1. news@sangbadeisomoy.com : সংবাদ এই সময় : সংবাদ এই সময়
  2. info@www.sangbadeisomoy.com : সংবাদ এইসময় :
ওহি যেখানে অপরিহার্য, বুদ্ধি সেখানে অপর্যাপ্ত - সংবাদ এইসময়
সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ০৬:২৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
আল-আকসায় তারাবি বন্ধ, ইসরায়েলি পদক্ষেপকে ‘অবৈধ’ বললেন খতিব নে*তানিয়াহুর কার্যালয়ে শক্তি/শালী ক্ষে/প/ণাস্ত্র হামলা ইরানের কুয়েতে কয়েকটি মার্কিন যু/দ্ধ/বিমান বি/ধ্বস্ত বাগমারায় তিনটি পাকা রাস্তা নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন এমপি ডাঃ আব্দুল বারী বান্দরবান শহরে উজানী পাড়া অগ্নিকাণ্ডে ৫ বসতঘর ও ২ দোকান পুড়ে ছাই। শ্রীবরদীতে জমি সংক্রান্ত বিরোধে মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী মেয়েদের পিটিয়ে জখম সৌদির আরামকো তেল শোধনাগারে ইরানের ড্রোন হা/ম/লা মণিরামপুর উপজেলায় এক প্রবাসীর স্ত্রী ও তার ৫ বছরের কন্যা সন্তানসহ অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। সচেতনতা ও অভিযানে মাদক নির্মূলে নতুন অধ্যায় ঐতিহাসিক পতাকা উত্তোলন দিবস আজ

ওহি যেখানে অপরিহার্য, বুদ্ধি সেখানে অপর্যাপ্ত

  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬
  • ৭০ বার পড়া হয়েছে

ড. মুহাম্মাদ আকরাম নদভী

প্রতীকী ছবি

কিছু মানুষ এই ভ্রান্তিতে আক্রান্ত যে বুদ্ধি আল্লাহর অস্তিত্ব প্রমাণ করতে পারে। অথচ এটি একটি স্বীকৃত সত্য, বুদ্ধি কখনো কোনো নির্দিষ্ট ও নির্ধারিত বাস্তবতাকে প্রমাণ করতে সক্ষম নয়। আল্লাহ তাআলা হলেন ‘আরাফুল মাআরিফ’, সব নির্ধারিত বাস্তবতার চেয়েও বেশি নির্ধারিত এবং বুদ্ধির উপলব্ধিগত সীমার সম্পূর্ণ ঊর্ধ্বে।

যখন আমরা বুদ্ধিকে আল্লাহর অস্তিত্ব প্রমাণের দায়িত্ব দিই, তখন বুদ্ধি আল্লাহকে তাঁর বাহ্যিক ও প্রকৃত সত্তা থেকে বিচ্ছিন্ন করে শুধু একটি সার্বিক মানসিক ধারণায় রূপান্তরিত করে ফেলে।

এই ধারণা তখন সমাধানযোগ্য ও একীভূতযোগ্য হয়ে যায়; তা কোনো ধারাবাহিক ব্যবস্থায় পরিণত হতে পারে এবং বহু উদাহরণের ওপর প্রয়োগ করা সম্ভব হয়। এমন একটি ধারণার জন্য তাওহিদ অপরিহার্য নয়, বরং তার প্রকৃতির মধ্যেই শিরকের উপাদান সন্নিবেশিত থাকে।

মানব বুদ্ধি এক বিশেষ উপলব্ধিগত শক্তি, যা অন্য ইন্দ্রিয়গুলোর তুলনায় এই দিক থেকে স্বতন্ত্র, সে আংশিক পর্যবেক্ষণ থেকে সার্বিক ও বিমূর্ত অর্থ আহরণ করতে সক্ষম। ইন্দ্রিয়গত উপলব্ধি বস্তুগুলোকে তাদের সময় ও স্থানের সীমাবদ্ধতার ভেতর গ্রহণ করে এবং সীমিত অভিজ্ঞতার আলোকে সেগুলোকে শনাক্ত করে।

কিন্তু বুদ্ধি এসব খণ্ডাংশ থেকে এক উচ্চতর চেতনার নকশা নির্মাণ করে, সেগুলোকে সার্বিক ধারণার রূপে বিন্যস্ত করে একটি চিন্তাগত কাঠামো গড়ে তোলে।

