অনলাইন ডেস্ক
দেশজুড়ে আবারও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে নিপাহ ভাইরাস। প্রতিবছর শীত মৌসুম এলেই এই ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ে সতর্কতা জারি করা হয়। বিশেষ করে কাঁচা খেজুরের রস খাওয়ার সঙ্গে নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি থাকে।
নিপাহ ভাইরাস কী
নিপাহ ভাইরাসের প্রধান উৎস বাদুড়।
বাদুড়ের লালা বা মূত্রে দূষিত কাঁচা খেজুরের রস পান করার মাধ্যমে এই ভাইরাস মানুষের শরীরে প্রবেশ করে। এ ছাড়া বাদুড়ের আধখাওয়া ফল থেকেও সংক্রমণ ছড়াতে পারে। আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত বিছানা, পোশাক বা অন্যান্য সামগ্রীর মাধ্যমেও মানুষ থেকে মানুষে নিপাহ ভাইরাস ছড়ানোর ঝুঁকি রয়েছে।
চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় নিপাহ একটি ‘জুনোটিক ভাইরাস’।
অর্থাৎ পশু থেকে মানুষের শরীরে এই ভাইরাস সংক্রমিত হয়। নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্তদের মৃত্যুহার প্রায় ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ। এখনো এই ভাইরাসের কোনো কার্যকর টিকা বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই।
কোন লক্ষণে সতর্ক হবেন
ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ৩ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
শুরুতে সাধারণ ভাইরাল জ্বরের মতো লক্ষণ দেখা দেয়—জ্বর, মাথাব্যথা, শরীর ব্যথা, বমি বমি ভাব ইত্যাদি। তবে ধীরে ধীরে রোগের অবস্থা গুরুতর হয়ে উঠতে পারে।
চিকিৎসকদের মতে, জ্বরের সঙ্গে যদি রোগীর আচরণে পরিবর্তন দেখা যায়, যেমন—
অতিরিক্ত ঘুম ঘুম ভাব
কথা জড়িয়ে যাওয়া বা অপ্রাসঙ্গিক কথা বলা
পরিচিত মানুষ চিনতে না পারা
তাহলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া জরুরি।
অনেক ক্ষেত্রে মস্তিষ্কে প্রদাহ (এনসেফেলাইটিস) দেখা দেয়। এতে রোগী অচেতন বা কোমায় চলে যেতে পারেন।
ফুসফুসে সংক্রমণ হলে শ্বাসকষ্ট দেখা দেয় এবং মৃত্যুঝুঁকি বেড়ে যায়। এ অবস্থায় রোগী থেকে অন্যদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কাও বেশি থাকে।
রোগ নির্ণয় কীভাবে
সাধারণ রক্ত পরীক্ষায় নিপাহ ভাইরাস শনাক্ত করা যায় না। বায়োসেফটি লেভেল-থ্রি মানের বিশেষায়িত পরীক্ষাগারেই এই ভাইরাস শনাক্ত করা সম্ভব। আক্রান্ত ব্যক্তির লালা, থুতু, মূত্র বা সেরিব্রোস্পাইনাল ফ্লুইড পরীক্ষার মাধ্যমে রোগ নিশ্চিত করা হয়।
কীভাবে প্রতিরোধ করবেন
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, নিপাহ ভাইরাস থেকে বাঁচার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো সচেতনতা। এ জন্য—
কাঁচা খেজুরের রস বা তাড়ি পান করা থেকে বিরত থাকতে হবে
কাঁচা রসে ভেজানো পিঠা বা অন্য খাবার না খাওয়া
খেজুরের রস ভালোভাবে ফুটিয়ে বা গুড় বানিয়ে খাওয়া
বাদুড়ের আধখাওয়া বা মাটিতে পড়ে থাকা ফল না খাওয়া
সব ধরনের ফল ভালোভাবে ধুয়ে খাওয়া
নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধোয়া
নিপাহ ভাইরাস মানুষ থেকে মানুষে ছড়াতে পারে। তাই আক্রান্ত বা উপসর্গযুক্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ এড়িয়ে চলতে হবে। সন্দেহ হলে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে যোগাযোগ করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, নিপাহ ভাইরাসের ক্ষেত্রে আগাম সতর্কতাই সবচেয়ে বড় সুরক্ষা।