এবি এম জিয়াউল হক টিটু
শরীয়তপুর প্রতিনিধি
শরীয়তপুরের নড়িয়ায় চাঞ্চল্যকর জয়নাল সরদার হত্যা মামলার মূল হোতা সুরেশ্বর দরবার শরীফের পীর তৌহিদুল হোসাইন শাহীন নূরীকে (৪৯) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (৪ মার্চ) ভোররাতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্রের সরঞ্জাম, কার্তুজ ও ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত বছরের (২০২৫ সালের) ২৩ অক্টোবর দুপুরে খাবার খেয়ে বিকেল ৪টার দিকে রিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন জয়নাল সরদার। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মায়ের ওষুধ দিয়ে তিনি পুনরায় রিকশা নিয়ে বের হন। এরপর রাতে আর বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। স্থানীয় একটি গ্যারেজে রিকশাটি পাওয়া গেলেও তার কোনো সন্ধান মেলেনি।
পরদিন ২৪ অক্টোবর বিকেল ৪টার দিকে নড়িয়া উপজেলার ঘড়িষার ইউনিয়নের আটপাড়া এলাকায় হাবিবুর রহমানের বাড়ির সামনের পুকুরে একটি ভাসমান প্লাস্টিকের বস্তা দেখতে পান স্থানীয়রা। দুর্গন্ধ বের হলে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বস্তার মুখ খুলে জয়নাল সরদারের মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় ২৫ অক্টোবর নিহতের মেয়ে ঈশা আক্তার বাদী হয়ে নড়িয়া থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. রবিউল হক সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করে দুজনকে শনাক্ত করেন। প্রথমে মুন্সীগঞ্জ থেকে মো. রবিন শেখ (৩২) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা হিসেবে ঘড়িষার ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সুরেশ্বর দরবার শরীফের মৃত শাহ বেলায়েত হোসাইন নূরীর ছেলে তৌহিদুল হোসাইন শাহীন নূরীকে শনাক্ত করে পুলিশ।
এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার (৪ মার্চ) রাত ৩টা ৫ মিনিটের দিকে অভিযান চালিয়ে শাহীন নূরীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার হেফাজত থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি চাকু, শটগানের ১৩৩টি কার্তুজ, শটগানের বিভিন্ন অংশ ও একটি বক্স, ২টি স্লিংশট রাইফেল, ৪টি ওয়াকিটকি সেট, ৬টি হার্ডড্রাইভ, ১টি এসএসডি, ১টি ডিভিআর এবং ৭টি মোবাইল ফোন (৩টি অ্যান্ড্রয়েড ও ৪টি বাটন) উদ্ধার করা হয়।
এ বিষয়ে নড়িয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ড. আশিক মাহমুদ গনমাধ্যেমকে বলেন, “গত ২৫ অক্টোবর দায়ের হওয়া ক্লুলেস এ হত্যা মামলাটির তদন্তে নেমে আমরা সুরেশ্বর দরবার শরীফের সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই করি। একটি ফুটেজে নিহত জয়নালকে পীর সাহেবের ঘরে ঢুকতে দেখা যায়, কিন্তু তার বের হওয়ার কোনো দৃশ্য ছিল না। বেশ কিছুক্ষণ পর হুজুরের গাড়ি বের হতে দেখা যায়। সেই গাড়ির সূত্র ধরে আমরা দ্বিতীয় আসামি রবিন শেখকে মুন্সীগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করি।”
তিনি আরও বলেন, “রবিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই বুধবার ভোরে মূল হোতা শাহীন নূরীকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে অবৈধ অস্ত্র ও অস্ত্রসদৃশ একাধিক সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং মামলার তদন্ত অব্যাহত আছে।”