মোঃ সোলায়মান গনি | কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি
তারিখ: ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
কুড়িগ্রাম জেলায় এলপিজি গ্যাসের সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। দাম বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ, তবুও প্রয়োজনের সময় মিলছে না গ্যাস সিলিন্ডার। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে হোটেল-রেস্তোরাঁ মালিকরা।
জেলার মানুষের জীবনযাত্রার সাথে তাল মিলিয়ে বর্তমানে প্রায় ৫০ শতাংশ মানুষ হোটেল, রেস্তোরাঁ, বাসাবাড়ি ও পরিবহন খাতে এলপিজি গ্যাস ব্যবহার করছেন। দীর্ঘদিন ধরেই রান্নার প্রধান জ্বালানি হিসেবে কুড়িগ্রামবাসীর ভরসা সিলিন্ডার গ্যাস। তবে গত এক থেকে দুই সপ্তাহ ধরে বাড়তি দাম দিয়েও সময়মতো গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না।
সরকার নির্ধারিত ১২ কেজি এলপিজি গ্যাসের দাম ১ হাজার ৩০৬ টাকা হলেও ডিলার পয়েন্ট থেকে তা কিনতে হচ্ছে অতিরিক্ত ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা বেশি দামে।
কুড়িগ্রাম সদরের এমোহনী এলাকার বাসিন্দা মাসুদ রানা বলেন,
“গত কয়েক দিন ধরে গ্যাস সিলিন্ডারের দাম অনেক বেড়ে গেছে। কিনতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। কিন্তু রান্না তো বন্ধ রাখা যায় না—না কিনে উপায় নেই।”
কুড়িগ্রাম পৌরসভার বাসিন্দা রতন চন্দ্র জানান,
“শহরে বসবাস করলেও গ্যাস সংকটের কারণে পরিবারের রান্নাবান্নায় ভীষণ সমস্যা হচ্ছে। মাঝে মাঝে টাকা দিয়েও গ্যাস সিলিন্ডার পাওয়া যায় না।”
এ সংকটের প্রভাব পড়েছে ব্যবসা-বাণিজ্যেও। শহরের প্রাণকেন্দ্র শাপলা চত্বরে অবস্থিত জান্নাত হোটেলের মালিক মুন্না বলেন,
“গ্যাসের দাম বেড়েছে, কিন্তু সেই অনুপাতে খাবারের দাম বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। এতে ব্যবসায় লোকসান গুনতে হচ্ছে।”
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম শহরের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও যমুনা গ্যাসের ডিলার বদরুল আহসান মামুন জানান,
“চাহিদার তুলনায় গ্যাসের সরবরাহ কম থাকায় এই সংকট তৈরি হয়েছে। ক্রয়মূল্যের সঙ্গে পরিবহন খরচ ও স্বাভাবিক মুনাফা যোগ করেই বিক্রি করছি। এ কারণেই আগের তুলনায় সিলিন্ডারের দাম বেড়েছে।”
এদিকে গ্যাস সংকটকে কেন্দ্র করে অতিরিক্ত দামে এলপিজি বিক্রি রোধে মাঠে নেমেছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
কুড়িগ্রাম ভোক্তা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. শেখ সাদী বলেন,
“প্রতিদিনই আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে। যারা বাজারে সিন্ডিকেট তৈরি করে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে গ্যাস বিক্রি করছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।”