1. news@sangbadeisomoy.com : সংবাদ এই সময় : সংবাদ এই সময়
  2. info@www.sangbadeisomoy.com : সংবাদ এইসময় :
শ্রমবাজার সংকটে জনশক্তি রপ্তানি, নতুন গন্তব্য জরুরি - সংবাদ এইসময়
বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ০৪:১৮ অপরাহ্ন

শ্রমবাজার সংকটে জনশক্তি রপ্তানি, নতুন গন্তব্য জরুরি

  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারি, ২০২৬
  • ২২ বার পড়া হয়েছে

মো:আলাউদ্দিন স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট।

জনশক্তি রপ্তানিতে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন কারণে এর সাফল্য ধরে রাখতে পারছে না। বাংলাদেশের বড় শ্রমবাজারের মধ্যে শুধু সৌদি আরব ছাড়া বাকি প্রায় সব দেশেই কয়েক বছর ধরে জনশক্তি রপ্তানি কমেছে। বেড়েছে শুধু সৌদি আরবে। ২০২৩ সালে বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে কর্মী গেছেন ৪ লাখ ৯৮ হাজার। এরপর ২০২৪ ও ২০২৫ সালে সৌদি আরবে ধারাবাহিকভাবে জনশক্তি রপ্তানি বেড়েছে। তবে বাংলাদেশের অন্য বড় শ্রমবাজার সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মালয়েশিয়া বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এবং আরও বেশ কয়েকটি দেশে জনশক্তি রপ্তানি উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাওয়ায় এই খাতের সুফল পাওয়া যায়নি। অভিবাসন খাতে চলমান মন্দার মধ্যেও বাংলাদেশকে রক্ষা করেছে সৌদি আরব একাই। ২০২৫ সালে নারী কর্মীদের বিদেশ যাওয়ার হার কিছুটা বেড়েছে। এই বৃদ্ধি ইতিবাচক মনে হলেও মোট অভিবাসী কর্মীর তুলনায় নারীদের সংখ্যা এখনো অনেক কম। দক্ষতা ও প্রশিক্ষণের অভাব কাজের বৈচিত্র্যহীনতা এবং গন্তব্য দেশগুলোর বিধিনিষেধের কারণে নারীরা এখনো পিছিয়ে আছেন। জনশক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, কারিগরি প্রশিক্ষণ, আন্তর্জাতিক সনদ নিশ্চিতকরণ, ভাষার দক্ষতা বৃদ্ধি, উচ্চ মজুরি ও মানসম্মত পেশা ছাড়া এই খাতে উন্নয়ন সম্ভব নয়। এ লক্ষ্যে অভিবাসন গন্তব্য দেশগুলোর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি সম্পাদনের ওপর গুরুত্ব বহন করে। তারা সতর্ক করেছেন যে, যথাযথ সংস্কার ছাড়া বাংলাদেশের এই শ্রম ও অভিবাসন কেবল সংখ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে, এটি গুণগত কোনো পরিবর্তন আনবে না। অদক্ষ কর্মী পাঠানোর এই ধারা বজায় থাকলে মজুরি বৃদ্ধির সুযোগ কমে যাবে। মাথাপিছু রেমিট্যান্স আয় কমবে এবং প্রবাসে কর্মীরা বেশি ঝুঁকির সম্মুখীন হবেন।

জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশি কর্মীদের এবারও প্রধান গন্তব্য ছিল সৌদি আরব। ২০২৫ সালে মোট বিদেশ যাওয়া কর্মীর দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি কর্মসংস্থান হয়েছে দেশটিতে। গত বছর সৌদি আরবে ৭ লাখ ৫০ হাজার ৯৬৭ জন কর্মী গেছেন। ২০২৪ সালে সৌদি আরবে গেছেন ৬ লাখ ২৪ হাজার কর্মী। এই হিসাবে গত বছর সৌদি আরবে জনশক্তি রপ্তানি বেড়েছে প্রায় ১ লাখ ২৭ হাজার। তবে সৌদি আরব ছাড়া বিশ্বের অন্য দেশগুলোয় বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি রপ্তানি সামান্য কমেছে।

জনশক্তি রপ্তানি প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন বায়রার নেতা ফখরুল ইসলাম জানান, বাংলাদেশের জনশক্তির অধিকাংশ যায় মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোয়। সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো বড় শ্রমবাজার বাংলাদেশের জন্য এখনো বন্ধ। অন্তর্বর্তী সরকার দেড় বছরে বন্ধ থাকা দুটি বড় শ্রমবাজার সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মালয়েশিয়ার জট চেষ্টা করেও খুলতে পারেনি। এ ছাড়া নতুন কোনো শ্রমবাজারও সৃষ্টি হয়নি। কিন্তু সৌদি আরবে কোনো কারণে একবার জনশক্তি রপ্তানি কমে গেলে এই খাতে বিপর্যয় ঠেকানো মুশকিল হবে। তাই যত দ্রুত সম্ভব এর বিকল্প শ্রমবাজার আমাদের সৃষ্টি করতে হবে।

গত এক বছরে বৈশ্বিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের জনবল রপ্তানির পরিমাণ কমেছে। সরকার প্রবাসী কল্যাণ নিয়ে নানা বক্তব্য দিলেও কার্যকর তেমন কোনো উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি বা নিলেও তেমন একটা কাজে আসেনি। এতে করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের শ্রমবাজার ক্রমেই সংকুচিত হয়ে আসছে। এ অবস্থায় নতুন নতুন শ্রমবাজারের সন্ধানে সরকারকে এখনই কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করতে হবে। জনশক্তি রপ্তানি প্রতিষ্ঠানগুলোকে দক্ষ কর্মী পাঠানোর ব্যাপারে মনোযোগী হতে হবে। আশা করছি সরকার বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানি খাতকে দুষ্ট চক্রের রাহুগ্রাস থেকে মুক্ত করে দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহকে গতিশীল রাখতে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট