লাইফস্টাইল ডেস্ক
চুলের যত্নে নতুন নতুন কৌশল ও উপায় নিয়ে সব সময়ই কাজ করে চলেছেন সৌন্দর্য বিশেষজ্ঞরা। কখনও কোনো বিশেষ পণ্য, আবার কখনও ধোয়ার কৌশল।
সব কিছুতেই লক্ষ্য থাকে চুলকে আরও নরম, চকচকে ও স্বাস্থ্যকর রাখা।
বর্তমান সময়ে এমনই একটি সহজ তবে কার্যকর কৌশল জনপ্রিয় হয়েছে, যার নাম শ্যাম্পু স্যান্ডউইচ পদ্ধতি।
কী এই শ্যাম্পু স্যান্ডউইচ পদ্ধতি?
শ্যাম্পু স্যান্ডউইচ হল এমন একটি চুল ধোয়ার কৌশল, যেখানে প্রথমে চুল ভিজিয়ে কন্ডিশনার ব্যবহার করতে হয়। এরপর তা ধুয়ে ফেলে শ্যাম্পু করতে হয়। এবং শেষে আবার কন্ডিশনার লাগিয়ে ধুয়ে নিতে হয়।
এইভাবে মাঝখানে শ্যাম্পু আর আগে পরে কন্ডিশনার দেওয়া হয়- তাই এর নাম ‘স্যান্ডউইচ’।
যুক্তরাষ্ট্রের ‘লাক্সি হেয়ার’ প্রতিষ্ঠানের কেশসজ্জাকর ও ‘এক্সটেনশন’ বিশেষজ্ঞ হেভেন হুইটম্যান রিয়েলসিম্পল ডটকম’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এই সম্পর্কে বলেন, “এই পদ্ধতিতে শুষ্কতা থেকে চুলের মাঝখান ও আগা রক্ষা পায়। আবার মাথার ত্বকও ভালোভাবে পরিষ্কার হয়।”
যে কারণে উপকারী
এই কৌশল মূলত চুলে আর্দ্রতা বজায় রাখার পাশাপাশি মাথার ত্বককে গভীরভাবে পরিষ্কার করে। প্রথমে কন্ডিশনার ব্যবহারের ফলে চুলের ভেতরে এক ধরনের সুরক্ষা স্তর তৈরি হয়, যা চুলের ভাঙন ও রুক্ষতা কমায়।
হেভেন হুইটম্যান আরও বলেন, “যাদের চুলে ‘ফ্রিজ’ বা জট, অগোছালোভাব থাকে বা স্পর্শে খসখসে বোধ হয়, তাদের জন্য এটি বিশেষভাবে উপকারী। নিয়মিত এইভাবে চুল ধুলে আগা ভাঙা কমে যায় এবং ঘনঘন কাটার প্রয়োজনও পড়ে না।”
রং করা চুলের ক্ষেত্রেও এটি উপকারী। কারণ, প্রথম ধাপে ব্যবহৃত কন্ডিশনার চুলের রং দীর্ঘস্থায়ী করতে সাহায্য করে।
উপকারিতাগুলো সংক্ষেপে
মাথার ত্বক পরিষ্কার রাখে, তবে চুলের আর্দ্রতা নষ্ট করে না।
চুলে এক ধরনের সুরক্ষা স্তর তৈরি করে, যা ভাঙন কমায়।
‘ফ্রিজ’ বা জট কমায় এবং চুল নরম করে।
রং করা চুলের উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে সাহায্য করে।
যাদের জন্য এই পদ্ধতি বেশি প্রযোজ্য
যাদের মাথার ত্বক বা ‘স্ক্যাল্প’ দ্রুত তৈলাক্ত হয়, কিন্তু চুলের মাঝখান ও আগা শুকনো থাকে তাদের জন্য এই পদ্ধতি আদর্শ।
এছাড়া যাদের খুশকি আছে, বারবার চুল ধুতে হয় বা চুলে অনেক ‘স্টাইলিং’ পণ্য ব্যবহার করেন, তারাও এতে উপকার পাবেন।
রং করা বা ব্লিচ করা চুলেও এটি ভালো কাজ করে, কারণ এসব চুল সাধারণত বেশি শুষ্ক হয়।
এমনকি কোঁকড়া বা ঢেউ খেলানো চুলের ক্ষেত্রেও এই পদ্ধতি প্রাকৃতিক কোঁকড়াভাব বজায় রাখতে সাহায্য করে।
এড়াবেন যারা
যাদের চুল খুব পাতলা বা সহজে ভারী হয়ে যায়, তাদের জন্য এই ‘ডাবল কন্ডিশনিং’ একটু বেশি লাগতে পারে। তাদের উচিত অল্প পরিমাণ কন্ডিশনার ব্যবহার করা বা হালকা, সিলিকন-মুক্ত কন্ডিশনার বেছে নেওয়া।
এছাড়া যাদের মাথার ত্বক অতিরিক্ত তৈলাক্ত এবং প্রতিদিন চুল ধুতে হয়, তাদের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি প্রয়োজন নাও হতে পারে।
সব মিলিয়ে ‘শ্যাম্পু স্যান্ডউইচ’ একটি সহজ, ঘরোয়া ও নিরাপদ পদ্ধতি যা প্রায় সবার চুলের যত্নে ব্যবহার করা যেতে পারে।