1. news@sangbadeisomoy.com : সংবাদ এই সময় : সংবাদ এই সময়
  2. info@www.sangbadeisomoy.com : সংবাদ এইসময় :
জর্জিয়ায় মুসলিম শাসনের হারানো স্মৃতি - সংবাদ এইসময়
শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ০১:০৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
মিল্কিওয়েতে সাদা নক্ষত্রের অদ্ভুত আচরণে বিস্মিত বিজ্ঞানীরা মদ বিক্রেতা ও পানকারীদের প্রতি ইসলামের কঠোর বার্তা শ্রীবরদীর ভেলুয়া বাজারে জামায়াত মনোনীত প্রার্থীর গণভোট বিষয়ে জনসচেতনতা সভা অনুষ্ঠিত সাভার স্বর্ণকলি আদর্শ বিদ্যালয়ে পিঠা উৎসব অনুষ্ঠিত নির্বাচন ও গণভোট নিয়ে প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে কোনো লাভ হবে না : রিজওয়ানা বাগমারায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা দোয়া মাহফিল রোয়াংছড়িতে এনসিপি’র নবগঠিত কমিটির পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত। আমাদের বেতনের টাকা আসে স্পন্সর ও আইসিসি থেকে: মিরাজ ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল ই/সরায়েল ফটিকছড়িতে মনোনয়ন ফিরে পেলেন রবিউল হাসান তানজিম

জর্জিয়ায় মুসলিম শাসনের হারানো স্মৃতি

  • প্রকাশিত: শনিবার, ২০ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ২০ বার পড়া হয়েছে

মো. আবদুল মজিদ মোল্লা

এশিয়া ও ইউরোপের মিলনস্থলে অবস্থিত অপূর্ব সুন্দর দেশ জর্জিয়া। ধর্মীয়ভাবে দেশটি খ্রিস্টানপ্রধান হলেও এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে মুসলমানদের সুদীর্ঘ ইতিহাস। ইসলামের তৃতীয় খলিফা উসমান (রা.)-এর যুগে ৬৪৫ খ্রিস্টাব্দে জর্জিয়ায় ইসলামের আগমন ঘটে। এরপর নানা উত্থান-পতন ঘটলেও দেশটিতে প্রায় পাঁচ শ বছর ইসলামী শাসন অব্যাহত ছিল।

১১২২ খ্রিস্টাব্দে জর্জিয়ার শাসক চতুর্থ কিং ডেভিড তিবলিসি জয় করলে মুসলিম শাসনের পতন হয়। খ্রিস্টীয় ১৪ শতকের শুরুতে তুরস্কের উসমানীয় সাম্রাজ্য ও ইরানের সাফাভিদ সাম্রাজ্য খ্রিস্টান শাসকদের পরাজিত করে জর্জিয়ার বৃহৎ অংশ জয় করেন। ১৫ শতক থেকে ১৬ শতক পর্যন্ত উসমানীয় ও সাফাভিদ সাম্রাজ্য জর্জিয়ার দুই অংশে নিজেদের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়। রুশ-তুর্কি যুদ্ধ ১৮৭৭-১৮৭৮ এর পর জর্জিয়া আবারও মুসলমানদের হাতছাড়া হয়।

বার্লিন চুক্তি-১৮৭৮ অনুসারে তুরস্ক তা রাশিয়ার হাতে ছেড়ে দেয়। বর্তমানে জর্জিয়ার মোট জনসংখ্যার প্রায় ১১ শতাংশ মুসলিম।
সুদীর্ঘ মুসলিম শাসনামলে জর্জিয়া শিক্ষা, সংস্কৃতি, সভ্যতা ও বাণিজ্যের অন্যতম কেন্দ্র হয়ে ওঠে। মুসলিম শাসকরা জর্জিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ অনেক অবকাঠামো ও স্থাপনা গড়ে তোলেন।

এসব স্থাপনার বেশির ভাগ ধ্বংস হয়ে গেলেও এখনো কিছু কিছু টিকে আছে। নিম্নে জর্জিয়ায় মুসলিম আমলের কিছু স্থাপত্য ও স্মৃতিচিহ্নের বিবরণ দেওয়া হলো।
১. জুমা মসজিদ, তিবলিসি : জর্জিয়ার রাজধানী তিবলিসিতে অবস্থিত জুমা মসজিদ মুসলিম শাসনামলের অন্যতম স্মৃতি। এটা তিবলিসে প্রতিষ্ঠিত প্রথম মসজিদ। খ্রিস্টীয় অষ্টম শতকে জুমা মসজিদের গোড়াপত্তন হয়।

