মিজানুর রহমান(বাবুল) সম্পাদক সংবাদ এই সময়।
আজ ১৬ ডিসেম্বর, মহান বিজয় দিবস। বাঙালি জাতির হাজার বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে আনন্দের ও গৌরবের দিন, সবচেয়ে বেশি অহংকারের দিন এই ১৬ ডিসেম্বর। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়েছিল। আর বিজয়ের আনন্দে মেতে উঠেছিল পুরো বাংলাদেশ।
আজ আমরা সেই মহান বিজয়ের ৫৫তম বর্ষ উদযাপন করছি। মুক্তিযুদ্ধকে চেতনায় ধারণ করে এগিয়ে চলেছি।
মহান বিজয় দিবসে আমরা স্মরণ করছি সেই সব বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদকে, যাঁরা নিজেদের প্রাণের বিনিময়ে আমাদের এই লাল-সবুজের পতাকা দিয়েছেন। স্মরণ করছি দেশমাতৃকার জন্য প্রাণ দান করা ৩০ লাখ শহীদকে, যাঁরা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসরদের নির্মমতা ও প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন।
স্মরণ করছি অকুতোভয় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের, যাঁরা জীবনের মায়া ত্যাগ করে লড়াই করেছেন পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে। স্মরণ করছি সেই সময়ের কোটি কোটি মানুষকে, যাঁরা হানাদার বাহিনীর অত্যাচার-নিপীড়ন সহ্য করেছেন, ঘরবাড়ি ছেড়ে পরবাসী হয়েছেন, বনে-জঙ্গলে রাত কাটিয়েছেন, তার পরও মুক্তিযোদ্ধাদের সর্বতোভাবে সহায়তা করেছেন। তাঁদের সবাই, আমাদের তথা পরবর্তী প্রজন্মের কাছে নমস্য।
বাঙালি জাতি যত দিন বেঁচে থাকবে, মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে গৌরব করবে, অহংকার করবে।
প্রতিটি ১৬ ডিসেম্বরে তারা নতুন করে শপথ নেবে এগিয়ে যাওয়ার, বিশ্বদরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর। এই দিনটি আমাদের কাছে সবচেয়ে প্রিয় দিন, আনন্দের দিন হয়েই থেকে যাবে। কারণ শত সহস্র বছরের পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে ১৯৭১ সালের এই দিনটিতেই বাঙালি জাতি প্রথমবার প্রকৃত স্বাধীনতার স্বাদ অনুভব করেছিল। বিশ্বের মানচিত্রে একটি গর্বিত জাতি হিসেবে নিজেদের স্থান করে নিয়েছিল।
আমাদের মনে রাখতে হবে, এই বিজয় এমনি এমনি আসেনি।
এর জন্য আমাদের অনেক মূল্য দিতে হয়েছে। অনেক রক্ত দিতে হয়েছে। অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে। সর্বশেষ যে পাকিস্তানি শাসকরা আমাদের পদানত করে রেখেছিল, তাদের সেই শৃঙ্খল ভাঙার কাজটিও সহজ ছিল না। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে উনসত্তরের গণ-আন্দোলন, সত্তরের নির্বাচন, একাত্তরের শুরুতে অসহযোগ আন্দোলনসহ অনেক আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আমাদের সেই মুক্তির ক্ষেত্র তৈরি করে নিতে হয়েছিল। আর সে ক্ষেত্রে আমরা ঋণী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক, তাজউদ্দীন আহমদসহ সে সময়ের আরো অনেক নেতা-নেত্রীর কাছে।
একাত্তরে পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে হাত মিলিয়েছিল এ দেশেরই কিছু কুলাঙ্গার। রাজাকার, আলবদর, আলশামসের মতো বাহিনী করে তারা পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পক্ষে এবং মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে। ওরা সেদিন জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান শত শত বুদ্ধিজীবীসহ নিরীহ বাঙালি হত্যায় মেতে উঠেছিল। পাকিস্তানিরা পরাজিত হয়ে ফিরে গেলেও তাদের দোসররা এ দেশেই থেকে গেছে। স্বাধীনতার পাঁচ দশক পরও তাদের ষড়যন্ত্র থেমে নেই, একের পর এক ষড়যন্ত্র করে চলেছে। অনেক বিদেশি অপশক্তিও তাদের মদদ জোগাচ্ছে। বিজয় দিবসে আমাদের নতুন করে শপথ নিতে হবে, অপশক্তির সব ষড়যন্ত্রের মূলোৎপাটন করে মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্য ও চেতনায় বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হবে।