এই বৈশিষ্ট্যই বুদ্ধির শক্তি, আবার এটিই তার সীমারেখা নির্ধারণ করে। বুদ্ধি সক্ষম, সে সার্বিক নীতি প্রণয়ন করতে পারে, সেখান থেকে অবধারিত ফলাফল নির্ণয় করতে পারে এবং বাস্তবতার সাধারণ নিয়মাবলি চিহ্নিত করতে পারে; কিন্তু তার স্বভাবগত সীমাবদ্ধতার কারণে কোনো নির্দিষ্ট বস্তু বা ঘটনার খুঁটিনাটি ও নির্ধারিত পরিচয় প্রদান করতে পারে না। তার রায় সর্বদা সাধারণ ও বিমূর্ত।

অর্থাৎ নীতিগতভাবে কী হওয়া উচিত, তা সে বলে; কিন্তু নির্দিষ্ট সময় ও স্থানে বাস্তবে কী আছে, তা নির্ধারণ করে না।

বুদ্ধিবৃত্তিক উপলব্ধির সূচনা ইন্দ্রিয়গত অভিজ্ঞতা থেকেই হয়, কিন্তু তার পরিসর শুধু পর্যবেক্ষণের মধ্যেই আবদ্ধ থাকে না। বুদ্ধি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাগুলোর ভেতর থেকে অভিন্ন গুণ ও বৈশিষ্ট্য আহরণ করে এবং সেগুলোর ভিত্তিতে এমন সার্বিক ধারণা নির্মাণ করে, যা প্রতিটি আংশিক ঘটনা বা বস্তুর ওপর প্রয়োগযোগ্য। কারণ শৃঙ্খলা, উদ্দেশ্যবোধ, পারস্পরিক নির্ভরতা ও কার্যকারিতা এসব ধারণা এই প্রক্রিয়ারই ফল। এগুলো কোনো একক বস্তুর বৈশিষ্ট্য নয়, বরং বহু উদাহরণে প্রযোজ্য।

এ কারণেই বুদ্ধিবৃত্তিক জ্ঞানের প্রকৃতি সার্বিক ও বিমূর্ত।

কোনো কিছুকে বুদ্ধির মাধ্যমে জানা মানে তার প্রতিটি খুঁটিনাটি প্রত্যক্ষ করা নয়, বরং তাকে একটি বৃহত্তর ধারণাগত পরিসরের মধ্যে স্থাপন করা, যাতে তার অস্তিত্বের সাধারণ কারণ ও নীতিগুলো স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

এই সার্বিক দৃষ্টিভঙ্গিই বুদ্ধির রায় ও যুক্তির প্রকৃতি নির্ধারণ করে। যখন বুদ্ধি কোনো জটিল ও সুসংগঠিত বস্তুর মুখোমুখি হয়, তখন সে তাকে শুধু একটি স্বতন্ত্র অস্তিত্ব হিসেবে দেখে না, বরং তাকে একটি নির্মিত সত্তা, একটি সুসংবদ্ধ অস্তিত্ব বা একটি কার্যকর ব্যবস্থার দৃষ্টান্ত হিসেবে অনুধাবন করে। এই ধারণাগত শ্রেণিবিন্যাসের পর বুদ্ধি সার্বিক কার্য-কারণ নীতিকে কার্যকর করে, যেসব বস্তুর মধ্যে বিন্যাস, সামঞ্জস্য, উদ্দেশ্য ও শৃঙ্খলা বিদ্যমান, সেগুলো আপনা-আপনি অস্তিত্ব লাভ করতে পারে না; বরং সেগুলো কোনো কারণের মুখাপেক্ষী।

এই নীতির আলোকে বুদ্ধি সিদ্ধান্তে পৌঁছে যে তাজমহল কিংবা অন্য কোনো মহৎ স্থাপনা কোনো নির্মাতা বা কার্যকারক ছাড়া অস্তিত্বে আসতে পারে না। এই সিদ্ধান্ত শুধু ঐতিহাসিক দলিল বা প্রত্যক্ষ পর্যবেক্ষণের ওপর নির্ভরশীল নয়, বরং এটি সার্বিক বুদ্ধিবৃত্তিক নীতি ও অপরিহার্যতার ভিত্তিতে অর্জিত।

