হাবিবুর রহমান সুজন।
শীতের কনকনে ঠান্ডায় যখন শহরের রাস্তাগুলো নীরব, তখন ফুটপাতে পড়ে থাকা অসহায় মানুষগুলো নিঃশব্দে সহ্য করে চলে জীবনের নির্মম বাস্তবতা। এমনই এক শীতার্ত রাতে রাস্তায় পড়ে থাকা এক মানসিক ভারসাম্যহীন অসহায় মানুষ কাঁপছিল শীতে—নেই মাথার উপর ছাদ, নেই শরীর ঢাকার মতো পর্যাপ্ত কাপড়। ঠিক সেই সময় মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন সমাজসেবী মো: শফিক।
শীতের কাপড় হাতে এগিয়ে গিয়ে তিনি সেই অসহায় মানুষটির শরীরে পরিয়ে দেন উষ্ণ পোশাক। হয়তো একটি শীতের কাপড় অনেকের কাছে সামান্য বিষয়, কিন্তু সেই মানুষটির কাছে সেটাই ছিল শীতের রাতে উষ্ণতার একমাত্র ভরসা, বেঁচে থাকার একটি অবলম্বন।
মো: শফিক বলেন,
“মানুষ হয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই আমাদের আসল দায়িত্ব। শীত কাউকে বেছে নেয় না—ধনী-গরিব, সুস্থ-অসুস্থ সবাইকেই সমানভাবে কষ্ট দেয়। সামান্য সহযোগিতায় যদি কারও কষ্ট কিছুটা কমানো যায়, সেটাই বড় প্রাপ্তি।”
স্থানীয়রা জানান, মো: শফিক দীর্ঘদিন ধরেই মানবিক কাজে যুক্ত। শীতবস্ত্র বিতরণ, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, বিপদে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া—এসব কাজে তিনি নীরবে কাজ করে যাচ্ছেন। প্রচারের আলো নয়, বরং মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই তাঁর মূল লক্ষ্য।
বিশেষ করে শীতকালে রাস্তায় থাকা মানসিক ভারসাম্যহীন ও ভবঘুরে মানুষগুলো সবচেয়ে বেশি অবহেলার শিকার হয়। সমাজের অনেকেই তাদের পাশ কাটিয়ে যায়, কিন্তু মো: শফিক প্রমাণ করেছেন—মানবিকতা এখনো বেঁচে আছে।
এই উদ্যোগ সমাজের সকল শ্রেণির মানুষের জন্য একটি শক্ত বার্তা বহন করে—মানবিক হতে বড় কিছু লাগে না, লাগে শুধু একটু সহানুভূতি আর দায়িত্ববোধ। শীতের উষ্ণতায় মো: শফিকের এই মানবিক কাজ নিঃসন্দেহে অন্যদেরও অনুপ্রাণিত করবে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে।
শীতের এই সময়ে, এমন মানবিক উদ্যোগই পারে সমাজকে আরও সুন্দর ও মানবিক করে তুলতে।
শীতের উষ্ণতায় মানবিক কাজ—সবসময়।
— সংবাদ এই সময়