জীবনযাপন ডেস্ক
সংগৃহীত ছবি
প্রতিদিন মনে মনে সিদ্ধান্ত নেন যে আজ তাড়াতাড়ি ঘুমাতে যাবেন। কিন্তু কাজের চাপ বা অতিরিক্ত স্ক্রিন দেখার নেশায় ২-৩টা বেজে যাচ্ছে। এদিকে পরদিন তাড়াতাড়ি অফিসে যাওয়া বা বিভিন্ন কাজের কারণে সকালে আবার ৬-৭টার মধ্যে উঠে পড়েন। তারপর আবার প্রতিদিনের রুটিন…. এভাবেই চলছে অনেকের জীবন।
আপনিও যদি প্রতিদিন এই রুটিনে অভ্যস্ত হয়ে পড়েন তাহলে অজান্তে নিজেই নিজের বিপদ ডাকছেন। এর ফলে শরীরে থাবা বসাচ্ছে একাধিক রোগ।
প্রত্যেক দিন কম ঘুমালে যে কেবল দুর্বল থাকবেন সেটাই নয়, শরীরে গোপনে থাবা বসাতে পারে অন্য নানা রোগও। এর ফলে মোটা হয়ে যেতে পারেন, হুহু করে ওজন বাড়তে পারে।
এমনকি হতে পারে টাইপ-২ ডায়াবেটিসও।
চিকিৎসকদের মতে, দিনে ৭ ঘণ্টার কম ঘুমালে হরমোনের সমস্যা হয়, শরীরের গ্লুকোজ ব্যালেন্স নষ্ট হয়। পুষ্টি কতটা আর কিভাবে শরীরে অ্যাবসর্ব হবে সেটাও গণ্ডগোল হয়ে যায়। এক কথায় বলতে গেলে, শরীরের সব স্বাভাবিক প্রক্রিয়াই ব্যাহত হয়।
সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে চিকিৎসক কুণাল সুদ জানিয়েছেন, কম ঘুমালে মোটা হওয়া বা ডায়াবেটিসের মতো রোগ শরীরে থাবা বসাতে পারে। কম ঘুমানোর কারণে, ক্লান্তি ভাব তো থাকবেই। এমনকি এর ফলে খিদে কমিয়ে বা বাড়িয়ে দিতে পারে।
পর্যাপ্ত ঘুম না হলেই শরীরে গ্লুকোজ কতটা পরিমাণ শুষে নেবে সেটা ঘেঁটে যায়, যার ফলে বেড়ে যায় লিভারের গ্লুকোজ রিলিজ করা, এতে ইনসুলিনের কাজ ব্যাহত হয়। শুধু তাই নয়, প্রদাহ বাড়ায় কম ঘুম।
এমনকি খিদেও বাড়িয়ে দেয় এই অভ্যাস।
কম ঘুমালে লেপ্টিনের মাত্রা কমে যায়, আর এর ফলেই থেকে থেকে, বারবার খিদে পায়। বিশেষ করে কার্বোহাইড্রেট বা ফ্যাটজাতীয় খাবার খাওয়ার ইচ্ছে হয় এই সময়। যার জেরে ক্যালরি ইনটেক প্রায় ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পায়।
যারা রোজ দিনে ৬ ঘণ্টার কম ঘুমান তাদের টাইপ-২ ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। বাকিদের তুলনায় এদের ২৮ শতাংশ বেশি সম্ভাবনা থাকে এই রোগ হওয়ার। এ ছাড়া ওজন বৃদ্ধির রিস্ক তো আছেই।
তাই সুস্থ থাকতে, রোগ-বালাইকে দূরে রাখতে সঠিক খাবার-দাবারের পাশাপাশি সঠিক ও পর্যাপ্ত ঘুমের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। ব্যস্ততা, কাজের চাপ, নিজেকে সময় দেওয়ার মাঝেও রোজ ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমানো আবশ্যক। একই সঙ্গে রাত জেগে ফোন দেখার নেশাতেও লাগাম টানা উচিত বলে মনে করেন চিকিৎসকরা।
সূত্র : আজকাল