হাবিবুর রহমান সুজন।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে যে নামটি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে—তিনি হলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সময়ের পরিক্রমায় সেই আলোচনা এখন নতুন মাত্রা পেয়েছে। দলীয় সূত্র ও রাজনৈতিক অঙ্গনের নানা ইঙ্গিত অনুযায়ী, আগামী ২৫ ডিসেম্বর তারেক জিয়ার দেশে ফেরাকে ঘিরে দেশজুড়ে তৈরি হয়েছে ব্যাপক প্রত্যাশা ও আলোড়ন।
এক দশকের বেশি সময়ের অপেক্ষা
দীর্ঘদিন প্রবাসে অবস্থান করলেও দেশের রাজনীতিতে তারেক জিয়ার প্রভাব কখনোই ক্ষীণ হয়নি। দল পরিচালনা, আন্দোলনের নির্দেশনা, বক্তব্য ও কর্মসূচির মাধ্যমে তিনি সবসময়ই বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। তবে সরাসরি মাঠে উপস্থিত না থাকার কারণে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছিল, তা পূরণের আশায় দেশজুড়ে নেতাকর্মীরা তাকিয়ে আছেন সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনের দিকে।
২৫ ডিসেম্বর: প্রতীকী এক দিন
বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রের দাবি, ২৫ ডিসেম্বর তারেক জিয়ার দেশে ফেরার সম্ভাব্য সময় হিসেবে আলোচিত হচ্ছে। যদিও এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি, তবুও এই তারিখ ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে জল্পনা-কল্পনা তুঙ্গে। অনেকের মতে, বিজয়ের মাসে তারেক জিয়ার প্রত্যাবর্তন গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে নতুন গতি আনতে পারে।
নেতাকর্মীদের উচ্ছ্বাস
দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে ইতোমধ্যেই বাড়ছে প্রস্তুতির কথা। কেউ কেউ বলছেন,
“তারেক জিয়া দেশে ফিরলে রাজপথে আমাদের আন্দোলন আরও শক্তিশালী হবে। দল নতুন করে সংগঠিত হবে।”
ঢাকা থেকে শুরু করে বিভাগীয় শহরগুলোতে আলোচনা চলছে—কীভাবে সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচি জোরদার করা যায়।
সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা
রাজনৈতিক কর্মীদের বাইরেও সাধারণ মানুষের একাংশ তাকিয়ে আছে এই প্রত্যাবর্তনের দিকে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, কর্মসংস্থানের সংকট, ভোটাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে অনেকেই মনে করছেন—রাজনীতিতে ভারসাম্য ফিরতে হলে শক্তিশালী বিরোধী নেতৃত্ব জরুরি।
একজন তরুণ ভোটার বলেন,
“আমরা এমন রাজনীতি চাই, যেখানে আমাদের ভোটের মূল্য থাকবে। তারেক জিয়া দেশে এলে অন্তত প্রতিযোগিতামূলক রাজনীতি ফিরবে—এই আশা করি।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে
বিশ্লেষকদের মতে, তারেক জিয়ার দেশে ফেরা বাস্তবায়িত হলে তা বাংলাদেশের রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিতে পারে। এতে বিরোধী দল আরও সক্রিয় হবে, আন্দোলন সাংগঠনিক রূপ পাবে এবং নির্বাচনী রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে।
অপেক্ষার প্রহর
সব মিলিয়ে, বাংলাদেশ এখন এক ঐতিহাসিক অপেক্ষার মুখোমুখি। সেই অপেক্ষা একজন ব্যক্তির নয়—
এই অপেক্ষা গণতন্ত্রের,
এই অপেক্ষা অংশগ্রহণমূলক রাজনীতির,
এই অপেক্ষা জনগণের ভোটাধিকার ফিরে পাওয়ার।
২৫ ডিসেম্বর যদি সত্যিই সেই দিন হয়ে ওঠে,
তাহলে “তারেক জিয়ার অপেক্ষায় বাংলাদেশ” আর শুধু শিরোনাম থাকবে না—
তা হয়ে উঠবে সময়ের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।