1. news@sangbadeisomoy.com : সংবাদ এই সময় : সংবাদ এই সময়
  2. info@www.sangbadeisomoy.com : সংবাদ এইসময় :
‎৯ মাস ক্লাসে না এসেও সরকারি বেতন তুলেছেন মাদ্রাসা শিক্ষক - সংবাদ এইসময়
সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ০৯:০৮ অপরাহ্ন

‎৯ মাস ক্লাসে না এসেও সরকারি বেতন তুলেছেন মাদ্রাসা শিক্ষক

  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০২৬
  • ৩৯ বার পড়া হয়েছে

জিহাদুল ইসলাম (জিহাদ)
স্টাফ রিপোর্টার



‎লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় একটি কামিল মাদ্রাসার এক সহকারী শিক্ষক দীর্ঘ নয় মাস ধরে ক্লাসে অনুপস্থিত থেকেও নিয়মিত সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলন করেছেন—এমন অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মাদ্রাসার অধ্যক্ষের ভূমিকা নিয়েও স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

‎অভিযোগের মুখে থাকা শিক্ষক হলেন রায়পুর উপজেলার হায়দরগঞ্জ তাহেরিয়া আর এম কামিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক (গণিত) মান্জুর আহমদ। অভিযোগ রয়েছে, তিনি অসুস্থতাসহ বিভিন্ন অজুহাতে গত বছরের মে মাস থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত টানা নয় মাস মাদ্রাসায় কোনো ক্লাস নেননি। অথচ ওই সময়ের মধ্যে নিয়মিতভাবে সরকারি অংশের বেতন-ভাতা উত্তোলন করেছেন এবং মাদ্রাসা থেকে আনুষঙ্গিক সব সুযোগ-সুবিধাও ভোগ করেছেন।

‎মাদ্রাসা সূত্রে জানা গেছে, প্রয়োজনীয় অনুমোদনের মাধ্যমেই তিনি প্রতি মাসে বেতন উত্তোলন করেছেন। এ ক্ষেত্রে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল আজিজ মজুমদারের সঙ্গে যোগসাজশ থাকার অভিযোগ উঠেছে।

‎স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত শিক্ষকের মাসিক বেতন প্রায় ২৭৩৬৪ হাজার টাকা। সে হিসাবে নয় মাসে প্রায় দুই লাখ ৩৫ হাজার টাকা সরকারি অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে, যা গুরুতর অনিয়ম বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

‎এক অভিভাবক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
‎“আমার মেয়ে ওই মাদ্রাসায় পড়ে। চলতি শিক্ষাবর্ষে একবারও মান্জুর আহমদকে ক্লাসে আসতে দেখিনি। তাহলে তিনি কীভাবে নিয়মিত বেতন পান? নিশ্চয়ই এর পেছনে কর্তৃপক্ষের ভেতরে কোনো গোপন সমঝোতা রয়েছে।”

‎এক শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
‎“গণিত বিষয়ের শিক্ষক না থাকার কারণে আমাদের ব্যাচের প্রায় ২৭ জন শিক্ষার্থী গনিত বিষয়ে ফেল করেছে। এর দায় কে নেবে—শিক্ষক নাকি প্রতিষ্ঠান? এই প্রশ্ন আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে রাখতে চাই।” তিনি সব সময় বাজারে ঘোরাঘুরি করে। তিনি দুইটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন। এবং কি তার স্ত্রীকে নিয়ে প্রতিদিন হায়দর গঞ্জ গার্লস স্কুলে নিয়ে আসেন।

‎মাদ্রাসার একাধিক শিক্ষক ও কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, অভিযুক্ত শিক্ষক মাত্র এক মাসের মেডিকেল ছুটি নিলেও পরবর্তী সময়ে দীর্ঘদিন অনুপস্থিত রয়েছেন। এরপরও কর্তৃপক্ষ কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। এতে প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার্থীরা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তারা আরও বলেন, শিক্ষকের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের কোনো বিরোধ বা সমস্যার তথ্য নেই—তাহলে তিনি কেন নিয়মিত মাদ্রাসায় আসছেন না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

‎অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে সহকারী শিক্ষক মান্জুর আহমদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

‎তবে অভিযোগের বিষয়ে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল আজিজ মজুমদার সত্যতা স্বীকার করে বলেন,“ওই শিক্ষক একটি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন। একপর্যায়ে মাদ্রাসায় উত্তেজনা ও মোব সৃষ্টির আশঙ্কা দেখা দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তাকে সাময়িকভাবে মাদ্রাসা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি নিরাপত্তাজনিত কারণে বাড়িতে অবস্থান করছেন।”

‎তিনি আরও বলেন,“শিক্ষকের ব্যক্তিগত নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করে তার বেতন-ভাতা চালু রাখা হয়েছে।”

‎এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তৌহিদুল ইসলাম বলেন,“বিষয়টি আমি এইমাত্র জানলাম। অধ্যক্ষের সঙ্গে কথা বলে বিস্তারিত জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

‎এ ঘটনায় স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকাবাসী নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তারা।

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট