অনলাইন ডেস্ক
ফাইল ছবি
কুয়াশা ও হিমেল হাওয়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে শীতের তীব্রতা। এরই মধ্যে যশোরে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগের দিন একই তাপমাত্রা বিরাজ করছিল।
চলতি শীত মৌসুমে এর আগেও দুই দিন যশোরে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়। এদিকে চুয়াডাঙ্গায়ও মৃদু শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। তীব্র শীতে খেটে খাওয়া ছিন্নমূল ও নিম্নআয়ের মানুষ অসহায় হয়ে পড়েছেন। গতকাল চুয়াডাঙ্গায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
যশোর বিমানবাহিনীর আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, পৌষ মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকেই যশোরে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়। বর্তমানে তা রূপ নিয়েছে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, তাপমাত্রা ৮ দশমিক ১ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ, ৬ দশমিক ১ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে মাঝারি এবং ৪ দশমিক ১ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ হিসেবে ধরা হয়। গত শনিবার যশোরে তাপমাত্রা নেমে আসে ৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা ছিল সেদিন দেশের সর্বনিম্ন।
এর আগের দিন তাপমাত্রা ছিল ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যদিও পরে তাপমাত্রা সামান্য বেড়েছে, তবে সূর্যের দেখা না মেলায় এবং ঘন কুয়াশার কারণে শীতের তীব্রতা কমেনি। শৈত্যপ্রবাহের সঙ্গে হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা পড়ছে। বিশেষ করে শেষ রাত থেকে ভোর পর্যন্ত ঘন কুয়াশায় ঢেকে থাকছে চারদিক। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কুয়াশা কিছুটা কাটলেও সূর্যের তাপ তেমন অনুভূত হচ্ছে না।
এতে শীতের প্রকোপ আরও বেড়েছে।
অন্যদিকে তীব্র শীতে জেলায় কৃষি খাতেও দেখা দিয়েছে শঙ্কা। বোরো ধানের বীজতলা এবং আলু ও সরিষার ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। শীতের তীব্রতায় মানুষের পাশাপাশি প্রাণীকুলও বিপর্যস্ত। বিশেষ করে শ্রমজীবী ও নিম্নআয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি কষ্টে পড়েছেন।
চুয়াডাঙ্গায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ : শৈত্যপ্রবাহের মধ্যে চুয়াডাঙ্গায় গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির মতো কুয়াশা ঝরছে। হিম শীতল বাতাস ও কুয়াশার কারণে দৃষ্টিসীমা হ্রাস পেয়েছে। তীব্র শীতে অসহায় হয়ে পড়েছেন খেটে খাওয়া ছিন্নমূল ও নিম্নআয়ের মানুষ। শীত থেকে বাঁচতে মানুষ সড়কের পাশে খড়কুটো জ্বালিয়ে আগুন পোহাচ্ছেন। মানুষের উপস্থিতিও কমে গেছে। সড়কে যানবাহন চলছে হেডলাইট জ্বালিয়ে।
চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা জামিনুর রহমান জানান, ঘন কুয়াশা আর হিমেল বাতাসের কারণে তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে। মৃদু শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৬টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ড করা হয় ৮ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সন্ধ্যার পর থেকে তাপমাত্রা কমে আসায় বেশি শীত অনুভূত হচ্ছে। শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে।
অন্যদিকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে বাড়ছে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা। বারান্দা ও মেঝেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে অনেককে।
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে শিশু কনসালট্যান্ট ডা. মাহবুবুর রহমান মিলন জানান, অতিরিক্ত শীতে শিশুরা বেশি ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।