কাজী নূরনবী নাইস
নওগাঁ প্রতিনিধি
নওগাঁ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের নির্দেশনায়,নওগাঁয় ধান বোঝাই ট্রাক ডাকাতির ঘটনায় আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের ৬ জন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। এসময় ডাকাতি কাজে ব্যবহৃত একটি ট্রাক ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। রোববার দুপুর ১২টায় নওগাঁ পুলিশ সুপার কার্যালয়ে পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানান।
আটকরা হলেন,গাইবান্ধা জেলার শিবপুর গ্রামের মৃত রফিকুল ব্যাপারীর ছেলে আরিফুল ইসলাম আরিফ (৩০), বড় সাতাইল বাতাইল গ্রামের মৃত আব্দুস সাত্তারের ছেলে রফিকুল ইসলাম অপু(৩১), রাজা মিয়ার ছেলে সাজিদুল ইসলাম সবুজ(২৩), পলুপাড়া গ্রামের মৃত হাসেন আলীর ছেলে গোলাপ (২৪), বলিদহ গ্রামের ওয়াহেদ আলীর ছেলে লাভলু (২৮) এবং বরিশাল জেলার চরকা কাটা চানপুর গ্রামের মৃত- দেলোয়ার হোসেন শরীফের ছেলে রাকিব হোসেন শরীফ(২৭)।
সংবাদ সম্মেলন পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম বলেন- গত বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দিনাজপুর জেলার বদরগঞ্জ হতে একটি ট্রাকে (ঢাকা মেট্রো-ট, ১৬-০১৩৮) করে ২৫০ বস্তায় (৫০০মন) ধান নিয়ে নওগাঁর দিকে আসছিলো। রাত ২টার দিকে নওগাঁ সদর উপজেলা পাইকপাড়া গ্রামের ফাঁকা রাস্তায় ওই ট্রাকটির সামনে আরেকটি ট্রাক দিয়ে ব্যারিকেড দেয় ডাকাতরা। পরে ট্রাকের চালক মারুফ ও হেলপার শামীমকে মারধোর করে হাত-পা বেঁধে তাদেরসহ ধান বোঝাই ট্রাক নিয়ে অন্যত্র চলে যায়। এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা হয়।
মামলার পর পুলিশ মাঠে নামে। এক পর্যায়ে বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ থানার মোকামতলা তদন্ত কেন্দ্রে একটি ট্রাক ও একজন ব্যক্তিকে সন্দেহজনক ভাবে আটক রেখেছে। তথ্যটি জানার পর জেলা গোয়েন্দা শাখার টীম মোকামতলা তদন্ত কেন্দ্রে গিয়ে আটককৃত ব্যক্তি আরিফুল ইসলাম কে জিজ্ঞাসাবাদ করে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায়। এরপর ডিবি পুলিশ আরিফুল ইসলামকে সাথে নিয়ে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে গাইবান্ধা জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে।
তবে ডাকাত সর্দার সামিউল ইসলাম(৩০) এর ভাড়া বাসা গাজিপুর জেলার কালিয়াকৈর এলাকার দিঘীরপাড়ে অভিযান পরিচালনা করা হলে ডিবি পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আগেই সটকে পড়ে। তবে তার ভাড়া করা বাসা থেকে ডাকাতি হওয়া বোঝাইকৃত ট্রাকটির কাগজপত্র পাওয়া যায়। অভিযানে গাইবান্ধা ও সাভার থেকে আরো ৫ডাকাত সদস্যকে আটক করা হয়। এসময় ডাকাতি কাজে ব্যবহৃত একটি ট্রাক ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনার সাথে আরো যারা সংশ্লিষ্ট আছে তদন্ত সাপেক্ষে তাদের গ্রেফতার করা হবে। এছাড়া লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারের প্রক্রিয়া চলমান থাকবে বলে জানান পুলিশ সুপার।