লাইফস্টাইল ডেস্ক,
শীতের শুরুতেই সর্দি–কাশি এবং ফুসফুসের বিভিন্ন সমস্যায় আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। দূষণ, ধূমপান এবং অনিয়ন্ত্রিত খাবারের কারণে নাজুক হয়ে পড়া ফুসফুসে বাড়তি চাপ পড়ছে প্রতিনিয়ত। এমন পরিস্থিতিতে দৈনন্দিন খাবারে প্রাকৃতিক উপাদান যুক্ত করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, সহজলভ্য একটি উপাদান আদা যেটা কিনা শীতের মৌসুমে ফুসফুসকে আংশিকভাবে আরাম দিতে ও প্রদাহ কমাতে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।
সাধারণত ঠান্ডা, কাশি বা জ্বরের সময় অনেকেই আদা-চা পান করেন। কিন্তু আদার মধ্যে থাকা জিঞ্জেরল ও শোগোল নামক উপাদান শ্বাসনালির প্রদাহ কমাতে এবং গলার অস্বস্তি দূর করতে পরিচিত। এতে থাকা অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট উপাদান শ্বাস-প্রশ্বাসের পথ পরিষ্কার করতেও ভূমিকা রাখে বলে ধারণা করা হয়।
আদা কেন ফুসফুসের জন্য উপকারী?
১. গরম আদা-চা গলার জ্বালা কমিয়ে শ্বাসনালিকে কিছুটা প্রসারিত করে।
২. দূষিত বাতাস বা কাশিতে শ্বাস নিতে কষ্ট হলে আদার ঝাঁঝালো উপাদান বায়ুপথ পরিষ্কার করতে সাহায্য করে।
৩. হাঁপানি বা শ্বাসযন্ত্রের প্রদাহে উষ্ণ আদা-চা সাময়িক স্বস্তি এনে দিতে পারে।
তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দেন, ফুসফুসের যেকোনো দীর্ঘস্থায়ী সমস্যায় চিকিৎসকের পরামর্শ অবশ্যই জরুরি। আদা শুধুমাত্র ফুসফুসের জন্য ‘সাফাইকর্মী’-র মতো কাজ করে। তবে এটি কোন বিকল্প চিকিৎসা নয়।
যেভাবে বানাবেন আদা-চা
১. দুই কাপ পানি একটি পাত্রে নিন।
২. এক ইঞ্চি আদা থেঁতো করে পানিতে দিন।
৩. পানি ফুটে এলে চাইলে সামান্য চা–পাতা মেশাতে পারেন।
৪. ছেঁকে নিয়ে গরম অবস্থায় পান করুন।
৫. মিষ্টি চাইলে এক চা–চামচ মধু মিশিয়ে নিন।
প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসে সহজ প্রাকৃতিক উপাদান সংযোজন শরীরকে স্বস্তি দিতে পারে। শীতের এই সময়ে আদা-চা শুধু গলা নয়, শ্বাসযন্ত্রের আরামেও ভূমিকা রাখতে পারে— তাই সচেতনতা ও নিয়মিত অভ্যাসে এটি অনেকের কাছেই হয়ে উঠছে জনপ্রিয় এক ঘরোয়া উপায়।