হাবিবুর রহমান (সুজন)
নীরব মানবসেবায় নিবেদিত এক মাটির মানুষ
নিজের জন্য নয়, অন্যের জন্য—এই নীতিতেই যাঁর জীবনযাপন, তিনি মো. বাবুল। এলাকার গরিব ও মেহনতী মানুষের কাছে তিনি কেবল একজন পরিচিত মুখ নন, বরং একজন নির্ভরতার নাম, একজন আশ্রয়ের ঠিকানা। নিরবে-নিভৃতে মানবসেবায় যুক্ত থেকে যিনি হয়ে উঠেছেন সাধারণ মানুষের প্রিয় নেতা, সেই মো. বাবুল আজ সমাজে এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
মো. বাবুলের জীবনের মূল দর্শনই হলো—মানুষের পাশে দাঁড়ানো। এলাকার অসহায় পরিবার, দিনমজুর, বিধবা নারী কিংবা এতিম শিশু—কারও কষ্টই তাঁর দৃষ্টি এড়িয়ে যায় না। প্রয়োজনের সময় কাউকে না জানিয়ে, কোনো প্রচার ছাড়াই তিনি সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন। অনেকেই জানেন না, রাতের আঁধারে কিংবা নিভৃতে কত পরিবার তাঁর দানের মাধ্যমে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে।
বিশেষ করে ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে তাঁর অবদান প্রশংসনীয়। দীর্ঘদিন ধরে তিনি এলাকার মসজিদের খেদমতে নিয়োজিত ছিলেন। মসজিদের উন্নয়ন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, নামাজিদের সুবিধা নিশ্চিতকরণসহ নানা কাজে নিজেকে সম্পূর্ণভাবে নিয়োজিত রেখেছেন। ধর্মীয় অনুশাসনের পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী এই মানুষটি মনে করেন—মানুষের সেবা করাই আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের অন্যতম পথ।
মো. বাবুলের আরেকটি বড় পরিচয়—তিনি একজন স্বেচ্ছাসেবী। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অসুস্থতা কিংবা হঠাৎ বিপদে এলাকার মানুষ তাঁকে পাশে পায় সবার আগে। কখনো ওষুধ কিনে দেওয়া, কখনো খাবার পৌঁছে দেওয়া, আবার কখনো কেবল পাশে বসে সাহস জোগানো—এই ছোট ছোট কাজের মাধ্যমেই তিনি মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন।
এলাকার মানুষের ভাষায়, মো. বাবুল একজন “মাটির মানুষ”। অহংকারহীন, সহজ-সরল জীবনযাপনই তাঁর পরিচয়। বড় কোনো পদ-পদবি কিংবা জাঁকজমকপূর্ণ অবস্থান তাঁর লক্ষ্য নয়; বরং সাধারণ মানুষের হাসিই তাঁর সবচেয়ে বড় অর্জন। তিনি বিশ্বাস করেন, নেতৃত্ব আসে মানুষের ভালোবাসা থেকে, ক্ষমতা বা প্রচার থেকে নয়।
আজকের সমাজে যখন স্বার্থপরতা ও আত্মপ্রচারের প্রবণতা বাড়ছে, তখন মো. বাবুলের মতো নিঃস্বার্থ মানবসেবকরা সমাজের জন্য আশার আলো। তাঁর জীবন ও কর্ম প্রমাণ করে—চুপচাপ থেকেও বড় হওয়া যায়, নিঃশব্দে থেকেও মানুষের হৃদয়ে রাজত্ব করা যায়।
মো. বাবুল শুধু একজন ব্যক্তি নন; তিনি মানবিকতার প্রতীক, গরিব ও মেহনতী মানুষের আস্থার নাম। এমন মানুষেরাই সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যান, নীরবে, নিরলসভাবে।