মাইমুনা আক্তার
প্রতীকী ছবি
হেমন্তের স্নিগ্ধতা আর প্রাচুর্যের রেশ নিয়ে বাংলার প্রকৃতি যখন সুখের আমেজে পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে, ঠিক তখনই নীরবে এসে হাজির হয় শীত। হিমেল হাওয়ার শীতল পরশে মানুষের হৃদয়ের গভীরে জেগে ওঠে এক অপার্থিব অনুভূতি। শীতকাল মহান আল্লাহর অবারিত রহমত ও করুণার এক অনন্য সওগাত। এই ঋতুতে মাটির বুক চিরে হরেক রকমের টাটকা মৌসুমি শাক-সবজির যে সবুজ সমারোহ ঘটে, তা যেন আল্লাহর অসীম কুদরতেরই এক মূর্ত প্রতীক।
এ প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনে বর্ণিত হয়েছে, ‘মানুষ তার খাদ্যের ব্যাপারটাই ভেবে দেখুক না কেন; নিশ্চয়ই আমি প্রচুর পরিমাণে পানি বর্ষণ করি। তারপর জমিনকে যথাযথভাবে বিদীর্ণ করি। অতঃপর তাতে আমি উৎপন্ন করি—শস্য, আঙুর, শাক-সবজি, জায়তুন, খেজুর বন, ঘনবৃক্ষ শোভিত বাগবাগিচা, নানা জাতের ফল আর ঘাস-লতাপাতা। তোমাদের ও তোমাদের চতুষ্পদ জন্তুগুলোর জীবনোপকরণস্বরূপ।
’ (সুরা আবাসা, আয়াত : ২৪-৩২)
তাই শীতকালে মুমিনের অন্যতম করণীয়গুলোর একটি হলো, এসব মৌসুমি নিয়ামতের শোকর আদায় করা। পাশাপাশি এই মৌসুমের বিশেষ সুবিধাগুলোকে ইবাদতের মাধ্যমে মহিমান্বিত করে তোলা। শীতকালে বহু ইবাদত সহজ হয়ে যায়। তাই তো রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘শীতকে স্বাগত জানাও।
কেননা এ সময় রহমত অবতীর্ণ হয়। শীতের রাত ইবাদতকারীর জন্য দীর্ঘ হয়, আর এর দিন রোজাদারের জন্য সংক্ষিপ্ত হয়।’ [কানযুল উম্মাল (উর্দু), হাদিস : ৩৫২২২]
অন্য হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘শীতকালের রোজা হচ্ছে, বিনা পরিশ্রমে যুদ্ধলব্ধ সম্পদের অনুরূপ।’ (তিরমিজি, হাদিস : ৭৯৭)
তৃষ্ণার দহন নেই, নেই দীর্ঘ সময়ের প্রতীক্ষা, শীতের সংক্ষিপ্ত দিনগুলো যেন নফল ও কাজা রোজা আদায়ের মোক্ষম সময়। নফল রোজার মহিমা সম্পর্কে মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘বিশুদ্ধ নিয়তে যে ব্যক্তি এক দিন রোজা রাখল, মহান আল্লাহ তার চেহারাকে জাহান্নামের আগুন থেকে ৭০ বছরের রাস্তার দূরত্ব সমপরিমাণ দূরে সরিয়ে দেন।
(বুখারি, হাদিস : ২৮৪০)
শীতের রাতগুলোও দীর্ঘ হয়, তাই এই মৌসুমে একটি চেষ্টা করলেই তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করা যায়। তাহাজ্জুদ মহান রবের নৈকট্য অর্জনের অন্যতম মাধ্যম। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ এই আমলের অভ্যস্তদের সুনাম করেছেন। সুরা ফুরকানে মহান আল্লাহ ‘ইবাদুর রহমান’ রহমানের বান্দা বলে তাঁর বিশেষ বান্দাদের কিছু গুণ উল্লেখ করেছেন, যার মধ্যে অন্যতম হলো তাহাজ্জুদ। ইরশাদ হয়েছে, ‘আর তারা রাত কাটায় তাদের প্রতিপালকের উদ্দেশে সিজদায় অবনত ও দণ্ডায়মান অবস্থায়।’ (সুরা : ফুরকান, আয়াত : ৬৪)
এবং যারা এই আমল করবে, তাদের প্রশংসিত স্থানে উন্নীত করার ঘোষণা করেছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘আর রাতের কিছু অংশে তাহাজ্জুদ পড়ো, ওটা তোমার জন্য নফল, শিগগিরই তোমার প্রতিপালক তোমাকে প্রশংসিত স্থানে উন্নীত করবেন।’ (সুরা : বনি ইসরাঈল, আয়াত : ৭৯)
শীতকালের আরেকটি মহিমান্বিত আমল হতে পারে শীতার্ত মানুষের শীত নিবারণে সচেষ্ট হওয়া। আবু সাঈদ আল-খুদরি (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ঈমানদার ব্যক্তি কোনো ক্ষুধার্ত ঈমানদার ব্যক্তিকে খাদ্য দান করে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা তাকে জান্নাতের ফল খাওয়াবেন। যে মুমিন ব্যক্তি কোনো তৃষ্ণার্ত মুমিন ব্যক্তিকে পানি পান করাবে কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা তাকে সীলমোহর করা খাঁটি ‘রাহিক মাখতুম’ পান করাবেন। যে মুমিন ব্যক্তি কোনো বস্ত্রহীন মুমিন ব্যক্তিকে পোশাক দান করে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা তাকে জান্নাতে সবুজ পোশাক পরাবেন। (তিরমিজি, হাদিস : ২৪৪৯)