জিহাদুল ইসলাম (জিহাদ)
স্টাফ রিপোর্টার
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বার্ষিক পরীক্ষা ব্যাহত হয়েছে শিক্ষকদের কর্মবিরতির কারণে। উপজেলার ২৩৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানে সোমবার পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।
সোমবার কালাইয়া ইউনিয়নের কর্পূরকাঠী ইসলামিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, আজকে প্রথম পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও সেখানে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। অভিভাবকরা তাদের শিশুদের নিয়ে স্কুলে এসে ফিরে যাচ্ছেন।
সহকারী শিক্ষকরা প্রাথমিক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদের ডাকে তিন দফা দাবিতে ধারাবাহিক কর্মবিরতি পালন করছেন। তাদের দাবিগুলো হলো:
১.সহকারী শিক্ষক পদে ১১তম গ্রেড প্রদান
২.শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতি
৩.উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্তির জটিলতা নিরসন
কর্পূরকাঠী ইসলামিয়া বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সাইফুল ইসলাম বলেন, “প্রাথমিক শিক্ষকদের দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আমরা বার্ষিক পরীক্ষা বর্জন করেছি। আজকের মধ্যে দাবি পূরণে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে সামনের পরীক্ষাও বর্জন করবো।
সহকারী শিক্ষিকা নাসরিন নাহার জানান
প্রধান শিক্ষক এবি এম আনোয়ার হোসেন জানান
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর গত রোববার (৩০ নভেম্বর) সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বার্ষিক পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের কঠোর নির্দেশ দিয়েছে। অধিদপ্তরের পরিচালক মোহাম্মদ সামছুল আহসানের স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে:
· পহেলা ডিসেম্বর থেকে দেশব্যাপী সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তৃতীয় সাময়িক পরীক্ষা শুরু হবে
· পরীক্ষা কার্যক্রম নির্ধারিত সময়ে সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন করতে হবে
· পরীক্ষা গ্রহণে কোনো প্রকার শৈথিল্য বা অনিয়ম করলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে
এই চিঠি সব বিভাগীয় উপ-পরিচালক ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে।
কর্পূরকাঠী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অভিভাবকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের সন্তানরা বছরের শেষ বার্ষিক পরীক্ষা দিবে, কিন্তু শিক্ষকরা তাদের পরীক্ষা নিচ্ছেন না। তারা নাকি আন্দোলন করছেন। আমরা স্কুলে এসে ফিরে যাচ্ছি। তারা আমাদের আগে এ বিষয়ে জানাননি।”
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্র জানায়, সারাদেশে বর্তমানে ৬৫,৫৬৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এসব বিদ্যালয়ে তিন লাখ ৮৪ হাজারের বেশি শিক্ষক কর্মরত, যাদের বেশিরভাগই সহকারী শিক্ষক।