1. news@sangbadeisomoy.com : সংবাদ এই সময় : সংবাদ এই সময়
  2. info@www.sangbadeisomoy.com : সংবাদ এইসময় :
দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা - সংবাদ এইসময়
সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০১:০২ পূর্বাহ্ন

দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা

  • প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ১১৫ বার পড়া হয়েছে

অনলাইন ডেস্ক।

আমাদের জাতীয় জীবনের একটি শোকাবহ দিন আজ। ১৯৭১ সালের এই দিনে বাংলাদেশের ইতিহাসে সংযোজিত হয়েছিল এক কলঙ্কজনক অধ্যায়। মুক্তিযুদ্ধে আমাদের বিজয়ের প্রাক্কালে দখলদার পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের দোসররা পরাজয় নিশ্চিত জেনে মেতে ওঠে বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডে। প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে তারা হত্যা করে জাতির অনেক কৃতী সন্তানকে। এ হত্যাযজ্ঞের একটি বড় উদ্দেশ্য ছিল বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতা লাভের আগেই মেধাশূন্য করে ফেলা। ২৫ মার্চ নিরস্ত্র বাঙালির ওপর আক্রমণ শুরু করার পর থেকেই পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের দোসররা গণহত্যার পাশাপাশি বেছে বেছে কিছু মানুষকে হত্যা করে, যারা বিবেচিত হতেন দেশের বিশিষ্ট নাগরিক হিসাবে। মুক্তিযুদ্ধের গোটা সময়টায় ঢাকা ছাড়াও বিভিন্ন জেলা শহরে হত্যা করা হয় তাদের। পৈশাচিক হত্যাযজ্ঞের পর হত্যাকারীরা ঢাকার রায়েরবাজার ও মিরপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বুদ্ধিজীবীদের লাশ ফেলে রেখে যায়। ১৬ ডিসেম্বর মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জনের পরপরই তাদের নিকটাত্মীয়রা বধ্যভূমিতে স্বজনদের লাশ খুঁজে পান। বর্বর পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের দোসররা এ দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের নির্যাতন করেছিল পৈশাচিকভাবে। বুদ্ধিজীবীদের লাশজুড়ে ছিল আঘাতের চিহ্ন, তাদের কারও চোখ-হাত-পা বাঁধা, কারও শরীর ক্ষতবিক্ষত। লাশের ক্ষতচিহ্নের কারণে অনেকেই তাদের প্রিয়জনের মৃতদেহ শনাক্ত করতে পারেননি। অনেকের লাশ খুঁজেও পাওয়া যায়নি। বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড পৃথিবীর ইতিহাসে জঘন্যতম বর্বর একটি ঘটনা, যা বিশ্বব্যাপী শান্তিকামী মানুষকে স্তম্ভিত করেছিল। প্রাণ রক্ষার্থে অথবা প্রতিরোধ গড়ে তোলার প্রত্যয়ে অনেক বুদ্ধিজীবী দেশত্যাগ করায় তারা রেহাই পান ওই হত্যাযজ্ঞ থেকে। নয়তো তাদেরও হতে পারত একই পরিণতি।

Advertisement

বুদ্ধিজীবীরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে জনসাধারণকে স্বাধিকারের চেতনায় উদ্বুদ্ধ করে তুলেছিলেন এবং সহায়তা জুগিয়েছিলেন মুক্তিযুদ্ধে। যেসব বিশিষ্ট ব্যক্তিকে আমরা হারিয়েছি, তাদের অধিকাংশই ছিলেন নিজ নিজ ক্ষেত্রে খ্যাতিমান। ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে বাঙালির বিজয় অর্জনের ফলে বিশ্বের মানচিত্রে বাংলাদেশ নামে এক স্বাধীন রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটে। কিন্তু বিজয়ের আনন্দ অনেকটাই বিষাদে পরিণত হয় লাখ লাখ সাধারণ মানুষ ও বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের কারণে। বুদ্ধিজীবীসহ ৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমরা অর্জন করেছি প্রিয় স্বাধীন মাতৃভূমি।

হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়া শহীদ বুদ্ধিজীবীরা তাদের মেধা, সৃজনশীলতা, জ্ঞান ও দক্ষতা দ্বারা স্বাধীন বাংলাদেশকে আরও সমৃদ্ধ করতে পারতেন। দেশের জন্য বড় ধরনের অবদান রাখতে পারতেন। কিন্তু ঘাতকদের নির্মমতায় তারা সেটি পারেননি। এটা নিঃসন্দেহে জাতির জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। শহীদ বুদ্ধিজীবীদের আত্মত্যাগ তখনই সার্থক হবে, যখন আমরা তাদের স্বপ্নের বাস্তবায়ন ঘটাতে পারব। জাতি আজ আত্মত্যাগের মহিমায় ভাস্বর ওইসব মানুষকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ফ্যাসিবাদবিরোধী অভ্যুত্থানে বিজয় অর্জনের পর বুদ্ধিজীবীদের রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব অনেক বেড়ে গেছে। তারা মুক্তিযুদ্ধকালে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তাদের সেই মহান দায়িত্ব পালন করবেন বলে আমাদের প্রত্যাশা। দেশের জন্য আত্মোৎসর্গকারী বুদ্ধিজীবীদের প্রতি রইল আমাদের বিনম্র শ্রদ্ধা।

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট