নুসরাত ফারিয়া। ছবি: ফেসবুক
সারা বছরই শোবিজের কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটে। মাঝে মধ্যে একটু ফুসরত খুঁজি লোকালয় ছেড়ে দূরে কোথাও বেড়াতে যেতে। এবার গিয়েছিলাম তুরস্কের ইস্তাম্বুল প্রদেশে। বেশ আনন্দময় সময় কেটেছে। শহরটিতে প্রথম পা রাখার মুহূর্তেই মনে হয়েছিল, আমি যেন ইতিহাসের এক জীবন্ত জাদুঘরে ঢুকে পড়েছি। এই শহরটিকে নিয়ে অনেক গল্প শুনেছি। সরাসরি চোখে দেখার অভিজ্ঞতা যেন আরও গভীর, আরও মোহময়।
ইউরোপ আর এশিয়া দুই মহাদেশের মাঝখানে দাঁড়িয়ে ইস্তাম্বুল এক অদ্ভুত জাদুকরী ভারসাম্য ধরে রেখেছে। সেই বৈচিত্র্যের সৌন্দর্য আমাকে প্রথম দিন থেকেই মুগ্ধ করেছে।
আমি যে হোটেলে উঠেছিলাম, সেখানকার জানালা খুললেই দেখা মিলত বসফরাস প্রণালির নীল জলরাশি। ভোরে সূর্যের আলো পানির ওপর পড়ে এমন এক রূপ তৈরি করত, যা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। কাজের ব্যস্ততার মাঝেই প্রথম দিন ঠিক করলাম শহরটিকে হাঁটতে হাঁটতে অনুভব করতে চাই। তাই রওনা দিলাম সুলতান আহমেতের পথে। ব্লু মস্ক আর হায়া সোফিয়ার সামনে দাঁড়িয়ে মনে হলো এখানে দাঁড়ানো মানেই শত শত বছরের ইতিহাসের সঙ্গে সরাসরি কথা বলা।
হায়া সোফিয়ার ভেতরে ঢুকে যখন মাথার ওপর বিশাল গম্বুজটা দেখলাম, তখন কয়েক মুহূর্ত যেমন নিঃশব্দ হয়ে গিয়েছিলাম। বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকের ভিড়, তবু যেন চারপাশে এক ধরনের নীরব আধ্যাত্মিকতা বিরাজ করছিল। আমি নিজেকে খুব ছোট মনে করছিলাম, আবার সেই ছোট্ট হওয়াটাই যেন এক ধরনের পূর্ণতা দিচ্ছিল। গ্র্যান্ড বাজারের রঙিন কার্পেট, তুর্কি ল্যাম্প, পুরোনো অলংকার, মশলার গন্ধ–সব মিলিয়ে যেন এক শিল্পের দুনিয়া।
এখানকার মানুষ খুবই আন্তরিক। আমার ছবি দেখে কয়েকজন চিনতে পেরেও খুব বিনয়ের সঙ্গে কথা বললেন। এক কাপ টার্কিশ চা হাতে নিয়ে আমি বাজারের ভেতর কিছু সময় একা হাঁটলাম। এই শহরের প্রাণ যেন ঠিক এভাবেই ছন্দ তোলে। কোনো জায়গায় গেলে সেখানের দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে ঘুরে দেখার চেষ্টা করি। সেখানকার স্থানীয় খাবার আমার চাই। ঘুরে ঘুরে স্থানীয় খাবারগুলো খেয়েছি।
সুন্দর স্থানগুলোর কিছু ছবি তুলেছি। স্মৃতি ধরে রাখার জন্য ছবি তোলা জরুরি মনে হয়েছিল। বসফরাস ক্রুজে ওঠার মুহূর্তটাও ছিল স্মরণীয়। সমুদ্রের হাওয়ার স্পর্শ, দূরে দুটি মহাদেশকে যুক্ত করে রাখা ব্রিজগুলো, আলো-ছায়ার খেলায় সাজানো পুরো শহর সব মিলিয়ে মনে হচ্ছিল, আমি যেন কোনো সিনেমার দৃশ্যের মধ্যেই আছি।
ইস্তাম্বুল আমাকে শিখিয়েছে একটি শহর সৌন্দর্যের মাধ্যমে নয়, তার ইতিহাস, মানুষের উষ্ণতা, খাবারের স্বাদ আর সংস্কৃতির গভীরতা দিয়েই মনে জায়গা করে নেয়।
কাজের ফাঁকে এমন একটি শহরে কিছুটা সময় কাটানো শুধু ভ্রমণ নয়, নিজেকে নতুন করে খুঁজে পাওয়ার অভিজ্ঞতাও বটে। ইস্তাম্বুল, তুমি সত্যিই অনন্য। আবারও সময় সুযোগ পেলে এখানে আসার ইচ্ছা রয়েছে।
লেখক: নুসরাত ফারিয়া, মডেল ও অভিনেত্রী