একাধিকবার মসজিদটি সংস্কার ও পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে। ১৫২২ খ্রিস্টাব্দে সুলতান সুলায়মান দৃষ্টিনন্দন অবকাঠামো নির্মাণ করেন। এরপর তা একাধিকবার হামলা, ধ্বংস ও সংস্কারের মুখোমুখি হয়েছে। জুমা মসজিদের সর্বশেষ সংস্কার হয়েছে ১৯৯৮ সালে।
২. শাহি জুমা মসজিদ : তিবলিসি শহরের প্রাণকেন্দ্রে ছিল এই মসজিদের অবস্থান। এখানে আরব প্রশাসক ও অভিজাতরা নামাজ আদায় করতেন। বর্তমানে মসজিদের অবস্থানস্থল চিহ্নিত হলেও মসজিদের কোনো অবকাঠামো অবশিষ্ট নেই। শুধু ইতিহাস গ্রন্থে এর বর্ণনা পাওয়া যায়।

৩. দমানিসি মসজিদ ও দুর্গ : মুসলিম শাসন আমলে দমানিসি শহরটি ছিল জর্জিয়ার অন্যতম সমৃদ্ধ ও বিত্তশালী নগরী। মুসলিম শাসকরা এখানে শক্তিশালী দুর্গ ও একাধিক মসজিদ নির্মাণ করেন। বর্তমানে দুর্গ ও সেসব মসজিদের ধ্বংসাবশেষ রয়েছে দমানিসির প্রত্নতাত্ত্বিক সাইটে।

৪. আরতা জামে মসজিদ : জর্জিয়ার বাতুমি শহরে অবস্থিত আরতা জামে মসজিদ ১৮৬৬ সালে নির্মিত। আদজারা মুসলিম সম্প্রদায়ের নেতা আসলান বেগ মসজিদটি নির্মাণ করেন। এটি তুর্কি স্থাপত্যরীতিতে নির্মাণ করা হয়। সোভিয়েত আমলে মসজিদটি বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং তাতে সেনা ব্যারাক গড়ে তোলা হয়। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের সময় ১৯৯০ সালে স্থানীয় মুসলমানদের হাতে তুলে দেওয়া হয় এবং ১৯৯৫ সালে সেখানে নতুন করে নামাজ শুরু হয়।

৫. গোনিও দুর্গে উসমানীয় মসজিদ : জর্জিয়ার একটি প্রাচীন দুর্গ গোনিও। জর্জিয়া শাসনকারী সব শাসকই দুর্গটি ব্যবহার করেছেন। উসমানীয়রা দুর্গটি ব্যবহারের সময় এখানে সেনাদের জন্য একটি মসজিদ নির্মাণ করেছিলেন। যার ধ্বংসাবশেষ এখনো টিকে আছে।

৬. আবানোতুবানি গোসলখানা : তিবলিসি শহরের জন্মলগ্ন থেকে এখানে গরম পানির গোসলখানা ছিল। যেগুলো স্থানীয়ভাবে আবানোতুবানি বা সালফার বাথ নামে পরিচিত। মুসলিম শাসকরা এসব গোসলখানার ব্যাপক উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ করেন। তাঁরা জনসাধারণের জন্য বিনামূল্যের গোসলখানা তৈরি করেন। খ্রিস্টীয় ত্রয়োদশ শতাব্দীতে শুধু তিবলিসি শহরে ৬৫টি গোসলখানা ছিল।

৭. মেতেখি কোয়ার্টার : আরব মুসলিমরা তিবলিসি জয় করার পর মেতেখি চার্চ এলাকায় একটি নিজস্ব বসতি গড়ে তোলেন। যেটা মেতেখি কোয়ার্টার নামে পরিচিত ছিল। মুসলিম আমলে এটা তিবলিসির প্রশাসনিক এলাকা ছিল। বর্তমানে সে সময়ের স্থাপত্যের কিছু ধ্বংসাবশেষ পাওয়া যায়। ঐতিহাসিক ব্লু মসজিদ বা শাহ আব্বাস মসজিদটি এখানেই ছিল, যা ১৯৫১ সালে মেতেখি সেতু নির্মাণের সময় ভেঙে ফেলা হয়।

বারবার ক্ষমতার পালাবদল, যুদ্ধ ও প্রতিহিংসার শিকার হয়ে জর্জিয়ার বেশির ভাগ মুসলিম স্থাপত্য কালের গর্ভে হারিয়ে গেছে; বিশেষত রুশ সাম্রাজ্য ও সোভিয়েত আমলে মুসলিম স্থাপত্যগুলো শাসকদের আক্রোশের শিকার হয়। তারা এগুলো সংরক্ষণের পরিবর্তে ধ্বংস করেছে। জর্জিয়ায় বিপুলসংখ্যক মুসলিম স্থাপনা ছিল। মসজিদ, মাদরাসা, খানকার বাইরেও মুসলিম শাসকরা এখানে প্রশাসনিক ভবন, প্রতিরক্ষা দুর্গ, গোসলখানা, বাজার, রাস্তাঘাট ও সেতু নির্মাণ করেছিলেন। জর্জিয়ায় টিকে থাকা বেশির ভাগ দুর্গের বর্তমান কাঠামো মুসলমানদের নির্মিত, যদিও এর কোনো কোনোটির গোড়াপত্তন ইসলাম-পূর্ব আমলে হয়েছিল।

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট