উমংনু মারমা,বান্দরবান।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে না পারলেও বান্দরবানে জামায়াতে ইসলামীর প্রভাব ঠেকাতে এককাট্টা হতে পারে বিএনপি, জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) ও আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষ। নির্বাচন বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে বান্দরবান আসনে বিএনপির জয়ই পাল্লাভারী হতে পারে।
জানা গেছে, বিএনপির পাশাপাশি পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) সরাসরি নির্বাচনে অংশ না নিলেও তাদের সমর্থন যেতে পারে বিএনপি প্রার্থীর দিকে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের এক প্রভাবশালী অংশও জামায়াতের প্রভাব ঠেকাতে নীরব সমর্থন দিতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে।
বান্দরবান আসনের চিত্র
জেলার ভোটের মাঠে সাতটি উপজেলায় বিএনপির ব্যাপক প্রভাব রয়েছে।
রুমা, রোয়াংছড়ি, থানচি ও দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় জেএসএসের জনসমর্থন উল্লেখযোগ্য।
নাইক্ষ্যংছড়িতে সবচেয়ে বেশি জনসমর্থন রয়েছে জামায়াতে ইসলামীর।
স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্র জানায়, বিএনপি থেকে সাবেক সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী ও এনসিপি থেকে আরেক প্রার্থী মাঠে থাকলেও, জেএসএস ও অন্যান্য শক্তির সমর্থন বিএনপির দিকেই ঝুঁকছে।
জেএসএসের একাধিক নেতা জানান, তারা সরাসরি প্রার্থী না দিলেও পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষায় জামায়াতবিরোধী শক্তিকে সমর্থন দেওয়ার বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছেন।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবুল কালাম বলেন,
“কে কাকে সমর্থন দিচ্ছে, তা জনগণ দেখছে। আমরা জনগণের ভোটে বিশ্বাসী।”
এ বিষয়ে বান্দরবান জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ওসমান গণি আজাদের মতে,
“দলের বাইরেও বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তির সমর্থনের কারণে বিএনপি প্রার্থী সাচিং প্রু জেরী বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করবেন।”
সব মিলিয়ে, বান্দরবান আসনে এবারের নির্বাচন হতে যাচ্ছে বহুপক্ষীয় সমীকরণ ও কৌশলগত সমর্থনের এক গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।