মিজানুর রহমান বাবুল সম্পাদক সংবাদ এই সময়।
গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার পর রিখটার স্কেলে ৫ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা। এ সময় হাজারো মানুষ আতঙ্কে রাস্তায় বেরিয়ে আসে। এ ভূমিকম্পের ঘটনায় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। এ সম্পাদকীয় লেখা পর্যন্ত ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে সারা দেশে সাতজনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। নিহতদের মধ্যে এক নবজাতকসহ দুই শিশুও রয়েছে বলে জানা গেছে। আহতের সংখ্যা তিন শতাধিক। ভয়াবহ ভূমিকম্পের ফলে রাজধানীর কয়েকটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর মিলেছে। ঢাকার বাইরেও দেশের বিভিন্ন স্থানে তীব্র ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে। অনেক জায়গায় উদ্ধার তৎপরতার জন্য ছুটে গেছেন উদ্ধারকর্মীরা। এছাড়া ভূমিকম্পে দেশের ছোট-বড় সাতটি বিদ্যুৎকেন্দ্র ও একটি সাবস্টেশন দুর্ঘটনার কারণে বন্ধ হয়ে যায়।
ভূমিকম্পের ফলে জনমনে যে আতঙ্ক বেড়েছে, তা বলাই বাহুল্য। এ উদ্বেগ অমূলকও নয়। কারণ অনেকদিন ধরেই বিশেষজ্ঞরা জানিয়ে আসছেন, বাংলাদেশের ভূ-তাত্ত্বিক অবস্থান এমন যে, শক্তিশালী ভূমিকম্প হওয়া অবশ্যম্ভাবী। দেশটি তিনটি টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে থাকায় এখানে যে কোনো সময় ৯.০ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানতে পারে। তাদের মতে, এ ধরনের ধ্বংসাত্মক কম্পন ঘটলে ঢাকা শহরের অর্ধেক ভবন মাটিতে মিশে যেতে পারে, আর এতে ঝরে যাবে অসংখ্য মানুষের জীবন। পরিস্থিতি এমন হবে যে, উদ্ধার তৎপরতাও হয়ে পড়বে অসম্ভব। পরিতাপের বিষয়, বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরে সম্ভাব্য ঝুঁকির বিষয়ে সতর্ক করে আসলেও দেশে দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি এখনো খুব সীমিত। বড় ভূমিকম্প সামলানোর সক্ষমতা বর্তমানে ২০ শতাংশেরও কম, যা পরিস্থিতিকে আরও নাজুক করে তুলেছে।
এমন পরিস্থিতিতে এখনই সারা দেশে ভবনগুলোর নিরাপত্তা যাচাই, সঠিক নির্মাণবিধি প্রয়োগ এবং নিয়মিত ভূমিকম্প মহড়া চালু না করা হলে ভবিষ্যতে ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে ভয়াবহ। ফলে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিরাপদ নির্মাণ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি বলে মনে করি আমরা। ভুলে গেলে চলবে না, সামনে যে আরও বড় ভূমিকম্প হতে পারে, গতকালের ভূমিকম্প সেই সতর্কবার্তাই দিচ্ছে। জানমাল রক্ষার্থে সরকার কালক্ষেপণ না করে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ এখনই হাতে নেবে, এটাই প্রত্যাশা।