জীবনযাপন ডেস্ক
সংগৃহীত ছবি
ছোট বয়স থেকেই শিশুদের ওজন বেড়ে চলেছে, যা ক্রমেই অভিভাবক ও চিকিৎসকদের কাছে উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে। অতিরিক্ত ওজন শিশুদের ডায়াবেটিসসহ নানা জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাইরের খাবারের প্রতি অতিরিক্ত ঝোঁক ও শরীরচর্চার অভাবই শিশুদের স্থূলতার প্রধান কারণ। সন্তানের আবদার রাখতে অনেক বাবা-মাই নিয়মিত ফাস্ট ফুড বা বাইরের খাবার কিনে দিচ্ছেন।
পাশাপাশি শিশুদের হাতে মোবাইল ও ট্যাব তুলে দেওয়ায় তারা এখন মাঠে খেলাধুলার বদলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘরের ভেতরেই সময় কাটাচ্ছে।
চিকিৎসকরা জানান, বর্তমানে অল্প বয়সেই শিশুদের গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দেখা দিচ্ছে। শারীরিক পরিশ্রম না থাকায় তাদের মধ্যে আলস্য বেড়ে যাচ্ছে এবং ছোট বয়সেই ‘মেটাবলিক সিনড্রোম’-এর লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। এই সমস্যায় হঠাৎ করে ওজন বেড়ে যাওয়া, পেট ও কোমরে অতিরিক্ত চর্বি জমা, রক্তে কোলেস্টেরল ও শর্করার মাত্রা বৃদ্ধি এবং রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইড বেড়ে যাওয়া এবং ইনসুলিনের কার্যক্ষমতা কমে যাওয়ার সম্মিলিত প্রভাবই ‘মেটাবলিক সিনড্রোম’, যা শেষ পর্যন্ত হৃদযন্ত্রের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
এ অবস্থায় বাবা-মায়েদের আরো সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা। ছোটবেলা থেকেই শিশুদের নির্দিষ্ট নিয়মে অভ্যস্ত করে তুলতে হবে। পাশাপাশি অভিভাবকদেরও কিছু অভ্যাস বদলানো জরুরি।
রান্না করতে ইচ্ছা না হলে শিশুদের অতিরিক্ত সাপ্লিমেন্ট বা তথাকথিত ‘হেলথ ড্রিংকস’ খাওয়ানো, সামান্য আবদার মেটাতে বারবার চকোলেট দেওয়া কিংবা ঘুম থেকে জাগিয়েই পড়তে বসানোর মতো অভ্যাস থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
শিশুদের ছোট বয়স থেকেই শরীরচর্চার অভ্যাস গড়ে তুললে মেদ জমার প্রবণতা অনেকটাই কমে। নিয়মিত যোগাসন চর্চার জন্য প্রয়োজনে অভিজ্ঞ প্রশিক্ষকের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে। প্যাকেটজাত ও প্রক্রিয়াজাত খাবার শিশুদের একেবারে না দেওয়াই ভালো। ঝাল-মসলাদার খাবারের পরিবর্তে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখতে হবে ডাল, মাছ, মুরগির মাংস, সবুজ শাক-সবজি, ফল এবং সয়া প্রোটিন।
খাদ্যতালিকায় প্রোটিন, ফ্যাট ও শর্করা— সবই থাকা দরকার, তবে তা হতে হবে পরিমিত পরিমাণে। প্রয়োজনীয় ফ্যাট মাছ-মাংস বা রান্নায় ব্যবহৃত সীমিত তেল থেকেই নেওয়া উচিত, অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলাই শিশুদের সুস্থ রাখার সবচেয়ে ভালো উপায়।
সূত্র : আনন্দবাজার