আবদুল করিম সোহাগ
বিনোদন রিপোর্ট
বরাবরই পারিবারিক গল্পের কদর আমাদের এখানে ছিল। এখনো আছে। ফ্যামিলি ড্রামা সবাই পছন্দ করে। ছোট ছোট খুনসুঁটি, টানাপোড়েন, মিষ্টি মধুর ভালোবাসা প্রতিটি পরিবারেই তো থাকে
মাত্র দুই দিনে ‘কোটিপতি’র ইউটিউব ভিউ প্রায় কোটির কাছাকাছি [৯৮ লাখ]।
আর কোনো নাটকে এমন সাড়া পেয়েছেন?
এক দিনে অর্ধকোটি ভিউ পাওয়া নাটক আমার আছে। তা ছাড়া কোটি ভিউ হওয়া নাটকের সংখ্যাও নেহাত কম নয়। তবে মাত্র দুই দিনে কোটির ঘরে যাওয়া নাটক মনে হয় এটাই প্রথম। সাধারণত প্রথম দিনে ভিউ যেটা আসে দ্বিতীয় দিনে সেটার রেশ কমে যায়।
‘কোটিপতি’র ক্ষেত্রে সেটা হয়নি। গতকাল দুপুর পর্যন্তই ৯২ লাখ ছাড়িয়েছে [রাত ৮টায় ৯৮ লাখ]। তার মানে রাতেই কোটি ছাড়াবে বলে মনে হচ্ছে।
নাটকটি এতটা সাড়া ফেলবে বুঝতে পেরেছিলেন?
শুরুতে ভাবিনি।
পাণ্ডুলিপি পড়ার পর একটু অন্য রকম গল্প মনে হয়েছিল। তবে শুটিংয়ের সময় মনে হয়েছে, এটা আর দশটা নাটকের মতো নয়। কিছু কিছু জায়গায় দারুণ মোড় রয়েছে। মানুষের সামান্য কিছু টাকা হলেই বাহ্যিক চাকচিক্য বেড়ে যায়। সেখানে একজন কোটিপতি হয়েও সমাজের চোখে, পরিবার, আত্মীয়-স্বজনের কাছে নিজেকে মধ্যবিত্ত করে রেখেছে।
একমাত্র মেয়ে, বাবা-মাকেও বুঝতে দেয় না তাঁর উন্নত জীবন যাপন করার মতো সামর্থ্য আছে। দেখলাম, দারুণ একটা বার্তা আছে নাটকটিতে। আমি আর জোভানও গল্পটির সঙ্গে মিশে যাওয়ার চেষ্টা করলাম।
কখনো অনেক টাকার মালিক হলে আপনার ভেতরে কী কী পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করেন?
আমার ব্যাপারটা আসলে আলাদা। মানুষ হঠাৎ অনেক টাকা পেয়ে গেলে তার মধ্যে অহংকার চলে আসে। নিজেকে অনেক বড় ভাবা শুরু করে। এ জিনিসটা খুব খারাপ। অনেক টাকার মালিক হলে আমি চাহিদাগুলো পূরণ করার চেষ্টা করব। মানুষের চাহিদার তো শেষ নেই। চেষ্টা করব আমার স্বপ্নগুলো পূরণ করার।
‘এটা আমাদের গল্প’ ধারাবাহিকটিও দারুণ দেখছে দর্শক…
হ্যাঁ। বরাবরই পারিবারিক গল্পের কদর আমাদের এখানে ছিল। এখনো আছে। ফ্যামিলি ড্রামা সবাই পছন্দ করে। ছোট ছোট খুনসুঁটি, টানাপোড়েন, মিষ্টি মধুর ভালোবাসা প্রতিটি পরিবারেই তো থাকে। ফলে এই ধরনের গল্পে দর্শক নিজেদের কানেক্ট করতে পারে সহজে।
নতুন বছর নিয়ে কী পরিকল্পনা?
জীবনটা সুন্দর করে সাজাতে চাই। কাছের প্রিয় মানুষদের নিয়ে আনন্দে বাঁচতে চাই। আর সুস্থ থাকতে চাই।
আপনার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ‘পার্ল বাই পায়েল’ কেমন চলছে?
ব্যবসাটা নতুন। আমার অবসর টাইমের পুরোটা এখানে দেওয়ার চেষ্টা করছি। এমনিতে সব ঠিকঠাক। ব্যবসাটা আসলে ধৈর্যের বিষয়। একদিনেই তো সফলতা আসবে না। ধৈর্য ধরে আছি। সামনে আরো ভালো হোক। হ্যাঁ, দিন দিন কিন্তু ভালো চলছে এটা বলতে হবে।
হাতে নতুন কী কাজ আছে?
কয়েকটি বিজ্ঞাপনচিত্রের কাজ করছি। একক নাটকও আছে বেশ কয়েকটা। সামনে যেহেতু ভালোবাসা দিবস এবং রোজার ঈদ আসছে, দুই উৎসব কেন্দ্র করে আরো অনেক কাজ হবে। আর ‘এটা আমাদের গল্প’ ধারাবাহিকের শুটিং তো নিয়মিত করছিই।
এক দিন বাদেই ইংরেজি নতুন বছর। এবার থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপন করবেন কিভাবে?
পরিবারের সঙ্গে কাটাব। বিজনেসে কিছু সময় দেব। আর বছরের প্রথম দিন পরিবারের সঙ্গে ঢাকার বাইরে কোথাও ঘুরতে যাব।