আবদুল করিম সোহাগ
বিনোদন রিপোর্ট
নদী, পাহাড় আর প্রকৃতির প্রতি আমার টানটা খুব ছোটবেলা থেকেই। শহরের ব্যস্ততা, কৃত্রিম আলো আর যান্ত্রিক জীবনের বাইরে গেলে আমি নিজেকে নতুন করে খুঁজে পাই। ক্যামেরার সামনে যত চরিত্রেই অভিনয় করি না কেন, প্রকৃতির কোলে ফিরলে আমি শুধু তৌসিফ মাহবুবই থাকি–কোনো অভিনয় নেই, কোনো সংলাপ নেই।
নদীর ধারে বসে থাকা আমার জন্য এক ধরনের ধ্যান। বহমান পানির শব্দ আমাকে শেখায় সময় থেমে থাকে না, জীবনের গল্পও নদীর মতোই এগিয়ে চলে। শুটিংয়ের ফাঁকে যখনই সুযোগ পাই, নদীর কাছে চলে যাই। কখনও একা, কখনও কাছের মানুষদের নিয়ে। পাহাড় আমাকে টানে ভিন্নভাবে। পাহাড়ের নীরবতা, দৃঢ়তা আর বিশালতা আমাকে নিজের সীমাবদ্ধতা বুঝতে সাহায্য করে। পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়ালে মনে হয়, জীবনের অনেক সমস্যাই আসলে খুব ছোট।
প্রকৃতি আমার অভিনয়ের শক্তিও বাড়িয়ে দেয়। নদী-পাহাড়ে সময় কাটালে ভেতরের ক্লান্তি ঝরে যায়, নতুন চরিত্রে ঢোকার শক্তি পাই। অনেক সময় চরিত্রের মানসিক অবস্থাও প্রকৃতি থেকেই নিই। কখনও নদীর মতো শান্ত, কখনও পাহাড়ের মতো কঠিন। ছোটপর্দার কাজ আমাকে জনপ্রিয়তা দিয়েছে, পরিচিতি দিয়েছে, কিন্তু প্রকৃতি আমাকে দিয়েছে ভারসাম্য। এই ভারসাম্য না থাকলে অভিনয়ও হয়তো এতটা গভীর হতো না। তাই সুযোগ পেলেই আমি শহর ছেড়ে প্রকৃতির কাছে ছুটে যাই।
আমার বিশ্বাস–নদী, পাহাড় আর প্রকৃতির সঙ্গে সম্পর্কটা শুধু ভ্রমণের নয়, এটি নিজের সঙ্গে নতুন করে পরিচিত হওয়ার এক পথ। যতই ব্যস্ত হই, এই ডাক আমি কখনও উপেক্ষা করতে পারি না। এই প্রকৃতির টানই আমাকে মাটির কাছাকাছি রাখে। গ্রামের পথ, কাঁচা রাস্তা, ভেজা মাটি আর নীল আকাশ আমাকে মনে করিয়ে দেয় আমি কোথা থেকে এসেছি।
দর্শকের ভালোবাসা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি নিজের ভেতরের শান্তিটাও জরুরি। প্রকৃতি সেই শান্তির সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ঠিকানা। গত বছরের শেষের দিকে গিয়েছিলাম শুটিংয়ে। এর ফাঁকেই প্রকৃতির সান্নিধ্যে কাটিয়েছি। ভালোলাগার সেই মুহূর্তগুলো সামাজিক মাধ্যমের বন্ধুদের সঙ্গে ভাগাভাগি করেছি। ফিরে এসে নতুন কাজে ব্যস্ত সময় কাটছে। আবার একটি ফুরসত পেলেই বেরিয়ে পড়ব দূরে কোথাও।