1. news@sangbadeisomoy.com : সংবাদ এই সময় : সংবাদ এই সময়
  2. info@www.sangbadeisomoy.com : সংবাদ এইসময় :
পাহাড়-সমুদ্রের মাঝে ড্রিমল্যান্ড ডুব্রভনিক - সংবাদ এইসময়
মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬, ১১:৫৮ অপরাহ্ন

পাহাড়-সমুদ্রের মাঝে ড্রিমল্যান্ড ডুব্রভনিক

  • প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ১২৮ বার পড়া হয়েছে

অ্যাড্রিয়াটিকের রানি। ইউরোপের অন্যতম আকর্ষণীয় টুরিস্ট স্পট। পাহাড়, সমুদ্রে সাজানো সুন্দর প্রাচীন শহর ডুব্রভনিক। ঘুরে এসে লিখছেন রুমা মুখোপাধ্যায়

রিনিকা রায় চৌধুরী
রুমা মুখোপাধ্যায়

সুইডেন থেকে ক্রোয়েশিয়ার পথ ধরেছিলাম আমরা ডুব্রভনিকে নামার আগে বায়ুমণ্ডল ভেদ করে ফ্লাইট যত নীচে নামছে, পরিস্ফুট হচ্ছিল অ্যাড্রিয়াটিক সাগরের ঘন নীল জল। মেঘের আস্তরণ ভেদ করে যেন উকি দিচ্ছিল সাগরপাড়ে আছড়ে পড়া ফিরোজা রঙা ঢেউ, তার মাথায় সাদা ফেনার ঝালর। খাড়াই পর্বতের গায়ে যেন মৌচাকের মতো জমাট বাঁধা লাল ছাদের বাড়িগুলো ফুটে উঠছিল ক্রমশ। পাহাড় আর সমুদ্র দিয়ে সাজানো ছবির মতো সুন্দর এক প্রাচীন শহর, যার নাম ডুব্রভনিক। মাথার উপরে নীল আকাশ। অনেক নীচে বৈচিত্রময় সমুদ্র সৈকত।

উঁচু-নীচু পাহাড়ি পথের দু’ধারে দোকানপাট, ক্যাফে আর ফলের ভারে নুয়ে পড়া অ্যাপ্রিকটের গাছ। আইরিশ, উইস্টেরিয়া, বোগেনভিলিয়া ফুলের উজ্জ্বল বেগুনি রঙে শহরটা একেবার ঝলমল করছে। দৃশ্যতই মনোমুগ্ধকর। তবে সব থেকে সুন্দর আর ড্রামাটিক ডুত্রভনিকের ঐতিহাসিক ‘ওল্ড টাউন’। চোদ্দশো শতাব্দীতে ভূমধ্যসাগরের অন্যতম প্রতিরক্ষা এবং বাণিজ্য কেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠে দুই কিলোমিটার প্রাচীর বিশিষ্ট এই বিশাল দুর্গটি। ইউরোপের সব থেকে লম্বা প্রাচীরও এটি। প্রাকৃতিক ও রাজনৈতিক কারণে বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ডুব্রভনিক। তবুও ভালোবাসার উচ্ছ্বাসে, ঐতিহ্য ও সৌন্দর্যে আজও সে ‘কুইন অফ অ্যাড্রিয়াটিক’। মধ্যযুগীয় রেনেসাঁর সময়ের শিল্পশৈলীর মিশ্রণে তৈরি দুর্গের বিশাল পাথরের দেওয়াল, অজস্র সরু গলি ও দীর্ঘ সিঁড়ির অভিনবত্বে ডুব্রভনিক ১৯৭৯-তে ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। এর উঠোন ও রাস্তাগুলো চুনাপাথরের ব্লক দিয়ে গ্রাফিক নকশায় মসৃণ ভাবে বাঁধানো। যার ভেনিসিয়ান নাম ‘স্ট্রাডুন’ বা ‘প্লাকা’।

সেখান থেকে পায়ে চলা পথে প্রথমেই পড়বে অনোফ্রিও ফাউন্টেন। আসবে আইকনিক ক্লক টাওয়ার, সেন্ট ব্লেইসের গির্জা, রেক্টর প্যালেস, ক্যাথিড্রাল, স্পনজা প্রাসাদ। সত্যিই বিস্ময়কর সব আর্কিটেকচার অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকার মতো। পথের দু’ধারে অজস্র স্যুভেনিয়ার, হ্যান্ডিক্রাস্টের দোকান। ডাক বুটিক, আর্ট গ্যালারি, অ্যাম্বার থেকে মুক্তোর শো-রুম। নজর কাড়ে ক্যান্ডি মাইন আর গ্লাস ওয়ার্ক। এ ছাড়া রয়েছে বিশ্বমানের রেস্তোরাঁ, বার থেকে আইসক্রিম পার্লার। সর্বত্রই পর্যটকের ভিড় উপচে পড়ছে, বিশেষত সমুদ্র সৈকতগুলোয়। ডুব্রভনিক যেন প্রতিমুহূর্তে নতুন কিছু আবিষ্কার করতে হাতছানি দেয়। আর সূর্যাস্তের লালিমায় অ্যাড্রিয়াটিকের জলে দেখা মেলে রঙের বিস্ফোরণ। রাতে স্রেড পর্বতের পাদদেশে প্রাচীন দুর্গ সোনালি আলোয় আরও মোহময়ী হয়ে ওঠে। সোনার কেল্লার কথা মনে পড়ে যেতে পারে। রেক্টর প্যালেস থেকে ভেসে আসা অর্কেস্ট্রা আর ক্রোয়েশিয়ান গান ‘ও মারিজানা…’র নৈশ সুর ও আলো আঁধারির মাঝে মনকে ভাসিয়ে নিয়ে যায় এক মায়াবী জগতে, যখন ঘরে ফেরার কথা আর মনেই থাকে না।

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০  

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট