুড়িয়ানা বাজার। শত বছরের পুরোনো ঝালকাঠি জেলার ভিমরুলির ভাসমান পেয়ারা বাজার একটি ব্যতিক্রমী কৃষিবাজার। বর্ষার ভরা মৌসুমে শত শত পেয়ারাভর্তি নৌকা খালের ওপর একত্র হয়ে বেচাকেনা করে, যা পর্যটকদের জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতা। অনেকে ভাসমান এই বাজারগুলোকে থাইল্যান্ডের ফ্লোটিং মার্কেটের সঙ্গে তুলনা করে থাকেন।

ফলবাগান ভ্রমণ : ফলবাগানের সৌন্দর্য উপভোগ করতে এবং ফলের স্বাদ নিতে বাগান থেকে নিজে ফল সংগ্রহ ও ক্রয় করতে ফলের বাগানে ভ্রমণ করা যায়। ফলবাগানকেন্দ্রিক এ কার্যক্রম বাংলাদেশের পর্যটকদের কাছে দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে। রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমবাগান, নরসিংদীর লটকন বাগান, দিনাজপুরের লিচুবাগান ও পিরোজপুরের স্বরূপকাঠির পেয়ারা বাগান এ ধরনের ভ্রমণের জন্য পর্যটকদের আকর্ষণ করে।

ফুলের বাগানকেন্দ্রিক ভ্রমণ : বাংলাদেশে ফুলের বাগানকেন্দ্রিক পর্যটনও বিকশিত হচ্ছে। ফুলের জন্য বিখ্যাত যশোরের গদখালীর ফুলচাষের এলাকাগুলো পর্যটকদের আকৃষ্ট করে। এছাড়া সাভারের বিরুলিয়ায় আছে ‘গোলাপ গ্রাম’, যেখানে একসঙ্গে বিভিন্ন রকমের গোলাপের সৌন্দর্য দর্শনার্থীরা উপভোগ করতে পারে। শীত মৌসুমে সূর্যমুখীর জমি দেখতেও ভিড় লেগে যায়। ফরিদপুর সদরের ধর্মকান্দিতে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের সূর্যমুখী ফুলের খামার দেখতেও অনেক দর্শনার্থীর আগমন ঘটে। নোয়াখালীর সুবর্ণচরেও সূর্যমুখীর চাষকে কেন্দ্র করে এ ধরনের ফুলকেন্দ্রিক পর্যটন বিকাশের সুযোগ রয়েছে।

ভাসমান কৃষিব্যবস্থা : বাংলাদেশের ভাসমান চাষের ঐতিহ্য শত বছরের পুরোনো। চাষাবাদ বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত। দক্ষিণাঞ্চলের বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি ও গোপালগঞ্জের অববাহিকায় প্লাবনভূমিতে ভাসমান পদ্ধতিতে চাষাবাদ হয়ে আসছে বছরের পর বছর ধরে। আমাদের আদি কৃষি ঐতিহ্যের বিবেচনায় ২০১৫ সালে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা দক্ষিণের ভাসমান চাষব্যবস্থাকে বিশ্বের ঐতিহ্যবাহী চাষ পদ্ধতি হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এখানে পর্যটকদের নৌকায় ভ্রমণের পাশাপাশি অরগানিক শাকসবজি ও ফলের স্বাদ নিতে পারার সুযোগ রয়েছে। এগুলো ছাড়াও কৃষি বনায়ন পরিদর্শন, শীত মৌসুমে সরষেক্ষেত, মৌচাষ, মধু আহরণ, হাওর এলাকায় মাছ ধরা ও মৎস্য খামার পরিদর্শনও সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র।

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট