অনলাইন ডেস্ক
সংগৃহীত ছবি
ইরানে গত কয়েকদিনের নজিরবিহীন সহিংসতা ও দাঙ্গার পর পরিস্থিতি ধীরে ধীরে শান্ত হয়ে আসছে বলে দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ। শহরগুলোতে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরতে শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন, দেশটির জাতীয় পুলিশের মুখপাত্র সাঈদ মোনতাজের আল-মাহদি।
এই পুলিশ কর্মকর্তা জানান, মাঠ পর্যায়ের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী রাজধানী তেহরানসহ সারাদেশের গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে বর্তমানে সাধারণ শান্তি বজায় রয়েছে। গত কয়েকদিনে সশস্ত্র গোষ্ঠী এবং বিদেশি মদদপুষ্ট উগ্রপন্থীদের চালানো ভয়াবহ হামলার পর নিরাপত্তা বাহিনী এখন জনজীবন নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে।
বিশেষ করে শুক্রবার জুমার নামাজের পর উগ্রবাদী ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের বিশাল সমাবেশ দাঙ্গাকারীদের পরবর্তী নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। শুক্রবার রাতে দেশের অধিকাংশ প্রদেশে নতুন করে কোনো বড় ধরনের বিশৃঙ্খলার খবর পাওয়া যায়নি, তবে নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত কঠোর সতর্কবার্তা জারি করে রেখেছে।
ইরানি পুলিশের এই মুখপাত্র আরও জানান, সাম্প্রতিক এই অস্থিরতায় নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যাপক প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। রাজধানী তেহরানে অপরাধ তদন্ত পুলিশের বেশ কয়েকজন সদস্য সশস্ত্র হামলাকারীদের গুলিতে নিহত হয়েছেন।
অন্যদিকে সিরাজ শহরে তিন পুলিশ কর্মকর্তা এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় এসফারায়েন শহরে একজন স্থানীয় প্রসিকিউটরসহ চারজন নিরাপত্তা কর্মী নিহত হয়েছেন। এছাড়া কোয়ম, শুশতার এবং কাজভিনেও বাসিজ মিলিশিয়া ও পুলিশ সদস্যদের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়েছে। কাজভিনে একটি জ্বালানি স্টেশনে অগ্নিসংযোগের চেষ্টা রুখতে গিয়ে এক বাসিজ সদস্যকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে জানা গেছে। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ পর্যন্ত অন্তত ২৭০ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
যাদের অনেকের শরীরে সামরিক গ্রেডের আগ্নেয়াস্ত্রের আঘাত পাওয়া গেছে।
ইরান কর্তৃপক্ষ আরও দাবি করছে, দাঙ্গাকারীরা অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে ধর্মীয় ও সরকারি স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে।
তেহরানের মেয়র আলিরেজা জাকানি এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, দাঙ্গাকারীরা জনসেবামূলক খাতকে লক্ষ্যবস্তু করে ২৪টির বেশি অগ্নিনির্বাপক যান জ্বালিয়ে দিয়েছে এবং ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের উদ্ধারকাজে বাধা দিয়েছে। এছাড়া বেশ কিছু হাসপাতাল, মসজিদ, ব্যাংক এবং ৪৭টি বাসের ওপর হামলা চালিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করা হয়েছে। মাশহাদ শহরেও গণপরিবহন ও নগর অবকাঠামো খাতে বিপুল আর্থিক ক্ষতির কথা জানিয়েছেন স্থানীয় মেয়র।
হামলাকারীরা পবিত্র কোরআন কেন্দ্র এবং ধর্মীয় স্থাপনায় আগুন দিয়ে তাদের চরমপন্থী আচরণের পরিচয় দিয়েছে।
ইরানের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মতে, এই সহিংসতা কোনো সাধারণ বিক্ষোভ নয় বরং এটি ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি যুদ্ধের দ্বিতীয় পর্যায়। সরকারের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সরাসরি এই সন্ত্রাসীদের মদদ দিচ্ছে এবং তাদের অর্থায়ন করছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু প্রকাশ্যে এই বিশৃঙ্খলাকারীদের সমর্থন দিয়েছেন। তেল আবিবে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবিও ইরানি বিক্ষোভকারীদের প্রতি ওয়াশিংটনের জোরালো সমর্থনের কথা ব্যক্ত করেছেন।
ইরানের প্রসিকিউটর জেনারেল এই অস্থিরতাকে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কারসাজি হিসেবে বর্ণনা করে আটককৃতদের দ্রুত বিচারের নির্দেশ দিয়েছেন। একইসঙ্গে জননিরাপত্তা নষ্ট করার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের আইনি প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
পুলিশের মুখপাত্র আরও উল্লেখ করেছেন, সাম্প্রতিক মুদ্রাস্ফীতি এবং অর্থনৈতিক সংকটের কারণে সাধারণ ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ছিল, যা পুলিশ ধৈর্য ও সহনশীলতার সাথে মোকাবেলা করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলো সাধারণ মানুষের এই আবেগ ও অভাবকে কাজে লাগিয়ে শহরগুলোতে চরম অরাজকতা সৃষ্টি করেছে।