মিজানুর রহমান (বাবুল) সম্পাদক সংবাদ এই সময়।
দেশের বিভিন্ন স্থানে এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে যানবাহন ও স্থাপনায় অগ্নিসংযোগ এবং ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা জনমনে গভীর উদ্বেগ ও আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। গতকাল শনিবার কালের কণ্ঠে প্রকাশিত দুটি প্রতিবেদনেও এর স্পষ্ট চিত্র ফুটে উঠেছে। চার দিনে অন্তত ৩২টি যানবাহনে আগুন এবং বিভিন্ন স্থাপনায় ধ্বংসযজ্ঞ সংঘটিত হয়েছে। এই অবস্থায় মানুষের কর্মস্থলে যাওয়া কিংবা সন্তানদের স্কুলে পাঠানো নিয়েও শঙ্কাজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
রাস্তাঘাট ফাঁকা, পরিবহন অচল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অঘোষিত ছুটি—সব মিলিয়ে জনজীবন যেন ফের অস্থিরতার আবর্তে পড়তে যাচ্ছে।
এই উত্তেজনার কেন্দ্রে রয়েছে আগামী সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার রায় ঘোষণার বিষয়টি। রায়কে ঘিরে সহিংস ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে ১২ নভেম্বর ৩২টি ককটেল বিস্ফোরণ এবং বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনার উল্লেখ আছে।
রায় ঘোষণার দিনটিকে কেন্দ্র করে লকডাউন ও শাটডাউন কর্মসূচি এবং সামাজিক মাধ্যমে নানা জল্পনাকল্পনা পরিস্থিতিকে আরো ঘোলাটে করে তুলেছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আশঙ্কা করছেন, আওয়ামী লীগ এই রায়কে কেন্দ্র করে নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা করতে পারে, যা সাধারণ মানুষকে চরম উৎকণ্ঠায় ফেলেছে।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচির দিনটি ছিল জনসাধারণের কাছে আতঙ্কের প্রতীকস্বরূপ। বিভিন্ন স্থানে আগুন, গাছ ফেলে সড়ক অবরোধ, রেলপথে নাশকতা—এসবের ফলে জনজীবন প্রায় অচল হয়ে পড়ে।
দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া এবং পদ্মা সেতু এলাকায় দীর্ঘ যানজট ইঙ্গিত দেয় সহিংসতার পরিকল্পনা ছিল সুসংগঠিত। বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব শঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে আওয়ামী লীগের লকডাউন ও অগ্নিসংযোগের সঙ্গে নির্বাচন চায় না এমন মহল জড়িত থাকতে পারে।
রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা যদি সহিংসতার প্রতিযোগিতায় রূপ নেয়, তবে তার খেসারত দিতে হয় সাধারণ মানুষকে। যেমন—মিরপুরে বাসে আগুনের ঘটনায় ধাওয়া খেয়ে নদীতে ডুবে এক তরুণের মৃত্যু কিংবা মানিকগঞ্জে বাসে আগুনে ঘুমন্ত চালকের দগ্ধ হওয়া। রায়ের দিনকে কেন্দ্র করে যদি আরো অরাজকতা সৃষ্টি হয়, তবে অর্থনীতি, শিক্ষা, যোগাযোগ—সব ক্ষেত্রেই তার ভয়াবহ প্রভাব পড়বে।
এ সময় রাজনৈতিক নেতৃত্বের উচিত সহিংসতা পরিহার করে দায়িত্বশীল আচরণ করা, সাময়িক রাজনৈতিক লাভের আশায় দেশকে অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে না দেওয়া। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং নিরাপত্তা বাহিনীর পেশাদারি ভূমিকা নিশ্চিত করা জরুরি।