বাগমারা প্রতিনিধি
রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে বিএনপির মনোনয়ন ঘোষণা এক নীরব ঝড় তুলেছে।দলীয় নেতৃত্ব বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও বাগমারা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ডিএম জিয়াউর রহমান জিয়াকে মনোনয়ন দিলেও,জনপ্রিয়তার শীর্ষে অবস্থানকারী অধ্যাপক কামাল হোসেনের মতো ক্লিন ইমেজের প্রার্থীকে বঞ্চিত করার ফলে উপজেলা জুড়ে এক অদম্য প্রতিবাদের ধারা গড়ে উঠেছে।নেতাকর্মীদের মধ্যে অধ্যাপক কামাল হোসেনের প্রতি অটুট আনুগত্য দেখা যাচ্ছে,বিতর্কিত ব্যক্তিকে মনোনয়ন দেয়ায় এই আসনে সম্ভাব্য ভরাডুবির পথ প্রশস্ত করছে বিএনপি।গত ৩ নভেম্বর দলীয় মনোনয়ন ঘোষণার পর থেকেই বাগমারায় বিএনপি’র বিশাল একটা অংশ নীরব ভূমিকা পালন করে।তবে মনোনয়নের পর থেকেই অধ্যাপক কামাল হোসেনের দলীয় কার্যালয়ে তার পক্ষের নেতাকর্মী কার্যালয় প্রতিনিয়ত মিটিং করে আসছে।এদিকে অধ্যাপক কামাল হোসেন না থাকলেও প্রতিবাদের জোয়ার বয়ে যায় ভবানীগঞ্জ অধ্যাপক কামাল হোসেনের অফিস সহ আলুহাটা পর্যন্ত।উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব দীর্ঘদিনের সক্রিয় নেতা অধ্যাপক কামাল হোসেন।তাঁর স্বচ্ছ চরিত্র এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে গভীর যোগাযোগ তাঁকে ‘ধানের শীষের প্রার্থী’ হিসেবে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয়নি।মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে তাঁর জনপ্রিয়তা ছিল অপ্রতিদ্বন্দ্বী,যা দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নীরব প্রতিরোধের ভিত্তি গড়ে তুলেছে। উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন এবং দুটি পৌরসভার নেতৃবৃন্দ এখনো কামাল হোসেনের পক্ষে কাজ করে চলেছেন,যদিও দলীয়ভাবে তাঁকে বাদ দেওয়া হয়েছে।এমনকি বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও এই মনোনয়নের বিরুদ্ধে নীরব ভূমিকা পালন করছেন, যা বাগমারাতে ধানের শীষের প্রার্থীর বিরুদ্ধে এক ‘নীরব ঘাটিতে’ পরিণত করেছে।মনোনয়ন ঘোষণার পর থেকে মনোনীত প্রার্থী জিয়ার প্রচারণায় কোনো উল্লেখযোগ্য গতি দেখা যায়নি। বরং উপজেলা জুড়ে অরাজকতা এবং সহিংসতার ছায়া পড়েছে। রাজশাহী-৪ আসনের মনোনয়নবঞ্চিত প্রার্থীদের স্বজনের বাড়িতে ককটেল হামলা হয়েছে,এবং আরেকজনের দিঘিতে বিষ মিশিয়ে মাছ নিধনের ঘটনা ঘটেছে।এসব ঘটনা জিয়ার সমর্থকদের সঙ্গে যুক্ত বলে স্থানীয় সূত্র জানাচ্ছে,যা রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। গোবিন্দপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা হাবিবুর রহমান এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন,কিন্তু এতে কামাল হোসেনের সমর্থকদের মধ্যে দলীয় প্রার্থীর প্রতি অবিশ্বাস আরও গভীর হয়েছে।এরই মধ্যে অধ্যাপক কামাল হোসেনের দলীয় কার্যালয়ে প্রতিনিয়ত নেতাকর্মীদের সমাবেশ চলছে।আজ শনিবার বিকেলে ভবানীগঞ্জ সদরের অফিসে অনুষ্ঠিত বিশাল সভায় হাজার হাজার নেতাকর্মী অংশ নিয়েছেন।যা মনোনয়ন বঞ্চনার বিরুদ্ধে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে।অধ্যাপক কামাল হোসেনের ক্লিন ইমেজ এবং দীর্ঘদিনের সেবামূলক কাজের কারণে স্থানীয় জনগণ তাঁকে একমাত্র বিশ্বাসযোগ্য প্রার্থী হিসেবে দেখছেন।একজন স্থানীয় নেতা বলেন, “জিয়ার মতো বিতর্কিত ব্যক্তিকে মনোনয়ন দিয়ে বিএনপি নিজেরাই আসন হারানোর পথ বেছে নিয়েছে।অধ্যাপক কামাল হোসেনের মতো নেতা ছাড়া এখানে বিজয় সম্ভব নয়।”দলীয় প্রার্থী পরিবর্তন না করলে রাজশাহী-৪ আসনে বিএনপির পরাজয় অনিবার্য বলে অনেকেই মনে করছেন।অধ্যাপক কামাল হোসেনের নীরব প্রতিবাদ এখন এক জনতার আন্দোলনে রূপ নিচ্ছে।উক্ত সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির যুগ্ম আহবায়ক ও কাচারীকোয়ালীপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মাষ্টার আব্দুল গাফফার।সভায় উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন,উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক উপাধ্যক্ষ আব্দুস সোবহান, আহবায়ক কমিটি সদস্য সাবেক চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন, ইউসুফ আলী, শুভডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন, অধ্যাপক এনামুল হক, রফিকুল ইসলাম, ছমির উদ্দীন, শাহিন রেজা, অধ্যাপক দুলাল হোসেন, বাসুপাড়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন সহ উপজেলা, ইউনিয়ন বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।