সংবাদ এই সময় অনলাইন।
দেশজুড়ে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির যে অবনতি দেখা যাচ্ছে, তা শুধু উদ্বেগজনকই নয়, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্যও মারাত্মক হুমকি। খুন, অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার, ককটেল হামলা, অগ্নিসংযোগ ও মব সন্ত্রাসের ধারাবাহিকতায় সাধারণ মানুষের পাশাপাশি রাজনৈতিক কর্মী, প্রার্থী ও রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা বড় ধরনের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরপরই ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির ওপর হত্যাচেষ্টা পরিস্থিতির ভয়াবহতাকে আরো স্পষ্ট করে দিয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে পুলিশ প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ, গোয়েন্দা নজরদারি ও নিরাপত্তা জোরদার করা অত্যন্ত জরুরি।
সম্ভাব্য হামলার তালিকায় থাকা গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের এবং জুলাই আন্দোলনে সম্মুখ সারিতে থাকা কর্মীদের জন্য বাড়তি নিরাপত্তা (আনসার ও পুলিশ সদস্য) দেওয়ার চিন্তা-ভাবনা করা হচ্ছে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেইজ-২’ শুরুর ঘোষণা এবং ‘জুলাই যোদ্ধাদের’ বিশেষ নিরাপত্তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত ইতিবাচক। নির্বাচন কমিশনও সিইসি এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার জন্য অতিরিক্ত পুলিশি নিরাপত্তা চেয়ে ডিএমপিকে চিঠি দিয়েছে।
অপরাধ বিশ্লেষক ও বিশেষজ্ঞরা প্রশ্ন তুলেছেন, হামলার আশঙ্কা সম্পর্কে অবগত থাকা সত্ত্বেও কেন আগে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি? তাঁদের মতে, দাগি আসামিদের জামিন পাওয়া এবং অস্ত্র উদ্ধারে সরকারের ধারাবাহিক ব্যর্থতা অপরাধীদের বেপরোয়া করে তুলেছে।
এই দুর্বলতা দূর না হলে কেবল বিবৃতি বা লোক-দেখানো অভিযানে পরিস্থিতির উন্নতি হবে না।
নির্বাচন সামনে রেখে চট্টগ্রাম ও পাবনায় গুলির ঘটনা এবং বিভিন্ন স্থানে ককটেল হামলা প্রমাণ করে যে নির্বাচন বানচাল করার অপচেষ্টা চলছে। এই পরিস্থিতিতে সরকার ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে অবশ্যই আরো কঠিন এবং কঠোর হতে হবে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপকের অভিমত অনুযায়ী, সরকার কঠোর পদক্ষেপ না নিলে সামনে আরো ঘটনা ঘটবে এবং ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে আসতে ভয় পাবেন।
ট্যাগিং কালচার এবং দায় চাপানোর প্রবণতা থেকে বেরিয়ে এসে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে হবে। এতে বিচারপ্রক্রিয়া দুর্বল হয়, আস্থার সংকট তৈরি হয়। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। গোয়েন্দা তৎপরতার ঘাটতি, দাগি আসামিদের জামিন, লুট হওয়া অস্ত্রের অবাধ বিস্তার এবং অপরাধীদের পৃষ্ঠপোষকদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়াই পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে।
অপরাধী যে-ই হোক, আইনের আওতায় আনতে হবে।
অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে সমন্বিত অভিযান, গোয়েন্দা তথ্যের দ্রুত ব্যবহার, সাইবার হুমকি মোকাবেলায় সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং মাঠ পর্যায়ে দৃশ্যমান নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল আচরণ, উসকানিমূলক বক্তব্য পরিহার এবং আইন মানার অঙ্গীকার প্রয়োজন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যে সংকেত মিলছে, তাতে এখনই দৃঢ় ও নিরপেক্ষ পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার ঝুঁকি থেকেই যায়।