সাজেক থেকে ফিরে,, হাবিবুর রহমান সুজন।
এক সময়ের ছাইচাপা পাহাড়, পোড়া কাঠের গন্ধ আর আতঙ্কিত মানুষের চোখের জল—সব পেছনে ফেলে আবারও নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছে মেঘের রাজ্য সাজেক। ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতবিক্ষত হলেও সময়, প্রকৃতি আর মানুষের অদম্য সাহস সাজেককে ফিরিয়ে এনেছে তার চিরচেনা রূপে।
সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্নার মাঝেই কেটেছে এখানকার বহু মানুষের জীবন। আগুনে পুড়ে গেছে ঘরবাড়ি, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পর্যটননির্ভর জীবিকা। তবুও পাহাড়ি মানুষের চোখে ছিল প্রত্যয়ের আলো—আবার ঘুরে দাঁড়াবেই সাজেক। সেই প্রত্যয় আজ বাস্তবতায় রূপ নিয়েছে।
সবুজ পাহাড়, মেঘে ঢাকা উপত্যকা, আঁকাবাঁকা পাহাড়ি পথ আর সূর্যাস্তের রঙিন আলপনায় সাজেক এখন আবারও ভরপুর। নতুন করে গড়ে উঠেছে রিসোর্ট, কটেজ ও পর্যটনকেন্দ্র। স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অক্লান্ত পরিশ্রম আর সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতায় ধীরে ধীরে ফিরেছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।
পর্যটকদের পদচারণায় মুখর সাজেক আজ শুধু একটি ভ্রমণকেন্দ্র নয়—এটি পুনর্জন্মের গল্প। পোড়া মাটি থেকেই যে নতুন সবুজ জন্ম নিতে পারে, সাজেক তার জীবন্ত প্রমাণ। বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি হিসেবে সাজেক আবারও জায়গা করে নিয়েছে মানুষের হৃদয়ে।
মেঘ, পাহাড় আর মানুষের অদম্য শক্তির এই মিলনই সাজেককে দিয়েছে নতুন পরিচয়—ভেঙে পড়েও ঘুরে দাঁড়ানোর এক অনন্য নাম, সাজেক।