তানিয়া বৃষ্টি। ছবি: ফেসবুক
বুলবুল ফাহিম
তানিয়া বৃষ্টি। অভিনেত্রী ও মডেল। নাটকের পরিচিত মুখ হলেও ২০১৫ সালে আকরাম খানের ‘ঘাসফুল’-এর মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় তাঁর। এরপর আরও সিনেমায় অভিনয় করেন। এরপর আবার নাটকে নিয়মিত। সম্প্রতি নতুন সিনেমার শুটিং করছেন তিনি। ‘ট্রাইব্যুনাল’ নামে সিনেমাটি আগামী ঈদুল ফিতরে মুক্তি পাবে। নাটকে অভিনয় ও সিনেমায় নতুন করে যাত্রা। এসব নিয়েই কথা হয় তাঁর সঙ্গে।
শোবিজে পথচলা শুরু সেই ২০১২ সালে। বলতে গেলে দীর্ঘদিন। প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি নিয়ে কেমন গেল এতগুলো বছর?
এককথায় দারুণ। যাত্রাটা সেই ২০১২ সালে হলেও মনে হয় সেদিনই শুরু করলাম। প্রতিদিন যখন কাজে যাই, তখন মনে হয় আজ থেকেই কাজ শুরু করছি। আর প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির হিসাব এখনও মাথায় আসে না। যদি বলতে হয় তাহলে বলব, পুরোটাই তো প্রাপ্তি। মানুষের ভালোবাসা পাচ্ছি এসবের চেয়ে আর বড় প্রাপ্তি কী?
সিনেমায় আপনার অভিষেক হয় ২০১৫ সালে। নিয়মিত হলে কিন্তু এখন সিনেমার জনপ্রিয় নায়িকা থাকতেন…
এখনও তো কম ভালোবাসা পাচ্ছি না। তখন তো বলতে গেলে অনেক ছোট ছিলাম। তখন কিন্তু গল্পের কারণেই সিনেমায় অভিনয় করেছিলাম। তবে নিয়মিত আর হওয়া হয়নি। সেটা নানা কারণেই হয়নি। বড় ক্যানভাসে নিয়মিত সাহসও হয়নি।
সাহস কেন হয়নি?
ভিট চ্যানেলআই টপ মডেল হওয়ার পর তাদের সঙ্গে সিনেমার চুক্তি হয়েছিল। তখন মনে হয়েছিল, খুব সহজ হবে। পরে বুঝলাম, সিনেমা অনেক বড় ক্যানভাস। এখানে টিকে থাকতে গেলে যোগ্যতা, প্রস্তুতি– সবকিছুই লাগবে। তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, নিজেকে আগে তৈরি করতে হবে। সেই প্রস্তুতিটাই নিয়েছি ছোট পর্দায় কাজ করে। এই আট-দশ বছরে আমি নিজেকে সিনেমার জন্যই গড়েছি।
এত বছর পর আবার সিনেমায় ফেরা– কেমন লাগছে?
গত কয়েক বছরে আমাকে প্রায়ই প্রশ্ন করা হতো– আবার কি সিনেমায় ফিরছি? আমি কি বড় পর্দায় অভিনয় করব? এখন আর আলাদা করে কিছু বলার নেই। ‘ট্রাইব্যুনাল’-এর মাধ্যমে ফিরছি– এটাই উত্তর। অনেক দিন পর হলেও যেন ঠিক সময়ে ফিরেছি।
ছোট পর্দায় আপনার জনপ্রিয়তা অনেক। এখন নাটকে কম সময় দিতে পারবেন?
সত্যি কথা বলতে, এক সময় মাসে ১০-১৫টি নাটক প্রচার হতো আমার। এখন সিনেমায় ব্যস্ত থাকায় সে রকম সময় দিতে পারছি না। কিন্তু নাটক ছাড়া আমার পথচলার গল্প অসম্পূর্ণ। দর্শক আমাকে নাটকের মাধ্যমেই চিনেছেন। তাই সিনেমা করছি বলে নাটক ছাড়ব– এমনটা কখনোই নয়। তবে বেছে বেছে কাজ করব।
‘ট্রাইব্যুনাল’-এর চরিত্রের জন্য বিশেষ প্রস্তুতির কথা বললেন। কীভাবে প্রস্তুতি নিয়েছেন?
শুটিংয়ের আগে এক মাস ধরে নিয়মিত তারিক আনাম খানের কাছে রিহার্সেল করেছি। ছবিটি সত্য ঘটনা অবলম্বনে তৈরি, যেখানে ন্যায়বিচার, নৈতিকতা আর প্রতিটি রায়ের আড়ালে থাকা রাজনীতির গল্প আছে। নির্মাতা আমাকে যে চরিত্রটি দিয়েছেন, সেটিকে সত্যিকারভাবে অনুভব করতে ফিল্ডে গিয়েছি, হাসপাতালে রোগীদের সঙ্গে কথা বলেছি। চরিত্রের ব্যথা ও বাস্তবতা বোঝার চেষ্টা করেছি।