জিহাদুল ইসলাম (জিহাদ)
স্টাফ রিপোর্টার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া:
বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত নেত্রী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেছেন, “আমি দল ছেড়ে যাইনি, এলাকার মানুষকেও ছেড়ে যাইনি। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আমার ওপর যে লড়াইয়ের দায়িত্ব দিয়ে গেছেন, শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত তা পালন করব।”
তিনি বলেন, “নেত্রীর লাশ দাফনের আগেই আমার বিরুদ্ধে বহিষ্কারাদেশ এলো। আমার সঙ্গে যদি কোনো বেইনসাফি হয়ে থাকে, কোনো অন্যায় হয়ে থাকে তার বিচার আল্লাহর কাছে দিলাম।”
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে স্থানীয়দের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভার শুরুতে সদ্য প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা নিজে দোয়া পরিচালনা করেন।
স্থানীয়দের উদ্দেশে তিনি বলেন, “১৯৭৩ সালে আমার বাবাকে এই এলাকায় পরাজিত করা হয়েছিল। সেই ইতিহাস যেন আর ফিরে না আসে। আজ আমার কোনো দল নেই, কিন্তু আপনারা আছেন। ভোট গণনা শেষ হলে ফলাফল নিয়ে আমরা বাড়ি ফিরব।”
আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ-বিজয়নগরের দুই ইউনিয়ন) আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি। এ সময় তিনি জানান, প্রতীক হিসেবে তিনি ‘হাঁস’ প্রতীক চাইবেন। রুমিন ফারহানা বলেন, “ছোটবেলা থেকেই হাঁস আমার পছন্দের প্রতীক। কর্মী-সমর্থকরাও হাঁস প্রতীক চান।”
উল্লেখ্য, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচনে মনোনয়ন ফরম জমা দেওয়ায় বিএনপি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দুটি আসনের চার নেতাকে বহিষ্কার করে। বহিষ্কৃতদের মধ্যে বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানাও রয়েছেন।
গত মঙ্গলবার বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার দায়ে রুমিন ফারহানাসহ চারজনকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
দলীয় সূত্র জানায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে বিএনপির জোট শরিক জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিবকে জোটের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়। তবে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানাও মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এর পরপরই তার বিরুদ্ধে বহিষ্কারাদেশ জারি করা হয়।