মুফতি সাইফুল ইসলাম
প্রতীকী ছবি
মানবজীবনে রোগ–ব্যাধি অনিবার্য। শরীর সুস্থ রাখার জন্য যেমন চিকিৎসা প্রয়োজন, তেমনি সেই চিকিৎসা পদ্ধতি হতে হবে কল্যাণকর, নিরাপদ ও শরিয়তসম্মত। ইসলাম কেবল ইবাদত-বন্দেগির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং মানুষের দৈনন্দিন জীবন, স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাব্যবস্থার প্রতিও সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা প্রদান করেছে। বিশেষত মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে যেসব চিকিৎসা-পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন এবং যেগুলোকে উত্তম বলে প্রশংসা করেছেন, সেগুলো মুসলিম উম্মাহর জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ আদর্শ।
এই প্রেক্ষাপটে সাহাবায়ে কেরামের বর্ণিত হাদিসগুলো আমাদের সামনে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম–এর ব্যবহারিক চিকিৎসা-নীতি ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি উন্মোচিত করে। তেমনই এক তাৎপর্যপূর্ণ হাদিস আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত—
عَنْ أَنَسٍ أَنَّه“ سُئِلَ عَنْ أَجْرِ الْحَجَّامِ فَقَالَ احْتَجَمَ رَسُوْلُ اللهِ صلى الله عليه وسلم حَجَمَه“ أَبُو طَيْبَةَ وَأَعْطَاه“ صَاعَيْنِ مِنْ طَعَامٍ وَكَلَّمَ مَوَالِيَه“ فَخَفَّفُوا عَنْه“ وَقَالَ إِنَّ أَمْثَلَ مَا تَدَاوَيْتُمْ بِهِ الْحِجَامَةُ وَالْقُسْطُ الْبَحْرِيُّ وَقَالَ لاَ تُعَذِّبُوا صِبْيَانَكُمْ بِالْغَمْزِ مِنَ الْعُذْرَةِ وَعَلَيْكُمْ بِالْقُسْطِ.
আনাস (রা.) হতে বর্ণিত যে, তাঁকে শিঙ্গা লাগানোর পারিশ্রমিক দেয়ার ব্যাপারে প্রশ্ন করা হয়েছিল। তখন তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিঙ্গা লাগিয়েছেন। আবূ তাইবা তাঁকে শিঙ্গা লাগায়।
এরপর তিনি তাকে দু সা’ খাদ্যবস্তু প্রদান করেন। সে তার মালিকের সঙ্গে এ সম্পর্কে কথা বললে, তারা তাঁর থেকে পারিশ্রমিক কমিয়ে দেয়। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেন: ‘তোমরা যে সব জিনিস দিয়ে চিকিৎসা কর, সেগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উত্তম হল শিঙ্গা লাগানো এবং সামুদ্রিক চন্দন কাঠ। তিনি আরো বলেছেন, তোমরা তোমাদের বাচ্চাদের জিহবা, তালু টিপে কষ্ট দিও না।
বরং তোমরা চন্দন কাঠ দিয়ে চিকিৎসা কর। (বুখারি, হাদিস : ৫৬৯৬)
হাদিসের শিক্ষা
এই হাদিসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চিকিৎসা-পদ্ধতি ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। তিনি নিজে শিঙ্গা লাগিয়েছেন এবং শিঙ্গা প্রয়োগকারীকে পারিশ্রমিক প্রদান করেছেন; যা প্রমাণ করে যে, শিঙ্গা একটি বৈধ ও সম্মানজনক চিকিৎসা-পদ্ধতি এবং এর বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণ করাও শরিয়তসম্মত। একই সঙ্গে শ্রমের ন্যায্য মূল্য দেওয়ার ইসলামী নীতিও এতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
হাদিসে শিঙ্গা ও সামুদ্রিক চন্দন কাঠকে উত্তম চিকিৎসা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যা থেকে বোঝা যায়; ইসলাম রোগ নিরাময়ে কার্যকর ও নিরাপদ উপায়ের প্রতি উৎসাহ প্রদান করে।
বিশেষত শিশুদের চিকিৎসায় কঠোর ও কষ্টদায়ক পদ্ধতি পরিহার করে কোমল ও সহনশীল চিকিৎসা গ্রহণের নির্দেশনা মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দয়ার পরিচয় বহন করছে।।
সার্বিকভাবে, এই হাদিস শরীরের চিকিৎসা, পেশার বৈধতা, শ্রমের মর্যাদা এবং রোগীর প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণ; এই চারটি গুরুত্বপূর্ণ ইসলামী শিক্ষাকে সংক্ষেপে তুলে ধরেছে।