জীবনযাপন ডেস্ক
সংগৃহীত ছবি
বাড়িতে ছোট সন্তান আছে, এমন মায়েদের নিত্যদিনের একটি কাজ হচ্ছে সকালে তাড়াহুড়া করে বাচ্চার স্কুলের টিফিন গুছিয়ে দেওয়া। মায়েরা অনেকেই খেয়াল করেন না, যে পাত্রে খাবার দিচ্ছেন সেটি কি আদৌ নিরাপদ কি না।
আপনার অজান্তেই হয়তো সন্তানের শরীরে ঢুকছে বিষ। চিকিৎসকদের মতে, ক্ষতিকর উপাদানে তৈরি টিফিন বক্স ক্যান্সার থেকে হরমোনজনিত সমস্যার অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
বাজারে সস্তা ও বাহারি রঙের প্লাস্টিক টিফিন বক্সের ছড়াছড়ি। কিন্তু গরম খাবার প্লাস্টিকে রাখলে তৈরি হয় ‘লিচিং’ প্রক্রিয়া। এর ফলে প্লাস্টিকের বিসফেনলে (বিপিএ) এবং থ্যালেটসের মতো ক্ষতিকর রাসায়নিক খাবারের সঙ্গে মিশে যায়।
নিয়মিত এই ধরনের পাত্রে খাবার খেলে শিশুদের ওজন বৃদ্ধি, থাইরয়েড সমস্যা এবং দীর্ঘমেয়াদি ক্ষেত্রে কার্সিনোজেনিক প্রভাব বা ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে।
এমনকি ‘বিপিএ ফ্রি’ লেখা থাকলেও প্লাস্টিক এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ।
বিকল্প কী
স্টেইনলেস স্টিল : সবচেয়ে নিরাপদ বিকল্প। এটি কোনো রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটায় না। পরিষ্কার করা সহজ এবং টেকসই।
তবে খেয়াল রাখতে হবে তা যেন ভালো মানের ‘ফুড-গ্রেড’ স্টিল হয়।
কাচ : এটি রাসায়নিকমুক্ত এবং খাবারের স্বাদ অটুট রাখে। তবে শিশুদের জন্য এটি ভারী এবং ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। বড়দের বা অফিসযাত্রীদের জন্য এটি চমৎকার।
তামা বা পিতল : পিতলের পাত্রে ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধী ক্ষমতা থাকে।
তবে এতে টক বা এসিডিক খাবার (যেমন লেবু বা টমেটো) রাখা বিপজ্জনক। এর ফলে ‘মেটাল পয়জনিং’ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
কী বলছেন বিশেষজ্ঞ
পুষ্টিবিদ ও চিকিৎসকদের মতে, টিফিন বক্স কেনার সময় এয়ার-টাইট এবং লিক-প্রুফ ফিচারের দিকে নজর দিন। প্লাস্টিকের পরিবর্তে স্টিল বা সিলিকন কন্টেইনার বেছে নিন। কাচ বা স্টিল ব্যবহারের ফলে খাবারের পুষ্টিগুণ অটুট থাকে। খাবারও ভালো থাকে দীর্ঘক্ষণ।
আপনার ছোট্ট একটি সিদ্ধান্ত সন্তানকে সুস্থ রাখবে। আজই পরিবর্তন করুন পুরনো টিফিন বক্স। সুরক্ষিত রাখুন আপনার পরিবারকে।