মিজানুর রহমান (বাবুল)সম্পাদক সংবাদ এই সময়।
উৎসবমুখর নির্বাচন মানে এমন একটি নির্বাচন যেখানে ভোটার কেন্দ্রে যেতে নিরুৎসাহিত হয় না। ভোট নিয়ে সবাই ভোট কেন্দ্রে নির্ভয়ে উৎসবে মেতে ওঠে। প্রার্থীরা সমান সুযোগ পায় প্রচরণায়। প্রশাসন থাকে নিরপেক্ষ। আর গণমাধ্যম স্বাধীন ভাবে রিপোর্ট করতে পারে।
বাংলাদেশের ইতিহাসে ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনকে ঘিরে যে বিতর্ক তৈরি হয় সেখানে সেনাবাহিনীর উপস্থিতি থাকলেও রাজনৈতিক পরিবেশের অস্থিরতা উৎসবের আনন্দকে ম্লান করে দিয়েছিল। তাইত প্রকৃত গণতন্ত্র বাধাপ্রাপ্ত হয়েছে। অথচ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১১ তে বলা আছে, ‘প্রজাতন্ত্র হইবে একটি গণতন্ত্র, যেখানে মৌলিক মানবাধিকার ও স্বাধীনতার নিশ্চয়ত থাকিবে, মানবসত্তার মর্যাদা ও মূল্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ নিশ্চিত হইবে ( এবং প্রশাসনের সকল পর্যায়ে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে জনগনের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত হইবে।)’
তাই প্রকৃত গণতন্ত্রের স্বাদের জন্য এবারের নির্বাচন হতে পারে নতুন পরীক্ষা—- ‘কীভাবে সেনাবাহিনী নিজেদের নিরপেক্ষতা ও উচ্চ মনোবল বজায় রেখে জাতির আস্থা ফিরিয়ে আনতে পারে।’
আগামী ফেব্রুয়ারি/২৬ এ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হতে যাচ্ছে। সরকারের সক্ষমতা যাই হউক না কেন জনগণ নির্বাচনের ট্রেনে যাত্রা শুরু করেছে। ইতোমধ্যে দেশের বড় বৃহত্তর দল বিএনপি ২৩৭ জনের প্রার্থীতা ঘোষণা করেছে। কিছু ক্ষেত্রে বিদ্রোহী প্রার্থীরা বিক্ষোভ প্রকাশ করেছে। দলের হাইকমান্ডের নির্দেশে এক সময় সব ঠিক হয়ে যাবে। এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। জামায়াত প্রায় এক বছর আগে প্রার্থীতা ঘোষণা করেছে। এনসিপি ও ঘোষণা করতে যাচ্ছে। সারাদেশে যখনই প্রচার প্রচারণা শুরু করেছে চট্টগ্রাম ৮ আসনে ঘোষিত প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ নির্বাচনী জনসংযোগ করার সময় প্রার্থীসহ তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়েছে। তার মধ্যে একজন হাসপাতালে নেওয়ার পর মৃত্যুবরণ করে। একটি মহল দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার লক্ষ্যে তা করছে। অগ্নিসন্ত্রাস ও শুরু হয়ে গেছে। বিষয়টি নির্বাচন ভণ্ডুল করার ষড়যন্ত্র হিসেবে বিবেচিত। ভবিষ্যতে আরও এ ধরনের সমস্যা হতে পারে।
এরমধ্যে মাঠে আন্দোলনরত জামায়াত এর বক্তব্য হলো…গণভোট নভেম্বরে করতে হবে। গণভোটসহ ৫টি দাবি নিয়ে মাঠে আন্দোলনরত আছে। অবিলম্বে ৫ দফা দাবি মেনে নেওয়ার জন্য শরিক আরও ৫টি দল জোট বেঁধে দাবি জানিয়ে আসছে। জনগণের চাহিদা এখন নির্বাচন। বিগত ১৫ বছর যে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারিনি তা অংশগ্রহণ করতে উদগ্রীব হয়ে আছে। জনগণের মনোবল বুঝে রাজনৈতিক দলগুলো আন্দোলন করা উচিত। পারম্পরিক দ্বন্দ্ব অথবা ঐক্যের ঘাটতিতে পতিত সরকার আবার যে পুন:র্বাসিত হবে না এর নিশ্চিয়তা কি?
জামায়াত তার আগে বলে আসছিল পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন না হলে এরা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে না। এ দাবি জনমত সৃষ্টি করতে পারিনি বলে ঐ দাবিটা এখন আর উচ্চারিত হচ্ছে না। জামায়াত নভেম্বরে গনভোটের দাবি জানিয়ে বিএনপির সাথে আলোচনায় বসতে চাচ্ছে। বিএনপি আলোচনায় এখনো ইতিবাচক সাড়া দেয়নি। এনসিপি বলছে জুলাই সনদকে আইনি স্বীকৃতি দিয়ে জাতীয় নির্বাচনে যাওয়াটা ভালো।
কিন্তু এখন কি সেই সময় আছে। এখন গণভোট করতে গেলে জুলাই সনদে যে সংবিধান
সংশোধনের ৪৮টি বিষয়ের গণভোট করতে চাচ্ছে তা জনগণকে জানাতে হবে। এখন তা প্রচরণা চালিয়ে গণভোট করাটা কি আদৌ সম্ভব?
বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলো প্রার্থীতা ঘোষণা করেছে। সম্ভাব্য প্রার্থী মঠে নেমে গেছে। ভোটারদের মাঝে একধরনের উৎসাহ উদ্দীপন সৃষ্টি হয়েছে। প্রচারণা নিয়ে উম্মাদনা শুরু হয়েছে।ভোটারদের অন্যকিছু এখন ভাববার সময় নেই। তাছাড়া আাগামী মাসে তফসিল ঘোষণা করা হলে মাঠ আরও সরগম হবে।গ্রামের হাট বাজার ও চা দোকানগুলোতে তুমুল আড্ডা চলছে আড্ডাবাজদের।উৎসবমূখর পরিবেশে নির্বাচন করতে এখন থেকেই নের্তৃবৃন্দের মাঝে সহনশীল মনোভাব থাকতে হবে। প্রচরণার সময় একে অপরের প্রতি কাদা ছুড়াছুড়ি বন্ধ করতে হবে। প্রার্থী নির্বাচন হওয়ার পর থেকে পোস্টার লাগানোর হিরিক পড়ে যায়। রাতের অন্ধকারে একে অপরের পোস্টার ছিড়ে পরিবেশ নষ্ট করা যাবে না। এতে উভয় পক্ষের মাঝে উত্তেজনা সৃষ্টি হবে।আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সবাই চিন্তিত। পুলিশ এখনো শক্তি ও সাহস অর্জন করতে পারিনি। মাঠে তাদের সহায়তা করার জন্য সেনাবাহিনী আছে। নিজেদের স্বক্ষমতা অর্জন করার উপযুক্ত সময় ছিল। পুলিশ বাহিনী সেটা করতে ব্যর্থ হয়েছে। যেহেতু সেনাবাহিনী নির্বাচনে সহায়তাকারী হিসেবে থাকবে সে হিসেবে কিছুটা ভরসা আমরা পাচ্ছি। সেনাকর্মকর্তারা দৃঢ়চিত্তে যে আশাবাদ ব্যাক্ত করেছে তাদের প্রতি আস্থা রাখা যেতে পারে। নিরাশ হচ্ছি না আমরা আশ্বস্ত হতে চাই তাই যেমনটি বলা হলো—
সেনাসদরে এক ব্রিফিয়ে সেনাবাহিনীর মিলিটারি অপারেশনস অধিদপ্তরের পরিচালক ব্রিগ্রেডিয়ার জেনারেল দেওয়ান মোহাম্মদ মনজুর হোসেন বলেন, ‘১৫ মাস ধরে সেনাবাহিনী বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তায় নিয়োজিত রয়েছে। এর পাশাপাশি হারিয়ে যাওয়া অস্ত্র-গোলাবারদ উদ্ধারে এবং চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে অভিযান পরিচালনা করছে। হারিয়ে যাওয়া অস্ত্রের ৮১ শতাংশ এখন পর্যন্ত উদ্ধার করা গেছে। গোলাবারুদ (হারিয়ে যসওয়া) উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে ৭৩ শতাংশ। এ ছাড়া ১৯ হাজারের বেশি অপরাধী গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন একটি সুন্দর, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিয়েছে। বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে মতবিনিময় ও করছে। তিনি আরও বলেন একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পূর্বশর্ত হলো স্থিতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। আইনশৃঙ্খলা যাতে স্বাভাবিক থাকে সে লক্ষ্যে সেনাবাহিনী কাজ করতে বদ্ধপরিকর। নির্বাচনের সময় ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ সেনাসদস্য মাঠে মোতায়েন থাকবে। এটি এ এযাবতকালের সর্বোচ্চ। সেনাবাহিনীর পরিকল্পনা রয়েছে জেলা উপজেলা এমনকি আসনভিত্তিক ক্যাম্প স্থাপন করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা। নির্বাচন কমিশনকে সহায়তা করার জন্য যা যা করার প্রয়োজন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী তা করতে প্রস্তুত।
বেশকিছু দেশই সশস্ত্রবাহিনী নির্বাচনে সহায়ক ভূমিকা পালন করে থাকে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়-ভারত, ইন্দোনেশিয়া, বা শ্রীলংকা এখানকার সেনারা নির্বাচনী নিরাপত্তায় অংশ নেয়। কিন্তু রাজনৈতিক প্রভাব থেকে দূরে থাকে। এই ভারসাম্য তাদের পেশাদারিত্বের মুল চাবিকাঠি। আমাদের সেনাবাহিনী যদি পেশাদার ভারসাম্য বজায় রাখতে পারে তবে তারা শুধু নিরাপত্তা নয় গণতন্ত্রের রক্ষক হিসেবে জনগণের আস্থা অর্জন করবে।
সেনাবাহিনীর মনোবল ধরে রাখতে হলে প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন এবং গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রশাসনকে নিশ্চিত করতে হবে যাতে সেনাবাহিনী তাদের দায়িত্ব পালন করতে পারে কোন রাজনৈতিক চাপ ছাড়াই।নির্বাচন কমিশনকে হতে হবে দৃঢ় ও স্বচ্ছ যাতে বাহিনীর ওপর অপ্রয়োজনীয় অভিযোগ না আসে।
অন্যদিকে গণমাধ্যমের দায়িত্ব হলো সেনাবাহিনীর কার্যক্রম নিয়ে দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশন করা। অযথা সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে এমন শিরোনাম বা বিভ্রান্তিকর রিপোর্ট না করা যা নির্বাচনকালীন পরিবেশকে অস্থির করে তুলতে পারে। সাংবাদিকতার স্বাধীনতা যেমন জরুরি দায়িত্বশীল নীতি ও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
একজন সৈনিকের কাজ অনেক সময় নির্জন চাপমুক্ত ও ঝুকিপূর্ণ। এই সৈনিকরা গত ৫৪ বছরের অভিজ্ঞতায় বন্যার ত্রাণ থেকে অবকাঠামো উন্নয়ন পর্য়ন্ত নানান উদ্যোগের দায়িত্ব নিয়ে সশস্ত্র বাহিনীগুলো সে-ই ধারাবাহিকতায় ক্রমাগত …জনসম্পৃক্ততা বাড়িয়েছে। তারা যে জনবিচ্ছিন্ন সেনাছাউনিতে আটকে থাকতে চায়নি তার ইঙ্গিত দিয়েছে বহুবার। নির্বাচনের সময় দিনরাত কাজ করতে হয় প্রায়ই বিরুপ পরিস্থিতিতে তাই বাহিনীর আভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ ও মনস্তাত্ত্বিক প্রস্তুতি অত্যন্ত জরুরি। প্রতিটি ইউনিটে নেতৃত্বের ভুমিকা এখানে বড়। একজন অফিসার যদি তার দলের প্রতি আস্থা ও সাহস জোগাতে পারেন তবে তা মনোবলে প্রতিফলিত হয়। নির্বাচনকালীন সেনাসদস্যদের মধ্যে পেশাগত শৃঙ্খলা বজায় রাখা দায়িত্বের প্রতি সম্মানবোধ জাগানো এসব বিষয়ই তাদের মনোবলকে টেকসই করে তোলে।
উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন করার লক্ষ্যে এখন থেকে পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, যেমন সারাদেশে যৌথবাহিনীর মাধ্যমে চিরনি অভিযানের মাধ্যমে সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করতে হবে। কিন্তু লক্ষ্য রাখতে হবে নিরপরাধ ব্যাক্তি যেন গ্রেপ্তার না হয়। প্রতিটি জনসভায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দিতে হবে। প্রত্যেকটি জনসভায় নিজ নিজ দলের স্বেচ্ছাসেবক দল থাকতে হবে। নির্বাচনী প্রচারণায় কারও ব্যাক্তিগত চরিত্র হনন করা যাবে না। জনগণের দুর্ভোগ হয় অমন কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে। কালো টাকার ছড়াছড়ি বন্ধ করতে হবে। ৪০০/৫০০ হোন্ডা নিয়ে মিছিল করাা-ওগুলো এখন জনগণ ভালোভাবে নিচ্ছে না। এতে পেশিশক্তির আবির্ভাব হয়। ২০ হোন্ডা ২০ গুন্ডা নির্বাচন ফিনিস এ মনোভাব ত্যাগ করতে হবে। জনগণের ভাষা বুঝার জন্য তাদের দ্বোরগোরায় যেতে হবে। মানুষের ভালোবাসা নিতে হবে। হুমকি দুমকির রাজনীতি শেষ। প্রযুক্তির বদৌলতে ভোটাররা খুব সচেতন। এরা যোগ্য প্রার্থী দেখেই ভোট দেবে।
ভোট কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে পারলে তাদের ভোট যাতে ছিনিয়ে নিতে না পারে সে পাহারাদারের ভূমিকা যদি ভোটাররা পালন করতে পারে তখনই তারা বলবে আমার ভোট আমি দেব যাকে খুশি তাকে দেব। তখনই দেখা যাবে ভোট আয়োজনটি উৎসবমুখর হতে বাধ্য। মনে রাখতে হবে নির্বাচন কেবল প্রার্থী বা বাহিনীর নয় জনগণের ও দায়িত্ব। ভোটাররা যদি সচেতন না হন যদি নিজের ভোটাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল না হন তাহলে কোনো বাহিনীই শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করতে পারবে
না। সেনাবাহিনীকে তখন কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়।
তাই নাগরিকদের বোঝা দরকার সেনাবাহিনীর উপস্থিতিতে কোনো ভয় নয় বরং নিরাপত্তার নিশ্চিয়তা তারা মাঠে নামে জনগণের ভোটাধিকার রক্ষার্থে কার ও পক্ষ নিতে নয়। সেই বোঝাপড়াটা যত বেশি শক্ত হবে নির্বাচনের পরিবেশ তত বেশি শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর হবে।
বাংলাদেশের গণতন্ত্র আজ এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। এই নির্বাচন শুধুমাত্র রাজনৈতিক পরিবর্তনের নয়।বরং রাষ্ট্রের প্রতি জনগনের আস্থা পুনর্গঠনের সুযোগ। আর এই আস্থা রক্ষার কেন্দ্রবিন্দু হলো আমাদের সশস্ত্র বাহিনী।
তাদের মনোবল যত দৃঢ় হবে ততই ভোটারদের আস্থা বাড়বে। সেনাবাহিনী যদি নিরপেক্ষতা শৃঙ্খলা ও উচ্চ পেশাদরিত্ব বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করে তবে দেশ পাবে একটি শান্তিপূর্ণ অংশগ্রহণমূলক ও সত্যিকারের উৎসবমুখর নির্বাচন।
আজ প্রয়োজন শুধু একটাই-
সবপক্ষের আন্তরিকতা ও সহযোগিতা। সেনাবাহিনী যেন তাদের ঐতিহ্য মর্যাদা ও জনগনের ভালবাসাকে সঙ্গে নিয়ে মাঠে নামে। তাহলে জনগণ বলতে পারবে…এই নির্বাচন আমাদের, ভোট আমার রক্ষিত সম্পদ, শস্য শ্যামল বাংলাদেশটা আমাদের, আর দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী ও আমাদের গর্বের।