মিজানুর রহমান বাবুল সম্পাদক সংবাদ এই সময়।
দেশে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। একের পর এক সহিংসতা, হুমকি ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটলেও সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে বিচার প্রক্রিয়া অস্বাভাবিকভাবে ধীরগতি,কেন এমন হবে স্বাধীন দেশে সবার সমান অধিকার।
গাজীপুরে স্ত্রী- সন্তানকে হত্যার পর স্বামীর আত্মহত্যা
দেশে সাধারণ হত্যা ও নির্যাতনের বহু মামলার বিচার তুলনামূলকভাবে দ্রুত সম্পন্ন হলেও সাংবাদিক হত্যা ও নির্যাতনের বিচার বছরের পর বছর ঝুলে থাকে। এই বৈষম্য কেবল একজন সাংবাদিকের জীবনের মূল্যহীনতা প্রকাশ করে না, বরং স্বাধীন সংবাদ প্রবাহের ওপর ভয়াবহ হুমকি তৈরি করে।
গণমাধ্যমকর্মীরা যা দেখে তা ই লিখে,সাংবাদিকরা আপোষহীন তারা কারও তাবেদারি করে না,ঘটনার ভেতরের সত্য ঘটনা জাতির সামনে তুলে ধরাই তাদের মূলকাজ।
কে শুনে কার কথা,কে বুঝবে সাংবাদিকদের ব্যাথা,সংবাদকর্মীরা যদি মাঠে নেমে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তথ্য সংগ্রহ না করেন, যদি সংবাদপত্র ও গণমাধ্যমে তা প্রকাশ না হয়—তাহলে এক জেলা থেকে আরেক জেলায় কী ঘটছে, দেশের কোথায় কী অনিয়ম হচ্ছে, তা জানার কোনো সুযোগই থাকবে না। গণমাধ্যমই জনগণের চোখ ও কণ্ঠস্বর এবং আয়না।
অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, গোয়েন্দা সংস্থা বা সিআইডির আগেই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সাংবাদিকদের হাতে আসে। কারণ সাংবাদিকরা রাষ্ট্রের চাকরির নিরাপত্তা ছাড়াই, কোনো অস্ত্র বা ক্ষমতা ছাড়াই, কেবল দায়িত্ববোধ নিয়ে সত্য তুলে ধরেন। এই কাজ করতে গিয়ে সাংবাদিকরা প্রতিনিয়ত হুমকি, হামলা,মিথ্যা মামলা ও মৃত্যুর ঝুঁকির মুখে পড়ছেন।
তবু প্রশ্ন থেকে যায়—এই মানুষগুলোর নিরাপত্তা কে দেবে?
সংবিধান অনুযায়ী নাগরিকের জানমাল রক্ষা করা সরকারের মৌলিক দায়িত্ব। সেখানে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের আরও বড় দায়িত্ব, কারণ তারা শুধু নিজের জন্য নয়—সমগ্র দেশ,মা মাটি মানুষ এবং সমাজের জন্য কাজ করেন।
সাংবাদিক নির্যাতনের বিচার দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক না হলে ভয় তৈরি হবে, সত্য চাপা পড়বে, আর ক্ষতিগ্রস্ত হবে গণতন্ত্র। এখনই সময়—গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধ করা এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার পক্ষে দৃঢ় রাষ্ট্রীয় অবস্থান গ্রহণ করার।