তবে এই সিদ্ধান্ত তার প্রকৃতিগত দিক থেকে বিমূর্ত ও সার্বিকই থেকে যায়। বুদ্ধি নির্মাতা বা কার্যকারকের অস্তিত্বের প্রয়োজনীয়তা প্রমাণ করতে পারে, কিন্তু তার পরিচয় বা নির্দিষ্টতা নির্ধারণ করতে পারে না। কোনো নির্দিষ্ট ঐতিহাসিক ব্যক্তি বা ঘটনার শনাক্তকরণের জন্য অতিরিক্ত জ্ঞানসূত্রের প্রয়োজন হয়, যেমন প্রত্যক্ষ পর্যবেক্ষণ, ঐতিহাসিক প্রমাণ, বর্ণনা ও অভিজ্ঞতালব্ধ সাক্ষ্য। বুদ্ধি এসব খুঁটিনাটি উৎপন্ন করতে অক্ষম, কারণ সে শুধু সার্বিক ও সাধারণ নীতির ভিত্তিতেই যুক্তি দাঁড় করায়।

এভাবে বুদ্ধি দেখায়, অস্তিত্বে আসা প্রতিটি বস্তুই এক কার্যকারকের মুখাপেক্ষী; কিন্তু সে বলে না, সে কার্যকারক কে, তিনি একজন না একাধিক, তিনি বস্তুগত না অলৌকিক, বাহ্যিক না অন্তর্গত।

ঠিক এই যুক্তিকাঠামোই তখনো কার্যকর থাকে, যখন বুদ্ধি সমগ্র মহাবিশ্বের বাস্তবতা নিয়ে চিন্তা করে। বুদ্ধির স্তরে মহাবিশ্বকে তার সব পরীক্ষণযোগ্য খুঁটিনাটি নিয়ে দেখা হয় না; বরং তাকে সার্বিক ধারণার আলোকে অনুধাবন করা হয়, যেমন—সম্ভাবনা, নির্ভরতা, শৃঙ্খলা, বিন্যাস ও ব্যবস্থা। এসব ধারণার আলোকে বুদ্ধি এই সিদ্ধান্তে পৌঁছে যে মহাবিশ্ব নিজে নিজে, স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে টিকে থাকতে পারে না; বরং তার জন্য কোনো মৌল সত্তা, কোনো কারণ, অথবা কোনো অপরিহার্য অস্তিত্ব বা একাধিক অস্তিত্বের প্রয়োজন রয়েছে।

দার্শনিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই যুক্তি সঠিক এবং প্রতিটি সেই অস্তিত্বের ওপরই প্রযোজ্য, যা সুসংগঠিত, নির্ভরশীল এবং নীতি ও নিয়মের অধীন। এই অর্থে বুদ্ধি যথার্থভাবেই প্রমাণ করতে পারে যে মহাবিশ্বের পেছনে কোনো না কোনো মৌল সত্তা, কারণ কিংবা অর্থবহ ধারাবাহিকতা অপরিহার্য।

কিন্তু এখানেও সিদ্ধান্তটি তার প্রকৃতিতে বিমূর্ত ও সার্বিকই থেকে যায়। বুদ্ধি শুধু মৌল সত্তা বা কারণের প্রয়োজনীয়তার কথা বলতে পারে; এই যুক্তি থেকেই কিন্তু স্পষ্ট হয় না যে সেই মৌল সত্তা কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় প্রভু-ধারণার সঙ্গে হুবহু সামঞ্জস্যপূর্ণ। সত্তা, ইচ্ছা, জ্ঞান, নৈতিক কর্তৃত্ব, প্রাকৃতিক বিধানের ওপর কর্তৃত্ব কিংবা ইতিহাসে প্রকাশ—এসব গুণ শুধু একটি বিমূর্ত কারণের ধারণা থেকে স্বতঃসিদ্ধভাবে অর্জিত হয় না।

একটি বিমূর্ত কারণ থেকে একটি নির্দিষ্ট, ব্যক্তিত্বসম্পন্ন ও গুণাবলিতে সমৃদ্ধ সত্তার ধারণায় পৌঁছতে অতিরিক্ত জ্ঞানসূত্রের প্রয়োজন হয়, যা নিছক বুদ্ধিবৃত্তিক যুক্তির পরিসরের বাইরে অবস্থিত।

বুদ্ধির কাজ হলো সার্বিক সত্য ও অপরিহার্য সম্পর্কগুলো অনুধাবন করা, প্রতিটি ঐতিহাসিক বা ব্যক্তিগত নির্ধারণ প্রতিষ্ঠা করা নয়। যখন বুদ্ধির কাছে তার সীমার বাইরে থাকা বিষয়ের দাবি তোলা হয়, তখন হয় সে ভিত্তিহীন ও অনির্ভরযোগ্য অনুমান তৈরি করে, নয়তো তার উপলব্ধি ও যুক্তিবোধ সম্পর্কে অপ্রয়োজনীয় সংশয় জন্ম নেয়।

(লেখকের ফেসবুক পেজ থেকে)

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট