1. news@sangbadeisomoy.com : সংবাদ এই সময় : সংবাদ এই সময়
  2. info@www.sangbadeisomoy.com : সংবাদ এইসময় :
সেরে উঠুক গণতন্ত্র, স্বাধীন থাকুক বাংলাদেশ - সংবাদ এইসময়
সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৪:২৯ পূর্বাহ্ন

সেরে উঠুক গণতন্ত্র, স্বাধীন থাকুক বাংলাদেশ

  • প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

অনলাইন ডেস্ক।

ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশে গণতন্ত্রের অপরনাম বেগম খালেদা জিয়া। তিনি এদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক। বাংলাদেশের রাজনীতিতে তিনি এক জীবন্ত কিংবদন্তি। ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ এবং ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তিনি প্রধানমন্ত্রী হিশেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম নারী হিশেবে গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মাধ্যমে তিনবারের প্রধানমন্ত্রী। এটি শুধু তার জন্য নয়, পৃথিবীর বুকে বাংলাদেশের জন্য গৌরবময় ঘটনা। সাথে সাথে তার পুরো-জীবন ও রাজনৈতিক কর্মযজ্ঞ আজও অবিসংবাদিতভাবে গণতন্ত্রের প্রতীক হিশেবে বিবেচিত। কারণ তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন ইতিহাসের এমন সব বাঁক-বদলের সময়ে যখন দেশ সামরিক ও ফ্যাসিবাদি শাসন, স্বৈরাচার ও রাজনৈতিক দমন-নির্যাতন, নিপীড়ন, শোষণ-শাসন, সন্ত্রাসন, গুম, খুন, আয়নাঘরে বন্দী থেকে দেশ পরাধীনতার কালো অন্ধকারে নিমজ্জিত। সেইসব প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে, সংবিধান ও ভোট ব্যবস্থায় সংস্কার এবং সামাজিক-শিক্ষাসহ নানাভাবে তিনি অবদান রেখেছেন। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে তাঁর আপোসহীন বলিষ্ট নেতৃত্বের কারণে তিনি বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে আপোসহীন নেত্রী নামে সতত-স্মরণীয়। দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের বিষয়ে আমরণ লড়াইয়ের কারণে তিনিই ব

সামরিক শাসন ও জনপ্রতিনিধিত্বহীন সময়

স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে ১৯৮২ সালে স্বৈরাচার ও দুর্নীতিগ্রস্থ এরশদের নেতৃত্বে সামরিক অভ্যুত্থান ঘটে এবং দেশে শুরু হয় দীর্ঘ স্বৈরশাসন। ১৯৯০ সাল পর্যন্ত অনেক রাজনৈতিক দল, সংগঠন ও নাগরিক সমাজ প্রতিরোধের চেষ্টা করলেও, স্বৈরশাসন প্রলম্বিত হয়। অনাচার, অত্যাচার, জন-নিপীড়ন ও নজিরবিহীন হামলা-মামলার প্রেক্ষাপটে, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে পথপ্রদর্শনকারী হিশেবে উঠে আসে ম্যাডাম খালেদা জিয়ার নাম। খালেদা জিয়া তাঁর স্বামী বাংলাদেশের সর্বজন-স্বীকৃত সৎ রাষ্ট্র নায়ক ও মহান স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর, ১৯৮২ সালে সাধারণ সদস্যরূপে (বিএনপিতে) যোগদান করেন। এরশাদের স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে তিনি আপোসহীন, দীর্ঘমেয়াদী ও জনপ্রত্যাশার দিকে তাকিয়ে কঠোর আন্দোলনের সূচনা করেন। ১৯৮৩ সালে তিনি ৭-দলীয় জোট গঠন করেন। তার নেতৃত্বে বিএনপি ওই জোটের অন্যতম চালিকাশক্তি ছিলো। এরপর ১৯৮৩ থেকে শুরু হওয়া রাজনৈতিক আন্দোলন, ১৯৮৬ পর্যন্ত পাঁচ দফা এবং ১৯৮৭ সালের ‘এরশাদ হটাও’ আন্দোলনে খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব ছিলো অনিন্দ্য ও অসাধারণভাবে কার্যকর। দীর্ঘ এই সংগ্রামের পরিপ্রেক্ষিতে, ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানে সমন্বিত চাপে এ

প্রথম মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর খালেদা জিয়া ১৯৯১ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর, জাতীয় সংসদে সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনী পাস করেন। এই সংশোধনী বাংলাদেশকে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থায় পুনরুদ্ধার করে, যার ফলে রাষ্ট্রপতি আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রপ্রধান এবং প্রধানমন্ত্রীকে প্রধান নির্বাহী করা হয়। এই সংশোধনীতে উপরাষ্ট্রপতির পদ বিলুপ্ত করা হয়। মন্ত্রিসভা সংসদের কাছে দায়বদ্ধ থাকে এবং প্রধানমন্ত্রীকে নির্বাহী ক্ষমতা প্রদান করা হয়। সংবিধানে এই পরিবর্তন কেবল নিয়ম-রূপান্তরই ছিলো না, এটি ছিলো সামরিক/স্বৈরশাসনভিত্তিক অতীত থেকে গণতন্ত্রভিত্তিক ভবিষ্যতের পথে অগ্রসরের প্রথম পদক্ষেপ। এর ফলে বাংলাদেশ প্রতিটি জনপ্রতিনিধিত্বমূলক নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যায় এবং জনগণের ভোটের শক্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়। এর পাশাপাশি, ১৯৯৬ সালে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার’ ব্যবস্থার প্রবর্তন হয়। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে, নির্বাচনের সময়ে রাজনৈতিক কোন দল সরাসরি প্রশাসন নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি এবং নিরপেক্ষভাবে ভোট নিশ্চিত করার পরিবেশ তৈরি হয়। এটি উৎকৃষ্ট গণতান্ত্রিক ধারার উজ্জ্বল উদাহরণ। এবং এর পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করেছিলেন ম্যাডাম খালেদা জিয়া ও তার সর

