জিহাদুল ইসলাম জিহাদ ঢাকা।
বাঞ্ছারামপুরে ইংরেজী শিক্ষার এক দিকপাল শিক্ষক জামাল হোসেন। শুরুটা সেই ১৯৯৪ সালে রূপসদী বৃন্দাবন উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে। সেই থেকে ইংরেজির বুনিয়াদী শিক্ষায় এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছেন জামাল হোসেন। টেনসের প্রকার থেকে শুরু, ইংরেজি শেখার সহজ টেকনিকের এক আবিষ্কারক হিসেবে কাজ করেছেন।
তার এমন চেষ্টায় দূর হয়েছে হাজারো ছাত্রের ইংরেজি ভীতি! সহজেই আয়ত্ত করেছেন গ্রামারের নানান দিক। হয়ে উঠেছেন হাজারো শিক্ষার্থীর দিশারী।
সেই জামাল হোসেন এবার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন।
শিক্ষা সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষ্যে এ বছর বাঞ্ছারামপুর উপজেলার শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন। তার এই অজর্নে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা।
এই মহান শিক্ষক এখন তেজখালী ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন।
জামাল হোসেন ১৯৯৪ সালে রূপসদী বৃন্দাবন উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী ইংরেজী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করে প্রায় ১৭ বছর শিক্ষকতা করে- ২০১০ সালে খাল্লা উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। সেখানে তিনি ১৩ বছর চাকরিরত ছিলেন। ২০২৩ সালে তেজখালী ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করে বর্তমানেও সেখানে চাকরিরত আছেন।
শিক্ষক জামাল হোসেনের ক্যারিয়ার:
জামাল হোসেন ১৯৮৮ সালে সরকারি তিতুমীর কলেজে পড়াশোনা করেন। সেখানে ছাত্রঅবস্থায় বিএনসিসি (বিমান শাখার) একজন ক্যাডেট হিসেবে জাতীয় প্যারেডে অংশগ্রহণ করে (ক্যাডেট কর্পোরাল ) পদ লাভ করেন। ২০০৬ সালে পেশগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে ইংরেজী প্রশিক্ষনে (ELTIP ফেইস-3) প্রথম স্থান অর্জন করেন। বৃন্দাবন উচ্চ বিদ্যালয় ও খাল্লা উচ্চ বিদ্যালয়ে চাকুরীকালীন ইংরেজীতে উপস্থাপনা চালু করেন- যা বর্তমানেও চালু আছে।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কবিতা আবৃত্তি, বির্তক প্রতিযোগীতা, খেলাধুলার প্রশিক্ষক হিসেবে অবদান রেখেছেন।
জামাল হোসেন প্রায়ই আক্ষেপ করে বলেন ১৯৯৪ সালের দিকে বিষয় ভিত্তিক ইংরেজি শিক্ষক ছিল না বললেই চলে । বর্তমানে এই উপজেলার প্রায় সকল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ইংরেজীতে (অনার্স) সহ যোগ্য ইংরেজী শিক্ষক NTRCA এর মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত হচ্ছেন। তিনি আশা করেন এই উপজেলায় সকল ইংরেজি শিক্ষক মিলেমিশে একটি English Language Club শুরু করবেন যাতে করে শিক্ষার্থীরা অনুপ্রাণিত হতে পারে।
জামাল হোসেন বলেন পুরষ্কার বড় বিষয় নয়, শিক্ষার্থীদের মধ্যে বেচেঁ থাকাই গৌরবের।