1. news@sangbadeisomoy.com : সংবাদ এই সময় : সংবাদ এই সময়
  2. info@www.sangbadeisomoy.com : সংবাদ এইসময় :
সেফটি পিনের পেছনের ছিদ্রের কাজ কী? - সংবাদ এইসময়
সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ০৯:২৪ অপরাহ্ন

সেফটি পিনের পেছনের ছিদ্রের কাজ কী?

  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারি, ২০২৬
  • ৪১ বার পড়া হয়েছে

লাইফস্টাইল ডেস্ক

সেফটিপিন। ছবি: সংগৃহীত

দৈনন্দিন জীবনে অনেক জিনিস আছে যেগুলির ব্যবহার আমরা অভ্যাসবশত করি, কিন্তু তাদের নকশার পেছনের কারণ নিয়ে খুব একটা ভাবি না। সেফটি পিন তেমনই এক প্রয়োজনীয় বস্তু। শাড়ির আঁচল, সালোয়ার কামিজ়ের ওড়না, বোতাম ছেড়া জামা, জুতোর ছিঁড়ে যাওয়া স্ট্র্যাপ কিংবা চেন কেটে যাওয়া ব্যাগ— এমন কোনো বিপদ নেই, যেখানে সেফটিপিন ‘সেফ’ করতে হাজির হয় না। তাই মা-ঠাকুমাদের কাছে সেফটি পিন শুধু একটি জিনিস নয়, বরং ভরসার প্রতীক। মেকাপ বক্স, ড্রেসিং টেবিল, হার, চুড়ি, কিংবা জামার কোণায় তাকে ঝুলতে দেখা যায়, যাতে বিপদের সময় হাতের কাছেই পাওয়া যায়।

কিন্তু খেয়াল করে দেখেছেন কি সেফটি পিনের একেবারে শেষপ্রান্তে ছোট লুপের মতো একটি গোল ছিদ্র থাকে? খেয়াল করলেও অনেকেই ছোট এই ছিদ্রটির কাজ জানেন না। আসলে এই ছোট ছিদ্রটির পেছনে রয়েছে চমৎকার ইতিহাস ও নিখুঁত ব্যবহারিক যুক্তি। চলুন, জেনে নেওয়া যাক এর আদ্যোপান্ত।

প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে আমাদের ফিরে যেতে হবে উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে। সেই সময়ে আমেরিকার এক উদ্ভাবক, ওয়াল্টার হান্ট, নিজের ঘরে বসেই একটি মাত্র ধাতব তার ব্যবহার করে আজকের সেফটি পিনের আদল তৈরি করেন। আশ্চর্যের বিষয়, তাঁর দেখানো কৌশল অনুসরণ করেই আজও প্রায় একই রকম নকশায় সেফটি পিন তৈরি হয়ে চলেছে।

ওয়াল্টার হান্ট একটি ধাতব তারকে বাকিয়ে কুণ্ডলীকৃত করে পিনের আকার দেন। এই প্রক্রিয়ায় উপরের দিকে একটি ছোট ক্লিপ তৈরি হয়, যেখানে পিনের ধারালো মুখটি নিরাপদে আটকানো থাকে। কিন্তু ক্লিপের মাথায় এসে তিনি তারটিকে কেটে না দিয়ে গোল করে পাকিয়ে দেন। এই পাকানো অংশ থেকেই তৈরি হয় সেই ছোট ছিদ্রটি। এর মূল কারণ ছিল নিরাপত্তা। যদি তারটি কেটে যায়, তাহলে মুখটি ধারালো হয়ে থাকত। তাতে অসাবধানতাবশত হাতে খোঁচা লাগতে পারত, এমনকি কাপড় ছিঁড়ে যাওয়ার আশঙ্কাও থাকত।

শুধু নিরাপত্তাই নয়, ব্যবহারিক দিক থেকেও এই ছিদ্রটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সেফটি পিন দিয়ে যখন কোনো কিছু আটকানো হলে বেশির ভাগ চাপ পড়ে ক্লিপের অংশে। গোল ছিদ্রটি সেই চাপকে চারদিকে সমানভাবে ছড়িয়ে দেয়। ফলে অতিরিক্ত টান বা চাপ পড়লেও পিনটি সহজে বেঁকে যায় না কিংবা ভেঙে পড়ে না। এই ছোট্ট নকশাগত বুদ্ধিই সেফটিপিনকে করে তুলেছে টেকসই ও নির্ভরযোগ্য।

প্রায় দেড় শতাব্দী পেরিয়ে গেলেও সেফটি পিনের নকশায় বড় কোনো পরিবর্তনের আসেনি। যে সব জিনিস মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে মিশে যায় এবং কার্যকারিতার দিক থেকে প্রায় নিখুঁত, সেগুলির নকশা অকারণে বদলানো উচিত নয় বলে মনে করেন উদ্ভাবনী বিশেষজ্ঞরা। সেফটি পিন তারই উৎকৃষ্ট উদাহরণ। এতদিন ধরে একই নকশায় টিকে থাকা এই ছোট্ট যন্ত্রটি প্রমাণ করে— কখনও কখনও সবচেয়ে সাধারণ জিনিসের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে সবচেয়ে বুদ্ধিদীপ্ত চিন্তা।

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট