চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলায় নকল আকিজ বিড়ির বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভেজাল বিড়ি জব্দ ও জনসম্মুখে পোড়ানোর ঘটনা ঘটেছে। এতে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, হাটহাজারীর ৩ নং বাজার, বড়দিঘিরপার, চট্টগ্রাম সেনানিবাস সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত আমানা টেলিকম মোবাইল দোকান (দোকানদার: জাবের আব্দুল্লাহ) এবং এনাম স্টোর (দোকানদার: মিজান) থেকে মোট ৫ হাজার শলাকা নকল আকিজ বিড়ি জব্দ করা হয়। পরে এসব নকল বিড়ি জনসম্মুখে পোড়ানো হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জব্দকৃত নকল বিড়িগুলো আসল আকিজ বিড়ির মোড়ক ব্যবহার করে বাজারজাত করা হচ্ছিল, যা একদিকে সাধারণ ভোক্তাদের প্রতারণা করছে, অন্যদিকে সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর এলাকাবাসী ও সচেতন মহল ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
জনাব মো: জসিম উদ্দিন, বিভাগীয় ম্যানেজার (ইনচার্জ), চট্টগ্রাম। তিনি বলেন,
“নকল ও ভেজাল পণ্যের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান জিরো টলারেন্স। এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের সুনাম নষ্ট করে না, বরং রাষ্ট্রের রাজস্ব ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং জনগণের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি তৈরি করে।”
এ ঘটনায় হাটহাজারী মডেল থানা পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। স্থানীয়রা দাবি করছেন, শুধু জব্দ ও ধ্বংস নয়—নকল বিড়ির সঙ্গে জড়িত চক্রকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
এলাকার একাধিক গ্রাহক জানান, দীর্ঘদিন ধরে বাজারে নকল ও ভেজাল বিড়ি অবাধে বিক্রি হচ্ছে। এতে করে সাধারণ ক্রেতারা প্রতারিত হচ্ছেন। তারা বলেন,
“ভেজালকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান ও কঠোর ব্যবস্থা না নিলে এ ধরনের অপরাধ বন্ধ হবে না।”
সচেতন মহলের মতে, নকল পণ্যের বিরুদ্ধে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর সমন্বিত উদ্যোগই পারে বাজারকে ভেজালমুক্ত রাখতে। একই সঙ্গে তারা সরকারের কাছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন।
ভেজাল ও নকল পণ্যের বিরুদ্ধে এই অভিযান এলাকাবাসীর মাঝে স্বস্তি ফিরিয়ে আনলেও, ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ রোধে নিয়মিত তদারকি ও কঠোর আইন প্রয়োগের জোর দাবি উঠেছে।