হাবিবুর রহমান সুজন।
সাজেক—উৎসবের রঙে, স্লোগানের প্রতিধ্বনিতে আর জনতার উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে পাহাড়ি জনপদ সাজেক। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বিজয়কে কেন্দ্র করে আয়োজিত এই বিজয় উদযাপন অনুষ্ঠানে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ঢল নামে। আয়োজনে নেতৃত্ব দেয় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলো।
অনুষ্ঠানের শুরু থেকেই বাঘাইহাট বাজার এলাকা থেকে আশপাশের গ্রামগুলো পর্যন্ত ছিল মানুষের ভিড়। দলীয় পতাকা, ব্যানার-ফেস্টুন, স্লোগান আর করতালিতে পুরো এলাকা পরিণত হয় উৎসবস্থলে। পাহাড়ি পরিবেশে রাজনৈতিক উৎসবের এই দৃশ্য স্থানীয়দের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করে।
নেতৃত্বের কণ্ঠে বিজয়ের বার্তা
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, “এই বিজয় শুধু দলের নয়, এটি জনগণের বিজয়। মানুষের অধিকার, ন্যায়বিচার ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে এই সাফল্য নতুন প্রেরণা যোগাবে।” তিনি নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থেকে শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইসমাইল হোসেন বলেন, “সাজেকের সাধারণ মানুষ আজ প্রমাণ করেছে—তারা গণতন্ত্রের পক্ষে, উন্নয়ন ও ন্যায়ের পক্ষে।” তিনি পাহাড়ি অঞ্চলের যোগাযোগ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে দলীয় পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন।
অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের সক্রিয় অংশগ্রহণ
যুবদলের সভাপতি মোহাম্মদ মামুনুর রশীদ মামুন তার বক্তব্যে তরুণদের ভূমিকার কথা তুলে ধরে বলেন, “যুবসমাজই পরিবর্তনের চালিকাশক্তি। এই বিজয় আমাদের দায়িত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।”
যুবদলের সাধারণ সম্পাদক রাজিম উদ্দিন সোহাগ বলেন, “রাজনীতি মানে মানুষের পাশে দাঁড়ানো—এই নীতিতেই আমরা এগোতে চাই।”
সাজেক থানা ছাত্র দলের সভাপতি মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম(মানিক) তাঁর বক্তব্যে বলেন, “১৬ ডিসেম্বর আমাদের জাতির গৌরবের দিন। দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত এই বিজয় আমাদের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও আত্মমর্যাদার প্রতীক। লাখো শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত এই স্বাধীনতা রক্ষা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।” তিনি নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানার আহ্বান জানান এবং দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশ গঠনে আত্মনিয়োগ করার আহ্বান করেন।
সাজেক থানা ছাত্র দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান (সাদ্দাম) তাঁর বক্তব্যে বলেন, “বিজয় দিবস শুধু আনন্দের নয়, এটি আত্মসমালোচনা ও অঙ্গীকারের দিন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলাই হবে শহীদদের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা।” তিনি গণতন্ত্র, সুশাসন ও সামাজিক ঐক্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
শ্রমিক দলের সভাপতি বাদশা আলম বাবলা শ্রমজীবী মানুষের অধিকার রক্ষায় সংগঠনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম পলাশ সামাজিক সেবামূলক কার্যক্রম জোরদারের কথা বলেন। তাঁতি দলের সাধারণ সম্পাদক মোঃ হাকিম স্থানীয় ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও তাঁতশিল্পের উন্নয়নে দলীয় উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন।
জনতার অংশগ্রহণ ও উৎসবমুখর পরিবেশ
অনুষ্ঠানে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। নারী-পুরুষ, তরুণ-প্রবীণ—সবার উপস্থিতিতে সাজেক যেন পরিণত হয় এক গণমিলনমেলায়। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শৃঙ্খলা বজায় রেখে অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়, যা স্থানীয়দের প্রশংসা কুড়িয়েছে।
সামনের পথচলার অঙ্গীকার
বক্তারা একযোগে বলেন, বিজয়ের আনন্দ উদযাপনের পাশাপাশি জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করাই এখন মূল লক্ষ্য। পাহাড়ি অঞ্চলের উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, পর্যটনবান্ধব পরিবেশ রক্ষা এবং সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে দল ও অঙ্গসংগঠনগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করবে।
সব মিলিয়ে, সাজেকে অনুষ্ঠিত এই বিজয় উদযাপন শুধু একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়—এটি ছিল জনতার আশা-আকাঙ্ক্ষা ও ঐক্যের প্রকাশ। উৎসবের আবহে উচ্চারিত অঙ্গীকারগুলো বাস্তবায়িত হলে পাহাড়ি জনপদের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতায় নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।