মো আবদুল করিম সোহাগ
বিনোদন প্রতিবেদক
নীলিমা হাসান মোহনা একজন বাংলাদেশি মডেল, সুন্দরী প্রতিযোগিতা বিজয়ী এবং সামাজিক সচেতনতামূলক কার্যক্রমে সক্রিয় তরুণী। ২০২৩ সালে তিনি মিস ওশান ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ টাইটেল অর্জন করেন এবং ২০২৫ সালে মিস পিস ইন্টারন্যাশনাল প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হন। একই সঙ্গে Best Talent এবং Miss Photogenic Award জিতে আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে নিজের পরিচিতি আরও শক্তিশালী করেছেন।
ছোটবেলা থেকেই নীলিমা নিজের চেহারা নিয়ে কিছুটা ইনসিকিউর ছিলেন। অনেকেই বলত, তার হাসি সুন্দর নয়, যা তাকে গভীরভাবে আঘাত করত। সেই সময়েই মনে হয়েছিল এমন একটি জায়গা দরকার যেখানে মানুষ শুধু চেহারা নয়, তার চিন্তা, কথা ও কাজকেই গুরুত্ব দেবে। সেই ভাবনা থেকেই শুরু হয় তার নিজেকে তৈরি করার যাত্রা। ২০২৩ সালে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বিউটি কম্পিটিশনের মাধ্যমে মিস ওশান ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ টাইটেল অর্জন তার পথচলাকে আনুষ্ঠানিক রূপ দেয়।
ক্যামেরার সামনে কাজ করতে গিয়েই নীলিমা শিখেছেন, নিজের মতো করে নিজেকে গ্রহণ করা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। ক্যামেরা কখনো মিথ্যা বলে না; ভেতরের আত্মবিশ্বাস না থাকলে সেটা স্পষ্ট ধরা পড়ে। এই অভিজ্ঞতা তাকে শেখায় কীভাবে নিজের গল্প সাহসের সঙ্গে বলা যায় এবং দুর্বলতাকেও শক্তিতে রূপ দেওয়া যায়।
বর্তমানে নীলিমা নর্দান ইউনিভার্সিটিতে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (CSE) পড়াশোনা করছেন। পড়াশোনা, মডেলিং এবং মিডিয়ার পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগ, ব্র্যান্ড ও অ্যাওয়ারনেস ক্যাম্পেইনে সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছেন। ২০২৫ সালে মিস পিস ইন্টারন্যাশনাল বিজয়ী হওয়া এবং Best Talent ও Miss Photogenic Award অর্জন তাকে আরও দায়িত্বশীল করেছে।
নীলিমা সবসময় এমন কাজ বেছে নিতে চান যা সমাজের উপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। তিনি অনুপ্রাণিত হন তাদের কাজ দেখে যারা নিজেদের অবস্থান ব্যবহার করে সমাজের জন্য কিছু করছেন। অনেক মেয়ে তাকে মেসেজ করে বলে, “আপুকে দেখে আমরা নিজের ওপর বিশ্বাস করতে শিখেছি। এই একটিমাত্র লাইনই তার সব ক্লান্তি দূর করে দেয়।
অভিনয়ের পাশাপাশি নীলিমা নিজেকে লিডারশিপ, পাবলিক স্পিকিং এবং উদ্যোক্তা হওয়ার মতো দক্ষতায় গড়ে তুলতে আগ্রহী। ভবিষ্যতে তিনি এমন প্ল্যাটফর্মে কাজ করতে চান যা নারীর ক্ষমতায়ন, আত্মমর্যাদা এবং সামাজিক পরিবর্তনের বার্তা ছড়াবে। তার লক্ষ্য শুধু একজন কুইন বা মিডিয়া ফিগার হওয়ার নয়, বরং একজন রোল মডেল ও সফল ব্যবসায়ী হয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানো।
পরিবার তার সবচেয়ে বড় শক্তি। নীলিমা বলেন, “তাদের বিশ্বাস ও সমর্থন ছাড়া আমি আজ এখানে আসতে পারতাম না।” তিনি নতুনদের, বিশেষ করে মেয়েদের, পরামর্শ দেন কখনো নিজেকে ছোট না ভাবতে। মানুষের মন্তব্যের চেয়ে নিজের মূল্যবোধ, শিক্ষা এবং আত্মসম্মানের দিকে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।
আগামী পাঁচ বছরে দর্শক নীলিমাকে শুধু একজন কুইন হিসেবে নয়, একজন লিডার, উদ্যোক্তা এবং সমাজ পরিবর্তনের অংশ হিসেবে দেখতে পাবেন। নীলিমা চান, তার নামের সঙ্গে মানুষ অনুপ্রেরণা এবং সম্ভাবনার গল্প খুঁজে পাক।