দেশের স্বাধীনতা সুরক্ষায় দেশনেত্রী

দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব, সঠিক রাজনীতি ও নেতৃত্বের উপর নির্ভরশীল। সঠিক নির্বাচন ও দেশপ্রেমিক-নেতৃত্ব মূলত গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতার সাথে অঙ্গাঅঙ্গিভাবে জড়িত। গণতন্ত্র শুধু নির্বাচন বা সংবিধান নয়। বরং একটি রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক সংস্কৃতি। এই বিশেষ সংস্কৃতিতে বিরোধিতা, মতবিনিময় এবং রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা স্বাভাবিক। খালেদা জিয়া ও তাঁর দল বিএনপি, সেই বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি গঠন ও সাংগঠনিক ভিত্তি পুনরুদ্ধারে দীর্ঘমেয়াদি কাজ করছেন। ১৯৯৬ সালের পর, যদিও বিএনপি ক্ষমতা হারায়, তবুও তারা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা ও কল্যাণরাষ্ট্র গঠনে বিরোধীদলের কাজ সুচারুরূপে করে যায়। বিরোধী দলের প্রতিনিধি হিশেবে সংসদীয় কাজ, জনমত গঠন এবং সরকারের সমালোচনার কাজ করে। এই অর্থে, খালেদা জিয়া শুধু ক্ষমতায় থাকার সময়ই নয়, ক্ষমতা হারানোর পরেও বিএনপি ও বিরোধী দল হিশেবে বাংলাদেশের বহুদলীয় গণতন্ত্রকে ধরে রাখার আপোসহীন সংগ্রাম করেছেন।

আপোসহীন সংগ্রাম ও ভয়াবহ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা

কোন দেশেই কোন গণতান্ত্রিক যাত্রাই সহজ নয়। খালেদা জিয়া এবং তার দল বহু চ্যালেঞ্জ, জেল-জুলুম, সংকট এবং সমালোচনার মুখোমুখি হয়েছেন। তবে, গণতন্ত্রের প্রতি অবিচল আস্থা ও প্রতিশ্রুতি রক্ষার এই যাত্রা কখনো স্তব্ধ হয়নি। রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব, বিচারিক চ্যালেঞ্জ, ক্ষমতার পরীক্ষাসহ নানা বাধা আসে। তবু, তার সংগ্রাম, দূরদৃষ্টি এবং দেশের প্রতি ভালোবাসা, গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতি, সাংবিধানিক মর্যাদা এবং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ তাকে ইতিহাসে এক মহানায়কের অবস্থান নিশ্চিত করে। এমন নেত্রীকে অপমান-অপদস্থ করে স্মৃতিবিজড়িত বাড়ি থেকে ফ্যাসিস্ট সরকার বের করে দেয়, বিনা-অপরাধে কারান্তরীণ করে, হত্যার উদেশ্যে স্লো-পয়জনিং করে, যা আজ তাকে মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড় করেছে। সন্তানকে সুকৌশলে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়। দেশ-নায়ক তারেক রহমানের মেরুদন্ড ভেঙে দেশান্তরী করে। এরপরও মানবতাবাদী এই মহান নেত্রী ২৪ এর ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর জাতিকে শান্ত থাকার অনুরোধ করেন এবং তার উপর ঘটে যাওয়া সকল অপরাধ ক্ষমা করে দেন। এটি তিনি না করলে দেশে লাখ লাখ প্রাণহানী ঘটতে পারতো।

বাংলাদেশ যখনই সংকটে পড়েছে তখনই খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব এবং সংগ্রাম রাজনীতি, সংবিধান, সমাজ, এবং সাধারণ মানুষের নতুন আলো ও নতুন প্রত্যাশার পথ দেখিয়েছে। ম্যাডাম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে উত্থান-পতন, সমালোচনা ও প্রশংসা সবই ছিলো। কিন্তু ইতিহাসে তাঁর যে স্থান, সেটি কেবল একটি রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিশেবে নয়; বরং, যুগ-শতাব্দী, গণ-আন্দোলন এবং স্বাধীন-সার্বভৗম রাষ্ট্র ব্যবস্থার সুনিপুণ প্রতিফলন। যেই নেত্রী সংকটে জনতার সারিতে উপস্থিত হয়েছেন, সেই নেত্রীর জীবন আজ সংকটাপন্ন। বাংলাদেশ ও গণতন্ত্রই যেন আজ সংকটে। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা: হে আল্লাহ, এই যাত্রায় বংলাদেশের মানুষের কাছে ম্যাডামকে ভিক্ষা দিয়ে যান। সেরে উঠুক দেশনেত্রী, জেগে উঠুক বাংলাদেশ। তাহলেই স্বাধীন-সর্বভৌম দেশে হবে মানবিক-সূর্যোদয়।

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০৩১  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট