ইসলাম ও জীবন ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত
মহনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) সেরা পুরুষদের পরিচয় তুলে ধরে বলেছিলেন, যারা তাদের পরিবারের প্রতি দয়ালু, করুণাময় এবং ন্যায়পরায়ণ; যারা সহিংসতা ও অপমানকে দূরে সরিয়ে রেখে ঘরকে শান্তির কেন্দ্রে পরিণত করে তারাই হলেন সেরা পুরুষ।
পরিবার হলো ভালোবাসা ও শান্তির প্রথম পাঠশালা; এটি এমন একটি জায়গা যেখানে একজন ব্যক্তি শেখে কিভাবে ভালোবাসতে হয়, কিভাবে ক্ষমা করতে হয় এবং কিভাবে অন্যদের সঙ্গে মিলেমিশে বেড়ে উঠতে হয়।
নবী মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন- ‘আমার উম্মতের সেরা পুরুষদের বৈশিষ্ট হলো- তারা পরিবারের সদস্যদের প্রতি কঠোর হন না, তাদের অপমান করেন না, তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল হন এবং তাদের উপর অত্যাচার করেন না।’ [মাকারিমুল আখলাক, পৃষ্ঠা ২১৬]
মহানবী মুহাম্মাদ (সা.) -এর এই বাক্যটি মানবতা পরিমাপের জন্য একটি মহান মাপকাঠি। যে মানুষ তার ঘরে মৃদুভাবে কথা বলে, সদয় দৃষ্টিতে হৃদয়কে শান্ত করে এবং ন্যায়সঙ্গত আচরণের মাধ্যমে বিশ্বাস তৈরি করে, সে প্রকৃতপক্ষে জাতির সেরা মানুষ। হিংসা এবং নির্দয়তা ভালোবাসার শিকড় শুকিয়ে দেয়; কিন্তু করুণা এবং শ্রদ্ধা পরিবারকে পবিত্রতায় পূর্ণ একটি ফুলের বাগানে রূপান্তরিত করে।
আরও পড়ুন
বেশি ইবাদতের সুবর্ণ সুযোগ শীতকাল
আজ যখন জীবন উদ্বেগ এবং বাহ্যিক চাপে পরিপূর্ণ, তখন পরিবার নামক সুখের নীড় বা ঘরটি শান্তির আশ্রয়স্থল হওয়া উচিত। এই কেন্দ্রের পুরুষরা যদি ধৈর্য এবং দয়ার আদর্শ হয়, তাহলে শিশুরা একটি নিরাপদ এবং প্রেমময় পরিবেশে বেড়ে উঠবে এবং একটি সুস্থ সমাজ গড়ে উঠবে। পুরুষত্বের প্রকৃত মূল্য বাহুর শক্তিতে নয়, বরং হৃদয়ের বিশালতা এবং প্রিয়জনদের সঙ্গে আচরণের কোমলতায়।
আসুন, আমরা এই হাদিসটিকে আমাদের জীবনে পথপ্রদর্শক করে তুলি। আসুন, আমরা প্রতিদিন নিজেদেরকে মনে করিয়ে দেই যে, সেরা হওয়ার শুরু ঘর থেকেই। প্রতিটি হাসি, প্রতিটি সদয় কথা এবং করুণার প্রতিটি চিহ্ন একটি উজ্জ্বল, আরও প্রেমময় ভবিষ্যত গড়ে তোলার দিকে একটি পদক্ষেপ।