সামছুল হক, গঙ্গাচড়া প্রতিনিধি
রংপুরের গঙ্গাচড়ায় নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার আখেরুল ইসলাম (৩৫) এর মৃত্যুর ৪০ দিন অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। পুলিশের এই রহস্যজনক নীরবতা ও গাফিলতির প্রতিবাদে এবং খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে আজ মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী।
গত ৮ ডিসেম্বর আনুমানিক রাত ১০:৩০ মিনিটের দিকে গঙ্গাচড়া সদর ইউনিয়নের ভূটকা মধ্যপাড়া এলাকার ডুব্বিরপাড় নামক স্থানে আখেরুল ইসলামকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। ঘটনার দিন তিনি মালিপের বাজার থেকে আটা নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। বাড়ি থেকে মাত্র ২০০ গজ দূরে দুর্বৃত্তরা তার কপালে আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে রাস্তায় ফেলে রেখে যায়। নিহত আখেরুল ইসলাম ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তার মৃত্যুতে তিন সন্তান নিয়ে স্ত্রী এখন দিশেহারা, যার মধ্যে বড় মেয়েটি শারীরিক প্রতিবন্ধী।
আজ ১৭ জানুয়ারি বেলা ১ ঘটিকায় খুনিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে মানববন্ধন করে এলাকাবাসী। মানববন্ধনে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “পুলিশের রহস্যজনক নীরবতা আমাদের হতবাক করেছে। অপরাধীদের শনাক্ত করার বদলে পুলিশ সময়ক্ষেপণ করছে।” এলাকাবাসী আল্টিমেটাম দিয়ে জানান, আগামী ৩ দিনের মধ্যে যদি আসামিদের গ্রেপ্তার করা না হয়, তবে তারা গঙ্গাচড়া থানা ঘেরাও করতে বাধ্য হবেন।
নিহতের ছোট ভাই আক্তারুল ইসলাম প্রশাসনের অসহযোগিতার বর্ণনা করে বলেন –
আমি থানায় অভিযোগ দিতে গেলে তারা ৩ দিনের সময় চায়। এরপর এসপি স্যারের কাছে গেলে তিনি আমার কথা শুনে নিশ্চিত করেন এটি এক্সিডেন্ট নয়, মার্ডার। পোস্টমর্টেম রিপোর্টেও হত্যার প্রমাণ মিলেছে। কিন্তু ৩০ দিন পার হওয়ার পরও কোনো অগ্রগতি নেই। গত সপ্তাহে এসপি স্যারের অফিসে গেলে তারা আমার বোন জামাইকে অপমান করে বের করে দেয় এবং আমাকে বলে যে আমাদের জন্য নাকি তাদের এক সপ্তাহের মুড নষ্ট হয়ে গেছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, পুলিশ মামলাটি গুরুত্বের সাথে নিচ্ছে না এবং যথাযথ রিকুইজিশন পেপার না পাঠানোয় অন্যান্য সংস্থাও কাজ করতে পারছে না। একজন দিনমজুরের খুনিরা প্রভাবশালী হওয়ার কারণেই কি প্রশাসন নীরব?—এমন প্রশ্ন এখন গঙ্গাচড়াবাসীর। পরিবারটির দাবি, অবিলম্বে খুনিদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করা হোক, যাতে আখেরুলের অসহায় সন্তানরা অন্তত ন্যায়বিচারটুকু পায়।