মো আবদুল করিম সোহাগ
ঢাকা
দীর্ঘ ২০ বছর ধরে বাংলাদেশি চলচ্চিত্রে নানা রূপে দর্শকের মন জয় করেছেন শামীম খান, যিনি কমেডিয়ান হিসেবে বেশি পরিচিত ‘চিকন আলী’ নামেই। ২০ বছরের ক্যারিয়ারে তিনি ৩০০-এরও বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন এবং দেশের অন্যতম জনপ্রিয় কমেডিয়ান হিসেবে নিজের অবস্থান প্রতিষ্ঠা করেছেন।
যদিও চলচ্চিত্রে তার অবদান সুবিদিত, সম্প্রতি তিনি নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এই ক্ষোভের মূল কারণ হল, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, মেরিল–প্রথম আলো তারকা জরিপ, পরিচালক সমিতি (বিএফডিএ) সহ অন্যান্য বড় পুরস্কার অনুষ্ঠানে কমেডিয়ানদের জন্য আলাদা কোনো ক্যাটাগরি নেই। নায়ক, নায়িকা, ভিলেন, গায়ক–গায়িকার জন্য পুরস্কার থাকলেও কৌতুক অভিনেতাদের অবহেলা করা হয়।
চিকন আলী বলেন, আমরা কমেডিয়ানরা ছবির প্রাণ। তবুও বিভিন্ন অ্যাওয়ার্ডে আমাদেরকে উপেক্ষা করা হয়। এতে ভবিষ্যতের কৌতুক অভিনেতাদের উৎসাহ কমে। আমি একা হলেও প্রতিবাদ করেছি এবং করব। তিনি আরও বলেন, চলচ্চিত্র তার জীবন, তার ধ্যান–জ্ঞান, এবং দর্শকের হৃদয়ে বেঁচে থাকতে চান।
এবার কমেডিয়ান থেকে নায়ক হিসেবে শামীম খান নতুন পদক্ষেপ নিচ্ছেন। তিনি প্রথমবার নায়ক হিসেবে “টেম্পার” ছবিতে হাজির হচ্ছেন, যা মূলত উত্তরবঙ্গের একটি সাংবাদিক পরিবার ও সিন্ডিকেটকে কেন্দ্র করে নির্মিত হবে। ছবিতে থাকবে অভিনয়, নাচ এবং ফাইটের বৈচিত্র, যা বর্তমান প্রজন্মের দর্শক চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
চিকন আলী বলেন, আমি কোনও অ্যাওয়ার্ডের জন্য ছবি বানাইনি। দর্শকের কথা মাথায় রেখে করেছি। টেম্পারকে আন্তর্জাতিক মানের ছবির আদলে তৈরি করছি—যা আমাদের দর্শক ঘরে বসে ইউটিউব বা OTT-এ দেখেন।
তিনি আরও যোগ করেন, “কমেডিয়ান থেকে নায়ক হিসেবে বাংলাদেশি চলচ্চিত্রে সফল হওয়ার উদাহরণ রয়েছে দিলদার ভাই, টেলিসামাদ ভাই, হাসমত ভাই। ভারতের সুনীল, শান্তানাম, ইগো বাবুদের মতো কমেডিয়ানদের অনুপ্রেরণা নিয়ে আমি আমার পথ শুরু করেছি।
চিকন আলী সবশেষে দর্শকদের দোয়া এবং সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি আশ্বাস দেন, “আমরা টেম্পার দিয়ে কোনও দর্শককে হতাশ করব না। সিনেমা হলে বেরিয়ে সবাই বলবে, এতদিন পর সত্যিই মনের মতো একটি ছবি দেখলাম।
শামীম খানের এই নতুন পদক্ষেপ শুধু তারই নয়, অন্যান্য শিল্পী ও কলাকৌশলীদের মাধ্যমে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রকে নতুন রূপ দেওয়ার প্রত্যয়ও বহন করছে।