মুফতি উমর ফারুক আশিকী
এই নির্দেশনাটি আল্লাহতায়ালার এক রহমত। মানুষ আল্লাহর নির্দেশের ততটুটু পালন করতে হবে যতটুকু করতে সে সক্ষম। আর যা করতে সক্ষম নয় তা তার ওপর থেকে মাফ হয়ে যাবে। যেমনটি আল্লাহতায়ালা বলেন, অতএব আল্লাহকে ভয় করো, যতটুকু সাধ্যে কুলোয়…। (সুরা তাগাবুন: ১৬)। অপর আয়াতে আছে, আল্লাহ কারও ওপর এমন কোনো দায়িত্ব অর্পণ করেন না, যা তার সাধ্যাতীত। (সুরা বাকারাহ: ২৮৬)। করণীয় কাজ ততটুকু পালন করলেই চলবে, যতটুকু করার সক্ষমতা আছে। কিন্তু বর্জন করতে হবে সব বর্জনীয় জিনিসকেই। কারণ, বর্জন তুলনামূলক সহজ।
এ কারণেই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘তোমাদের যেসব বিষয় থেকে নিষেধ করি সেগুলো থেকে বিরত থাকো।’ এখানে নিজেদের সাধ্য অনুযায়ী বিরত থাকার কথা বলেননি। কারণ, বিরত থাকা সহজ। সবাই বিরত থাকতে পারে। তবে হ্যাঁ, একদম অপারগতার মুহূর্তের ব্যাপার ভিন্ন। যদি কেউ একেবারেই অপারগ হয়ে পড়ে, তখন ‘শরয়ি ছাড়’ হিসেবে সে তা করতে পারবে। যেমন- কারও মৃত প্রাণী খাওয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই। তখন সে জীবন বাঁচিয়ে রাখার প্রয়োজনে তা খেতে পারবে।
উক্ত হাদিসে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দ্বীনি বিষয়ে অপ্রয়োজনীয় প্রশ্ন করা থেকে সতর্ক করেছেন এবং এ বিষয়ে পূর্ববর্তী জাতিদের পরিণাম তুলে ধরেছেন। এর কারণ হলো, অতিরিক্ত প্রশ্ন করলে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে জটিলতা ও সংকীর্ণতা বেড়ে যায়। ফলত এই প্রশ্নকারী ব্যক্তি দিনশেষে আনুগত্যই ছেড়ে দেয়। পবিত্র কোরআনে আছে, হে ঈমানদাররা, তোমরা এমন সব বিষয়ে প্রশ্ন করো না, যা তোমাদের কাছে প্রকাশ করা হলে তোমাদের অপছন্দ হবে।
আর যদি তোমরা এসব বিষয়ে এমন সময় প্রশ্ন করো যখন কোরআন নাজিল করা হচ্ছে, তাহলে তা তোমাদের কাছে প্রকাশ করে দেওয়া হবে। আল্লাহ সেসব ক্ষমা করে দিয়েছেন। আর আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, সহনশীল। তোমাদের পূর্বে একদল মানুষ এমনসব প্রশ্ন করেছিল, অতঃপর সেসবের প্রত্যাখ্যানকারী হয়ে গেছে। (সুরা মায়িদাহ, ১০১-১০২)
সুতরাং বোঝা গেল, প্রশ্ন করার ক্ষেত্রে কৃত্রিমতার আশ্রয় নেওয়া মানুষকে আনুগত্যহীনতা ও অযাচিত বাড়াবাড়ির দিকে নিয়ে যায়। তাই আমাদের করণীয় হলো, যা আমাদের করতে বলা হয়েছে তা সাধ্যমতো করব। যা করতে নিষেধ করা হয়েছে তা থেকে বিরত থাকব।